মরগ্যানকেই কাঠগড়ায় তুলছেন লাল হলুদ কর্তারা

Update: January 20, 2013 21:17 IST

ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কোচ মরগ্যানের চুক্তি বাড়াবার জন্য তত্পর হয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। কিন্তু তিনমাসের মধ্যেই মরগ্যানে মোহভঙ্গ হয়েছে লাল-হলুদের শীর্ষকর্তাদের। ঘরের মাঠে চার্চিলের কাছে হারের পর ইস্টবেঙ্গলের আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। গত দুবছরের মত এবারও সম্ভবত দেশের সেরা ট্রফি ছোঁয়া হচ্ছে না মরগ্যানের। চলতি মরসুমে দেশের অন্যতম সেরা দল গড়েছিলেন লাল-হলুদ কর্তারা।

গত বছরের দল ধরে রাখার পাশাপাশি,এনেছিলেন ডিকা,মননদীপের মত ফুটবলারদের। কিন্তু তাতেও সাফল্য পেল না দল। কর্তাদের অভিযোগ আই লিগের সবচেয়ে কঠিন সময়ে ফুটবলারদের ফোকাস ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন মরগ্যান। তাছাড়া সাহেব কোচের একটা ছাড়া আর কোনও পরিকল্পনা ছিল না। তাই বিপক্ষ কোচ পাল্টা চাল দিলে,তার কোনও জবাব ছিল না মরগ্যানের কাছে। মরসুমের শুরু থেকেই স্ট্রাইকারদের অফ ফর্ম ভাবাচ্ছিল কোচকে। তা সত্ত্বেও কোচ বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারেনি। রিজার্ভ বেঞ্চে অসংখ্য ভাল মানের ফুটবলার না সত্বেও তাদের ব্যবহার করে তৈরি রাখা হয়নি। সব মিলিয়ে আই লিগ প্রায় হাতছাড়া হওয়ার জন্য মরগ্যানকেই কাঠগড়ায় তুলছেন কর্তারা। এমনকি খুব শীঘ্রই কোচের সঙ্গেও আলোচনায় বসছেন ক্লাবের শীর্ষকর্তারা।

এদিকে, চার্চিল ব্রাদার্সের দুটি গোল অফসাইড থেকে করা।এই অভিযোগ তুলে ফেডারেশনকে চিঠি পাঠাল ইস্টবেঙ্গল।ম্যাচের পর ম্যাচ কমিশনারকে লিখিত অভিযোগ জমা দেয় ইস্টবেঙ্গল। হেনরির প্রথম ও আক্রমের গোলটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ইস্টবেঙ্গল টিম ম্যানেজমেন্ট।তাঁদের অভিযোগ ছিল দুটি গোলই অফসাইড থেকে করা হয়েছে। রেফারি সন্তোষকুমার তা না দেওয়ায় ক্ষোভ বেড়েছে লাল হলুদ শিবিরে। প্রসঙ্গত,হেনরির দ্বিতীয় গোলের সময় ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা অফসাইডের আবেদন করে রেফারির দৃষ্টি আকর্ষন করেছিলেন।

সময়মত ইস্টবেঙ্গল তাদের পাওনা টাকা ফেডারেশনের কাছ থেকে পেয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিলেন সভসভাপতি সুব্রত দত্ত। কয়েকদিন আগে ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার ফেডারেশনের কাছ থেকে পাওনা টাকা না পাওয়ায় অভিযোগ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে ফেডারেশন সহসভাপতি জানান,এক সংসারে এরকম হয়েই থাকতে পারে। তবে ইস্টবেঙ্গল তাদের প্রাপ্য টাকা পেয়ে যাবে।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।