বদলার শুরু, মোতেরাকে লর্ডস বানিয়ে ভারত জয়ী ৯ উইকেটে

Update: November 19, 2012 11:08 IST

ভারত: ৫২১/৮ (ডি:), । ইংল্যান্ড: ১৯১, ৪০৬
সব উত্‍কণ্ঠাকে দূরে সরিয়ে রেখে মোতারা টেস্ট ৯ উইকেটে জিতে নিল ভারত। সেই সঙ্গে বদলার সিরিজের প্রথম ধাপটা চড়ে ফেললেন মহেন্দ্র সিং ধোনিরা। গত বছর বিলেতে ইংল্যান্ডের কাছে ০-৪ হারের বদলা নিতে নেমে এই সিরিজ খেলতে নামা ভারত ঘরের মাঠে সিরিজটা শুরু করল দারুণ। গত বছর কুকরা ঘরের মাটিতে ধোনিদের বিরুদ্ধে ৪-০ জেতার শুরু করেছিলেন লর্ডস দিয়ে। সেই সিরিজে ভারতের বিরুদ্ধে লর্ডসে ইংল্যান্ড জিতেছিল ১৯৬ রানে। আর বদলার সিরিজের প্রথম টেস্ট মোতেরায় ভারতের জয় এল ৯ উইকেটে। আর এই জয়ের পিছনে নায়ক প্রজ্ঞান ওঝা। দু'ইনিংস মিলিয়ে ওঝার শিকার ৯ উইকেট। আর অবশ্যই দ্বিশতরান করা পুজারা, আর শতরান করা সেওয়াগ।

ইংল্যান্ডকে ৪০৬ রানে অলআউট করে দেওয়ার পর ভারতের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৭৭ রান। গম্ভীরের অনুপস্থিতে সেওয়াগের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে মাতিয়ে দিলেন চেতেশ্বর পুজারা। সেওয়াগ-পুজারা যে ঢঙে খেলছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল দশ উইকেটে জয় আসবে। বদলার সিরিজে শুরুর জয়টা দশ উইকেটে এলে যা পিকচার পারফেক্ট হত। কিন্তু জয় থেকে মাত্র ২৩ রান দূরে সেওয়াগ আউট হয়ে যাওয়ায় সেটা হল না। তবে এতে জয়ের মাহাত্ম্য কিছু কমছে না। কারণ দ্রাবিড়, লক্ষ্মণের অবসরের পর টেস্টে এটাই ভারতের সবচেয়ে তাত্‍পর্যের জয় হয়ে থাকল।

অনেক দিন আসে যেদিন কঠিন কাজটা কেমন যেন সহজ হয়ে যায়। আবার কোনও দিন থাকে যেদিন সহজ কাজটাও কঠিন হয়ে যায়। ম্যাচের শেষদিনটায় প্রথমটা হল। যে কাজটা খুব কঠিন মনে হচ্ছিল সেটাই কেমন যেন সহজ হয়ে গেল। আর এই সহজ কাজটা হল এক বাঁহাতি জাদুগরের সৌজন্যে। অশ্বিনের মত প্রচার না পেলেও নিজের কাজটা নিঃশব্দ করে যাওয়া প্রজ্ঞান ওঝা আবার নিজের জাত প্রমাণ করলেন। প্রথমে দারুণ একটা ডেলিভারিতে প্রায়রকে (৯১) ফিরিয়ে দিয়ে মোক্ষম আঘাত দিলেন ওঝা। চতুর্থ দিনে এই প্রায়রকে দেখেই মনে হচ্ছিল তাঁকে আউট করা যাবে না। সেই প্রায়রকে ফাঁদে ফেললেন ওঝা। কিন্তু তখনও তো জয়ের আর পরজায়ের মাঝে পাঁচিল হয়ে দাঁড়িয়ে কুক। তবে আজ দিনটা ওঝার। তাই কুকের ভূত তাড়াতে ওঝা হাত থেকে বেরিয়ে এল 'মারণ অস্ত্র'। কুকের (১৭৬) মহাকাব্যিক ইনিংসের শেষটা হল করুণ। মাথা নীচু করে যখন কুক ফিরছেন, তখন তাঁকে ঠিক ট্রাজিক নায়ক মনে হচ্ছিল। এরপর শেষটা হতে খুব দেরি হল না। ব্রেসনান কিছুটা প্রতিরোধ করলেন বটে তবে বদলার আবহে সব প্রতিরোধ ভেঙে গেল।

কোহলির ব্যাটে উইনিং স্ট্রোকটা আসতেই টিভি ক্যামেরায় ধোনির মুখটা ধরা হল। মুখের ভাষাটাতে পরিষ্কার বলে দিল পিকচার আওভি শুরু হুয়া.. এখনও বদলা অনেক দূরে। উঠতে হবে তিনটে সিড়ি। মুম্বই, কলকাতা, তারপর নাগপুর। যাক গে আজ তো ধোনি হাসতেই পারেন। ঘুড়ির রাজ্যে বদলার স্বপ্নের লাটাই তো খোলা গেল!      






Post Your Comment

Total Comments:3

come on india we want revenge. we want 4-0

ki darun lekha! monai hoche na eta video noi lekha. sabash dhoni r 24ghanta.com

sabash india, congratulation

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।