জয় অধরাই বাগানে

Update: January 27, 2013 17:10 IST

মোহনবাগান (১) প্রয়াগ ইউনাইটেড (১) আই লিগে জয় ফের অধরাই থাকল মোহনবাগানের। নির্বাসনের শাস্তি কাটিয়ে উঠে ফেরার পর আবার ড্র করল করিম বেঞ্চারিফার দল। রবিবার কল্যাণী স্টেডিয়ামে ম্যাচের একেবারে শেষের দিকে গোল খেয়ে জেতা ম্যাচ ড্র করল মোহনবাগান। ম্যাচের ৮৮ মিনিট পর্যন্ত এক গোল এগিয়ে থাকা করিমের দল তিন পয়েন্ট থেকে বঞ্চিত হল র‍্যান্টি মার্টিন্সের দুরন্ত গোলে। যার মানে দাঁড়াল অবনমনের ভূত আরও চেপে বসলে মোহনবাগানের কাঁধে। নির্বাসনের পর পয়েন্ট শূন্য অবস্থায় আই লিগে ফেরার পর তিন ম্যাচে মোহনবাগানের পয়েন্ট দাঁড়াল মাত্র দুই।

কল্যাণী স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর মোহনবাগান দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল পেয়ে যায়। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে টোলগের অসাধারণ গোল মোহনবাগানকে এগিয়ে দেয়। মোহনবাগানের জার্সিতে আই লিগে টোলগের এটাই প্রথম গোল। এরপর দু`দলই গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু গোলমুখে গিয়ে দুদলই খেই হারিয়ে ফেলছিল। পিছিয়ে পরার পর মোহনবাগান ডিফেন্সে চাপ বাড়াতে থাকেন র‌্যান্টিরা। বেশ কয়েকটি ভাল সেভ করেন অরিন্দম। কিন্তু ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিট র‍্যান্টিদের আক্রমণত্মক ফুটবলের কাছে কেমন যেন গুঁটিয়ে গেল মোহনবাগান। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে এবারের আই লিগে র‍্যান্টির ১৮ তম গোলটাই সব কিছু মাটি করে দিল। খেলার একেবারে শেষের দিকে প্রয়াগের টুলঙ্গা দারুণ একটা সুযোদ কাজে লাগাতে পারলে কী হত তা নিয়ে প্রেসবক্সে জল্পনা শুরু হয়ে গেল। পাক্কা দু’বছর মোহনবাগানের বিরুদ্ধে অপরাজিত থেকে গেল প্রয়াগ। এ বারের আই লিগের প্রথম পর্বের ম্যাচেও মোহনবাগানকে হারিয়েছে একতরফাভাবে হারিয়েছিল প্রয়াগ।

প্রয়াগের বিরুদ্ধে সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে অভিষেক হয় সালগাঁওকর থেকে মোহনবাগানে যোগ দেওয়া কুইন্টন জ্যাকবসের। রবিবারও মোহনবাগানকে প্রত্যাশিত ছন্দে পাওয়া যায়নি। আক্রমণভাগে বলের জন্য হা পিত্যেস করতে হয় টোলগেকে। বিরতির পর অবশ্য টোলগের দুরন্ত গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান।  শেষপর্যন্ত র‌্যান্টির গোলে সমতা ফেরায় প্রয়াগ ইউনাইটেড। তিন ম্যাচ পর মোহনবাগানের পয়েন্ট এখন দুই। সবুজ-মেরুন শিবির এখন তাকিয়ে ওডাফার প্রত্যাবর্তনের দিকে।





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।