অলিম্পিকে ভারতের পদকজয়ীরা

Update: July 22, 2012 23:25 IST

অলিম্পিকে এতদিন পর্যন্ত কুড়িটি পদক জিতেছে ভারত। পদকজয়ী অলিম্পিয়ানরা ছাড়াও এমন কয়েকজন অলিম্পিয়ান আছেন, যাঁরা একটুর জন্য হাতছাড়া করেছেন পদক।

ভারতের পদকজয়ীরাঃ
 
নর্ম্যান প্রিচার্ড
 
অলিম্পিক ইতিহাসে ভারতের হয়ে প্রথম পদক জেতেন ব্রিটিশ শাসিত ভারতের প্রতিনিধি নর্ম্যান প্রিচার্ড। জন্মগত ভাবে ব্রিটিশ প্রিচার্ড ১৯০০ সালে প্যারিস অলিম্পিকে ২০০ মিটার হার্ডলস ও ২০০ মিটার ড্যাশে ২ টি রুপো জেতেন। সেটাই অলিম্পিকে ভারতের প্রথম পদক। তবে পরবর্তীতে ব্রিটিশ প্রিচার্ডের হাত ধরে পদক জয় নিয়ে রয়েছে বিতর্ক।
 
কেডি যাদব
 
স্বাধীন ভারতের হয়ে প্রথম পদকজীয় নাম কাসাবা দাদাসাহেব যাদব। সংক্ষেপে কেডি যাদব। ১৯৪৮ অলিম্পিকে বন্ধুদের থেকে অর্থ সাহায্য নিয়ে অলিম্পিকে যান কেডি যাদব। ১৯৫২ হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে কুস্তিতে ভারতকে ব্রোঞ্জ এনে দেন তিনি। তারিখটা ছিল ২৩ জুলাই। তাঁর নামে নয়াদিল্লিতে রয়েছে একটি কুস্তি স্টেডিয়ামও।
 
লিয়েন্ডার পেজ
 
চার দশকের অপেক্ষা শেষে ১৯৯৬ সালে অলিম্পিকে পদক আসে লিয়েন্ডার পেজের হাত ধরে। কলকাতার ছেলে লিয়েন্ডার দারুন পারফর্ম করলেও ফাইনালে ওঠা হয়নি। সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন আন্দ্রে আগাসি। শেষপর্যন্ত ব্রোঞ্জ পদক জেতেন লিয়েন্ডার।
 
কর্নম মালেশ্বরী
 
প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে পদক জেতেন কর্নম মালেশ্বরী। ২০০০ সালে সিডনি অলিম্পিকে পদক জেতেন তিনি। অন্ধ্রপ্রদেশের মালেশ্বরী ভারোত্তোলনে মহিলাদের উনসত্তর বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি।
রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর
 
শুরু হয়ে যায় ভারতের পদক জয়ের সিরিজ। এথেন্স অলিম্পিকে রুপো জিতলেন রাজস্থানের ভারতীয় সেনার সদস্য রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর। পুরুষদের ডাবল ট্র্যাপ ইভেন্টে রুপো জেতেন তিনি।
 
অভিনব বিন্দ্রা
 
গত অলিম্পিকে প্রথম ভারতীয় হিসেবে ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জয়ের কীর্তি গড়েন শুটার অভিনব বিন্দ্রা। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল বিভাগে সোনা জিতে শুটার অভিনব ভারতীয় ক্রীড়াকে পৌঁছে দেন অন্য উচ্চতায়।
 
বিজেন্দ্র সিং
 
প্রথম ভারতীয় বক্সার হিসেবে গত অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জেতেন বিজেন্দ্র সিং। হরিয়ানাপুত্র বিজেন্দ্র ইকুয়েডরের কার্লোস গনগোরাকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন বিজেন্দ্র সিং।
 
সুশীলকুমার
 
কেডি যাদবের পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে কুস্তিতে পদক জেতেন সুশীলকুমার।গত বেজিং অলিম্পিকে কুস্তিতে পদক জেতেন তিনি।কাজাকাস্তানের স্পিরিডোনোভের বিরুদ্ধে তিন-এক ফলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জয় করেন তিনি।
 
ভারতীয় হকি দল
 
অলিম্পিকে আটবার সোনা জিতেছে ভারতের হকি দল। একবার রুপো ও দুবার ব্রোঞ্জ জিতেছে ভারত। প্রথমবার ১৯২৮ আমস্টারডাম অলিম্পিকে সোনা জেতে ভারত। তারপর টানা ৬ বার ১৯৫৬ অলিম্পিক পর্যন্ত হকিতে সোনা জয় করে ভারতীয় দল। এরমধ্যে ধ্যানচাঁদের হাত ধরে ১৯৩৬ অলিম্পিকে হিটলারের দেশে সোনা জেতে ভারতীয় হকি দল। ১৯৮০তে মস্কো অলিম্পিকে শেষবার পদক জেতে ভারত। সবচেয়ে বেশি এগারোবার হকিতেই পদক জিতেছে ভারত।
 

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।