নেইমার ছন্দে সাম্বার দেশ শেষ চারে, `সুমো ম্যাচ`জিতে ইতালিও সেমিতে

Last Updated: Thursday, June 20, 2013 - 09:39

ব্রাজিল (২) মেক্সিকো (০)।। ইতালি (৪) জাপান (৩)
(নেইমার, জো)
ফিফা র‌্যাঙ্কিং যদি বিচার্য বিষয় হয় তাহলে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকে শুরু করেছিল ফুটবলের দেশ ব্রাজিল। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরু হতে সব সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়ে মেক্সিকোকে ২-০ গোলে হারিয় দিল ব্রাজিল। এই জয়ের ফলে পরপর দুটো ম্যাট দিতে কনফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল লুই ফিলিপ স্কোলারির দল। অন্যদিকে, এশিয়ার জায়েন্ট জাপানের বিরুদ্ধে নাটকীয়ভাবে ম্যাচ দিতে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইটালিও।
বিশ্ব ফুটবলে এখন রাজ মেসি, রোনাল্ডো, আর ইনিয়েস্তার। নেইমার এখনও সেই দুনিয়া থেকে দূরে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বলছেন আগামী কয়েকটা বছর বিশ্ব ফুটবলে রাজ করবেন ব্রাজিলের নেইমারই। মেসির ক্লাব বার্সেলোনাও হীরে চিনতে ভুল না করে ব্রাজিলের ২১ বছরের এই স্ট্রাইকারকে দলে নিয়েছে। কিংবদন্তি পেলেও বলছেন পরিশ্রম করলে মেসিকেও ছাপিয়ে যেতে পারেন নেইমার। সেই নেইমার এবার কনফেডারেশন কাপে তারকা হয়ে উঠছেন।
জাপানের বিরুদ্ধে চোখধাঁধানো গোল করা পর বুধবার রাতে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দারুণ খেললেন ব্রাজিলের দশ নম্বর জার্সি পরা এই ফুটবলার। সেই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন আগামি বছর তাঁর দেশের মাটিতে হতে চলবা বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি নায়ক হতে প্রস্তুত। রোমারিও, রোনাল্ডো, রোনাল্ডিনহো, কাকার পর ব্রাজিলে এবার নেইমার যুগের প্রতীক্ষা।
ম্যাচের ৯ মিনিটে নেইমারের গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তরবে এরপর ব্রাজিলের খেলায় দৃষ্টিনন্দনীয় কিছু ছিল না। কতগুলো বছর ধরে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ফুটবলবিশ্বের যে অভিযোগ সেটা এই ম্যাচটাতেও রয়ে গেল। ব্রাজিল মানে তো আর শুধু জয় নয়, ব্রাজিল মানে শিল্প, ব্রাজিল মানে শিল্প, আর অনাবিল আনন্দ। ব্রাজিলের ফুটবল প্রকৃতির মতই স্বাভাবিক সুন্দর। এই কথাগুলো বিশ্বের বিভিন্নপ্রান্তের লোক একসুরে বিশ্বাস করে। কিন্তু ইদানিং আর তাই নেই। সেটা এই ম্যাচেও প্রমাণ হল। মেক্সিকোর দুই স্ট্রাইকার অন্তত তিনটে সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে কি হত বলা মুশকিল। তবে স্কোলারির দলের ছেলেরাও বেশ কয়েকটা সুযোগ নষ্ট করে। ম্যাচের একেবারে শেষে জো-এর গোলে ব্যবধান বাড়ে। গ্রুপ লিগে ব্রাজিলের শেষ ম্যাচ ইটালির বিরুদ্ধে। এই ম্যাচে যারা জিতবে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ চারে যাবে।
বুধবার রাতের অন্য ম্যাচটা ছিল নাটকীয়তায় ভরা। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সুপার পাওয়ার দেশ ইটালির বিরুদ্ধে যেভাবে সমানে সমানে টক্কর দিল জাপান তাতে একটা কথা পরিষ্কার। এবার থেকে শুধু ইউরোপ, লাতিন আমেরিকার বাইরে শুধু আফ্রিকা নয় এশিয়ার দেশগুলোকেও নিয়েও সুপার পাওয়ার দেশরা চিন্তায় বসবে।
ইটালির বিরুদ্ধে ম্যাচের ৩৩ মিনিটের মধ্য ২-০ গোলে এগিয়ে গেছিল জাপান। প্রথমে ম্যাচের ২১ মিনিটে হোন্ডার পেনাল্টি গোল, তারপর ৩৩ মিনিটে কাগওয়ার গোল ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। বিরতির মিনিট পাঁচেক আগে দি রোসির গোলে ব্যবধান কমায় ইটালি।
বিরতির পর আজুরুদের ঝড় শুরু হল। ম্যাচের ৫০ মিনিটে জাপানের উচিদার আত্মঘাতী গোল দিয়ে নীল অভিযান শুরু। দু মিনিট বাদেই পেনাল্টি বালোতেলির গোলে ম্যাচে প্রথমবার লিড নেয় ইটালি। এরপরও ম্যাচে ফিরে আসে জাপান। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে ওকাজাকির গোল ম্যাচের ফলাফল ৩-৩ করে দেয়।
টানটান ম্যাচের নাটকের একেবারে শেষের দিকে ইটালির জিওভিনকোর গোল আজুরিদের দারুণ জয় এনে দেয়। এই ম্যাচ হারায় জাপান এবারের কনফেডারেশন কাপ থেকে বিদায় নিল। তবে ব্রাজিলের দেশে জাপান শাঁক বাজিয়ে গেল, তোমরা তৈরি থাকো আমরা আবার ফিরে আসছি।



First Published: Thursday, June 20, 2013 - 12:10


comments powered by Disqus