আজ বাগানের ভাগ্যপরীক্ষা

Update: January 14, 2013 19:46 IST

মোহনবাগানের নির্বাসন নিয়ে আজ ফেডারেশনের কর্মসমিতির বৈঠক। বৈঠকে যোগ দিতে সোমবার সকালে নয়াদিল্লি গেছেন মোহনবাগানের চার শীর্ষকর্তা। সভাপতি টুটু বসু, সচিব অঞ্জন মিত্র ও অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত এদিন সকালেই রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নয়াদিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন সহসচিব সৃঞ্জয় বসু। কলকাতা ছাড়ার আগে সভাপতির দাবি, ক্লাবের নির্বাসন তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবেন তাঁরা।

সোমবারই প্রাক্তন মোহনবাগান ফুটবলাররা সমর্থকদের গণস্বাক্ষরিত আবেদনপত্র তুলে দেন ফেডারেশন সচিব কুশল দাসের হাতে। দিল্লি পৌঁছে ফেডারেশন সভাপতি প্রফুল্ল প্যাটেলের সঙ্গে বৈঠক করেন মোহনবাগানের শীর্ষর্কতারা। প্রাক্তন ফুটবলার থেকে সমর্থকদের আশা বাংলার ফুটবলের কথা মাথায় রেখে মোহনবাগানকে নিয়ে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করবে ফেডারেশন।

অন্যদিকে, গতকাল মোহনবাগানের শীর্ষকর্তাদের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ জানালেন সমর্থকরা। গোষ্ঠ পালের মূর্তির পাদদেশ থেকে শুরু হওয়া মিছিলের নেতৃত্ব দেন মোহনবাগানের কার্যকরী সমিতির সদস্য অতীন ঘোষ।

ওই দিনই মোহনবাগান সদস্যদের অপর একটি মিছিল সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় গোষ্ঠপালের মূর্তির পাদদেশে। সমর্থকদের আশা ক্লাবের লক্ষ লক্ষ সমর্থকদের আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে মোহনবাগানের উপর থেকে নির্বাসন তুলে নেবে ফেডারেশন।

এদিকে, কালকেও প্রথামাফিক অনুশীলন চলছে গঙ্গাপাড়ের ১২৪ বছরের বছরের পুরানো ক্লাবতাঁবুতে। কিন্তু টোলগে-ওডাফাদের মন পড়ে রয়েছে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় ফুটবলের নীতিনির্ধারনকারী সদর দফতরে। আর কিছুক্ষণ পরেই তাঁদের ভবিষ্যত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বিচারক ফেডারেশন কর্তারা। কিন্তু কী হবে ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত  সেই ভাবনায় ঘুম উড়ে গিয়েছে সবুজ-মেরুন ফুটবলারদের। গতকাল টোলগে-ওডাফা অনুশীলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়ে গেলেন,তাঁদের কথা বলার মত মানসিক অবস্থা নেই। আর বাকিদের মনের অবস্থা বোঝ গেল কোচ করিমের মন্তব্যে। আর কয়েক ঘণ্টা পরেই মোহনবাগানের ভাগ্যের ফলাফল ঘোষিত হতে চলেছে। সেই কয়েক ঘণ্টা উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছেন মোহনবাগানের সদস্য, সমর্থক এবং ফুটবলাররা।













Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।