কুকের জেতার নেশায় ধোনি দিশাহারা

Update: January 11, 2013 22:13 IST

ইংল্যান্ড- ৩২৫/৪
ভারত- ৩১৬/৯
ইংল্যান্ড ৯ রানে জিতল

ব্রিটিশ আগ্রাসন অব্যহত। ৩২৫ রান তাড়া করতে গিয়ে ভারতের দুই ওপেনার রাহানে ও গম্ভীর মজবুত পার্টনারশিপ দিয়ে গেলেন। যুবরাজ ১১৩ রানের কাছাকাছি স্ট্রাইক রেট রেখে ৬১ রানের দুর্দান্ত একটা ইনিংস উপহার দিলেন। তাও ব্রিটিশ সম্রাজ্যের কালো ছায়া ঘোচাতে পারলেন না ধোনিবাহিনী। ইংরেজদের কাছে ধারাবাহিক পরজয় দেখে হয়ত এমনই মনে হবে ইংরেজরা এলেন, দেখলেন আর জয় করলেন। আর জেতার জন্য মাহি এখনও স্বপ্নের জাল বুনছেন!

মহেন্দ্র সিং ধোনির `বদলা`র স্বপ্ন অনেকদিন আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন তিনি সিংহাসন বাঁচানোর জন্য মরিয়া। এর জন্যই হয়ত তাঁর ম্যাচ পরিকল্পনা আরও মজবুত করবেন। হয়ত টিম সিলেকশনে আরও কমপ্যাক্ট হবে। এবার হয়ত ইংরেজদের কাছে ধরাশায়ী আর দেবেন না। এরকম ধোনির অনেক `হয়তো` রাজকোটের মাঠে আজ সফল হল না। না হলে ইশান্ত শর্মা ১০ ওভারে ৮৬ রান দেয়! তাও আবার কোনও উইকেট না নিয়েই। ভারতীয় বোলারদের চরম অপদার্থতার কারণেই হয়ত ধোনির সিংহসনের পায়া একটু নড়ে উঠল আজ।

ভারতের দুই ওপেনার রাহানে আর গম্ভীর অনেকদিন পর একটা ভালো পার্টনারশিপ দিয়ে গেলেন। আজিঙ্কা রাহানে ৫৭ বলে রান করেন। গম্ভীর করেন ৫২ রান। বিরাট কোহেলি আজ তেমন কিছু না করতে পারলেও যুবরাজ আর রায়না লড়াইয়ের জায়গাটা মজবুত করে গিয়েছিলেন। যুবরাজ সিং ৬১ রান করেন। রায়নাও অর্ধশতরান করেন। তবুও ম্যাচের হাল ফিরল না। ধোনির ঝোড়ো ৩২ রানের ইনিংসও নৌকা তীড়ে ভিরলো না।

এর আগে নির্ধারিত ৫০ ওভারে কুক বাহিনী মাত্র ৪ উইকেট খুইয়ে ৩২৫ রান করল। ওপেনিং জুটিতে ক্যাপ্টেন কুক আর বেল ইংল্যান্ডের ইনিংসের ভিত তৈরি করে দিয়ে যান। রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েসনের স্টেডিয়ামে পাটা উইকেটে গোড়া থেকেই বড় রানের ইঙ্গিত ছিল। সেই ইঙ্গিত চিনতে ভুল করেননি কুকরা। পিচ এবং ভারতীয় বোলারদের খারাপ বোলিং-এর ধারাবাহিকতাকে সম্পূর্ণ কাজে লাগিয়ে প্রথম উইকেটে খেলে ১৫৮ রান তোলেন। এরপর বেল ব্যক্তিগত ৮৫ রানে রানআউট হয়ে গেলেও ব্রিটিশদের রানের গতি থমকে যায়নি। পিটেরসনের সঙ্গে জুড়ি বেঁধে কুক দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। রায়নায় বলে আউট হয়ে ব্যাক্তিগত ৭৫ রানের মাথায় যখন কুক প্যাভিলিয়ন মুখে দলের স্কোর তখন ৩১ ওভারে ১৭২। এরপর পিটেরসন ৪৪ ও মর্গ্যান ৪১ রান করে আউট হন। এরপর সমিত পাটেল ও কিওয়েসটারের মধ্যে অসাধারণ পার্টনারশিপের দৌলতে ব্রিটিশরা ৩০০ রানের গণ্ডি সহজেই পেরিয়ে যান। পাটেল ২০ বলে ৪৪ ঝোড়ো রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। ভারতের হয়ে অশোক দিন্দা ২টি ও সুরেশ রায়না একটি উইকেট পেয়েছেন।

আজিঙ্কা রাহানে- ৪৭
গৌতম গম্ভীর- ৫২
বিরাট কোহলি- ১৫
যুবরাজ সিং- ৬১
সুরেশ রায়না- ৫০
এমএস ধোনি- ৩২
রবীন্দ্র জাদেজা- ৭
আর অশ্বিন- ১৩
ভুবনেশ্বর কুমার- ২০ (ন.আ.)
অশোক দিন্দা- ৩
ইশান্ত শর্মা- ৭ (ন.আ.)

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।