বাগানে শাস্তি-স্বস্তির পাঁচালি

Last Updated: Tuesday, January 15, 2013 - 17:35

মোহনবাগানের শাস্তি নিয়ে এই কটা দিন উত্তাল থাকল ময়দান। কখনও ক্ষোভ, কখনও মিছিল, কখনও বিবৃতি -পাল্টা বিবৃতি মিলিয়ে যা চলল তাকে অনায়াসে নাটক বলা যায়। সেই নাটকের বিভিন্ন অঙ্ক নিয়েই সাজানো এই প্রতিবেদন---
১৫ জানুয়ারি--
নির্বাসন উঠে গেল। চলতি আই লিগেই খেলতে পারবে মোহনবাগান। তবে দু কোটি টাকার মোটা অঙ্ক জরিমানা হিসাবে দিতে হবে। সমস্ত পয়েন্ট কেড়ে নেওয়ায় মোহনবাগানকে চলতি আই লিগে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। দুই বাগান কর্তা শাস্তির কোপে পড়লেন।
১৩ জানুয়ারি--
আমাদের ওয়েবসাইটেই প্রথমবার খবর প্রকাশিত হল মোহনবাগানের প্রতি নরম হল ফেডারেশন। ভাগ্যপরীক্ষার ফেডারেশনের মিটিংয়ে হাজির বাগানের কর্তারা।
১২ জানুয়ারি--
মোহনবাগানকে নিয়ে আবেগ ক্রমশ বাড়ছে। আবেগকে প্রচারের কাজে লাগাতে হাজির তৃণমূলের এক সাংসদও। "আমাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে", বলে পাল্টা বিবৃতি মোহনবাগান সভাপতি চুটু বসুর।
১১ জানুয়ারি--
উত্তর কলকাতার মোহনবাগান লেনে শুরু হল সই সংগ্রহ অভিযান। সেই মঞ্চ থেকেই টুটু বসু, অঞ্জন মিত্রদের বিরুদ্ধে মাঠে নামলেন ক্লাবেরই অনেক শীর্ষকর্তা। সুবর্ত ভট্টাচার্য টুটু, অঞ্জনদের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন।
৬ জানুয়ারি-- ফেডারেশনের কর্মসমিতির বৈঠকে ঠিক হবে মোহনবাগানের নির্বাসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ১৫ জানুয়ারি দিল্লিতে হবে এই বৈঠক। ডাকা হল মোহনবাগানকে।
৪ জানুয়ারি-- মোহনবাগানের নির্বাসন তুলে নেওয়ার দাবিতে শহরে মোমবাতি মিছিল। কর্তাদের শাস্তি চেয়ে রাজপথে মিছিল। তবে সামিল হলেন না প্রাক্তন ফুটবলাররা
২ জানুয়ারি-- শাস্তি নিয়ে চাপানউতোর চরমে দুই প্রধানের। ফেডারেশনকে পাঠানো ইস্টবেঙ্গলের চিঠি নিয়ে কটাক্ষ করল মোহনবাগান। ৯ ডিসেম্বর বিতর্কিত ডার্বি ম্যাচের পর ইস্টবেঙ্গল সচিব কল্যাণ মজুমদারের মন্তব্য করেছিলেন, তিনি চান বাংলা ফুটবলের স্বার্থে মোহনবাগান যেন নির্বাসিত না হয়।

১ জানুয়ারি
-- পদত্যাগের প্রশ্নই নেই জানালেন বাগানের অর্থ সচিব দেবাশিষ দত্ত। মোহনাবাগানের শাস্তি কমানোর আবেদন করে ফেডারেশনকে চিঠি ইস্টবেঙ্গলের
৩১ ডিসেম্বর-- শাস্তি তুলে নিতে এআইএফএফ-কে চিঠি পাঠাল মোহনবাগান। বাগান কর্তাদের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
২৯ ডিসেম্বর-- দু বছরের জন্য আই লিগ থেকে নির্বাসিত মোহনবাগান। সঙ্গে আর্থিক জরিমানার ঘোষণা। শাস্তির মুখোমুখি ওডাফাও।
২৭ ডিসেম্বর--
বিচারপতি অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায় শুনানির রায় দেন। দোষী সাব্যস্ত মোহনবাগান।
২৪ ডিসেম্বর--
শুনানির জন্য দিল্লি উড়ে গেলেন মোহন কর্তারা।
২২ ডিসেম্বর--
সবুজমেরুনের চার প্রাক্তনি আইএফএর কাছে ব্যক্তিগত ভাবে মোহনবাগানের প্রতি যাতে কোন অবিচার না হয় তার আবেদন করেন।
২০ ডিসেম্বর-- মোহন সচিব অঞ্জন মিত্র এবং অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত দেখা করেন অশোক বাবুর সঙ্গে। শুনানি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন খারিজ।
১৯ ডিসেম্বর--
অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায় খারিজ করে দেন মোহনবাগানের ম্যাচ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যের রিপোর্ট দেখতে চাওয়ার আর্জি।
১৭ ডিসেম্বর-- প্রাক্তন বিচারপতি অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে ডার্বি ম্যাচের শুনানির জন্য এক সদস্যের কমিটি তৈরি হয়।
১১ ডিসেম্বর-- আইএফএ সচিব কুশল দাস কথা বলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী প্রফুল্ল প্যাটেলের সঙ্গে। অন্যদিকে ডার্বির ম্যাচ কমিশন গুলাব সিং ম্যাচ রিপোর্ট দেন। রিপোর্টে মোহনবাগানকেই দোষী সাব্যস্ত করেন তিনি। আই লিগে দু`বছর নির্বাসনের মুখে মোহনবাগান।
১০ ডিসেম্বর:
নবির অস্ত্রোপচার। ডাক্তাররা জানান তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। মোহনবাগানের কোর কমিটির বৈঠক হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হল দল তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত একদম সঠিক।
৯ ডিসেম্বর: যুবভারতীতে মোহন-ইস্ট ডার্বি ঘিরে প্রবল উত্তেজনা। রেফারির সঙ্গে ওডাফার বিবাদ। লাল কার্ড দেখেন ওডাফা। দর্শকদের ছোঁড়া ইঁটে আহত হন নবি। নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর দুই মিনিট পর দল প্রত্যাহার করে নেয় মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গল ও আইএফএ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয় খেলার পরিবেশ ছিল। ছিল যথাযথ সুরক্ষাও। সেই দিনই আই লিগের পক্ষ থেকে মোহনবাগানের শাস্তি হতে পারে বলে ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত রহিম নবিকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।



First Published: Tuesday, January 15, 2013 - 17:48


comments powered by Disqus