মরগ্যানের হাল ধোনিরই মত

Update: November 20, 2012 21:10 IST

একেবারে ধোনির মত হাল ইস্টবেঙ্গল কোচ মরগ্যানের। দল নিয়ে শুধু চিন্তা করলেই হচ্ছে না। ধোনি যেমন পিচ নিয়ে সারাক্ষণ নজরদারি করছেন। পিয়ারলেস ম্যাচের আগে মরগ্যানও তেমন তাঁর ক্লাবের মাঠের পরিচর্যার দিকে নজর দিচ্ছেন। ঘরোয়া লিগে বুধবার ক্লাবের মাঠে খেলতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে।এমনিতে মাঠের পরিকাঠামোয় অসন্তুষ্ট মরগ্যান। তবুও খেলতেই যখন হবে,তখন নিজেই দায়িত্ব নিলেন মাঠের পরিকাঠামো নজরদারির। মালিদের মরগ্যানের আদেশ,মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে যতবার সম্ভব মাঠ রোল করতে হবে।

পিয়ারলেসের বিরুদ্ধে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটতে চলেছেন মরগ্যান। চার্চিল ব্রাদার্স ম্যাচের প্রথম একাদশকে বসিয়ে রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলারদের খেলানোর ভাবনা ফুজাতোপের দলের বিরুদ্ধে। আগামি ২৪ তারিখ আই লিগের ম্যাচ। তার আগে কলকাতা লিগের ম্যাচে প্রথম একাদশের ফুটবলারদের খেলাতে নারাজ। তবে কি মরগ্যান হাল্কাভাবে নিচ্ছেন বুধবারের প্রতিপক্ষকে? লাল হলুদ কোচের দাবি, না। প্রতিপক্ষ পিয়ারলেস অজানা হলেও কোনও আত্মতুষ্টির জায়গা নেই তাঁর দলে। সোমবার ক্লাবে এসে বিদেশি আন্দ্রেই বোরিসিচের দাবি ছিল,তাঁর চুক্তিগত কোনও সমস্যা নেই। গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ফ্রি প্লেয়ার। মঙ্গলবার অনুশীলনের পর কোচ মরগ্যান ও আন্দ্রেই বোরিসিচের সঙ্গে বৈঠক করেন শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার ও ফুটবল সচিব সন্তোষ ভট্টাচার্য। কর্তারা অবশ্য বিদেশি নির্বাচনের ক্ষেত্রে পুরো দায়িত্ব দিয়েছেন মরগ্যানের ঘাড়েই। দলের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে মাঝমধ্যেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠছে। ফুটবল সচিবের দাবি,চুক্তিতেই ফুটবলারদের বলা রয়েছে শৃঙ্খলারক্ষার কথা। তা মেনে চলতে হবে। সম্প্রতি রাজু গায়কোয়াড় বিতর্কে জড়ালেও,তাঁর পাশেই দাঁড়াচ্ছে ক্লাব।
দ্বিতীয় দিনের অনুশীলনে খুব একটা নজর কাড়তে পারলেন না ইস্টবেঙ্গলের চতুর্থ বিদেশি হিসেবে আসা অসি ফুটবলার আন্দ্রে বোরিসিচ। অর্ধেক মাঠে নিজেদের মধ্যে ম্যাচ শুরু হতেই অসি স্ট্রাইকারের বল কন্ট্রোল সমস্যা চোখ এড়ায় না। পাসিংও সাদামাঠা। তবে স্পটকিকে অসি স্ট্রাইকারের লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা চোখে পড়ার মত। যদিও এখনই তাঁর নিষ্প্রভতাকে আমল দিতে নারাজ ইস্টবেঙ্গল কোচ। মাত্র চারদিনের ট্রায়ালে দেখে ফুটবলার নেওয়ার সিস্টেমকে ঘুরিয়ে সমালোচনা করেন মরগ্যান।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।