সোনা অধরা, ব্রোঞ্জ জিতে মালেশ্বরীর সঙ্গে ইতিহাসের পাতায় মেরি

Update: August 8, 2012 19:06 IST

সোনার দৌড় থেমে গেল মেরি কমের। লন্ডন অলিম্পিকে মহিলাদের বক্সিংয়ে ৫১ কেজি বিভাগে সেমিফাইনালে ব্রিটেনের নিকোলা অ্যাডামসের কাছে হেরে গেলেন ভারতীয় মহিলা বক্সার। লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন তিনি। অলিম্পিকে এই বারই চালু হয়েছে মহিলাদের বক্সিং ইভেন্টে। আর প্রথম বারেই বিজয়ী তালিকায় নাম তুলে ইতিহাসের পাতায় ঢুকে গেলেন মেরি। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকেও এই একই ইতিহাস গড়েছিলেন কর্ণম মালেশ্বরী। সেবারও প্রথম বার অলিম্পিকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল মহিলাদের ভারত্তোলন ইভেন্ট। প্রথম বারেই ব্রোঞ্জ জিতে আগেই ইতিহাস গড়েছিলেন মালেশ্বরী। এবার সেই একই বন্ধনীতে ঢুকে পড়লেন মেরি কম।

প্রথম রাউন্ড থেকেই ম্যাচের দখল নিয়েছিলেন বিশ্বের দুনম্বর বাছাই নিকোলা অ্যাডামস। ৪ টি রাউন্ডেই পয়েন্টে এগিয়ে থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬-১১ পয়েন্টে ম্যাচ হেরে যান ওই মণিপুরি কন্যা। আর মাত্র একধাপ এগোলেই সামনে ছিল অলিম্পিকের সোনা জয়ের লড়াই। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে মেরি কমের সেই জয়ের স্বপ্নেই বিভোর ছিল গোটা দেশ। কিন্তু শেষপর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গ। সেমি ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হল ভারতের মেরি কমকে। চলতি বছরের মে মাসেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে এই নিকোলার কাছেই হেরে গিয়েছিলেন তিনি।

এক সময় বাড়িতে কেউ জানতেন না তিনি বক্সার। একবার সংবাদপত্রে ছবি বেড়োনোর পর মা বাবা জানতে পারেন তাঁদের মেয়ে মেরিকম একজন বক্সার। ইম্ফলের প্রত্যন্ত গ্রাম কাংথেই থেকে লন্ডন অলিম্পিক উত্থান সংগ্রামী মেরির। যমজ সন্তানের মা মেরি কমই এখন লন্ডন অলিম্পিকে বক্সিংয়ের রিং দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সোমবারই কোয়ার্টার ফাইনালে টিউনিশিয়ার বক্সার মারোয়া রাহালিকে হারিয়ে দেশের জন্য ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করে ফেলছিলেন তিনি। অলিম্পিকে যে কোন পদক জেতা সম্মানের ব্যাপার, কিন্তু সোনাতেই পাঞ্চ মারতে মরিয়া বলে জানিয়েছিলেন তিনি। হল না স্বপ্নপূরণ। প্রতিপক্ষ শক্ত হলেও নিজের সেরাটা দিলেন মেরি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েও অলিম্পিকে অংশগ্রহণের স্বপ্ন ছিল অধরা। সেই স্বপ্নকে ব্রোঞ্জ জিতে পূরণ করলেন ভারতের এই মহিলা বক্সার।









Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।