হারের মুখে আশার প্রদীপ গম্ভীর

Update: November 25, 2012 17:43 IST

ভারত: ৩২৭,১১৭/৭। ইংল্যান্ড: ৪১৩
যাতে চোপাট তাতেই লোপাট। যে ঘূর্ণি পিচ চেয়ে ধোনি একেবারে রণমূর্তি ধারণ করেছিলেন, সেই ঘূর্ণি পিচের কোপে পড়েই মুম্বই টেস্টে হারের মুখে দাঁড়িয়ে ভারত। তৃতীয় দিনের শেষে ভারত মাত্র ৩১ রানে এগিয়ে, হাতে আর তিনটে উইকেট। ক্রিজে আছেন শেষ ভরসা গৌতম গম্ভীর (৫১) আর হরভজন সিং (১)। এই দুজনে সোমবার সকালে দলের রান কতটা দূর নিয়ে যেতে পারেন তার ওপরেই দাঁড়িয়ে ম্যাচের ভবিষ্যত। এমনিতে ওয়াংখেড়ের পিচ যেরকম `খামখেয়ালি` আচরণ শুরু করেছে তাতে ১২৫ থেকে ১৫০ রানের লিড নিলেও লড়াই করার মত রসদ পাবেন ভারতীয় বোলাররা। কিন্তু সেটা কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ণ থাকছেই। দলের তারকা ব্যাটসম্যানদের পতনের পর অধিনায়ক ধোনিও যেভাবে আউট হলেন তাতে ভারতীয়দের লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
প্রথম ইনিংসে ৮৬ রানে পিছিয়ে থাকার পর ব্যাট করতে নেমে ভারতের ইনিংস তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ল। মন্টি পানেসর ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কাছে সাক্ষাত্‍ যমদূত হয়ে ধরা দিলেন। আজকের সিং ইজ কিং মন্টি এমন কাজ করে ফেললেন, যা স্বয়ং শেন ওয়ার্ন পর্যন্ত ভারতে এসে করতে পারেননি। প্রথম টেস্টে দলে সুযোগ না পেয়ে তেঁতে ওঠা মন্টির যেন আজ জাদুকর। সেওয়াগ (৯), সচিন (৮), যুবরাজ (৭), ধোনি (৮)-দের মত স্পিন খেলার রাজার মাথা হেঁট করে ফেললেন ইংল্যান্ডের পাগড়ি মানব। দিনের শেষে আজকের সিং ইজ কিংয়ের বোলিং হিসাব দাঁড়াল ১৬ ওভারে ৬১ রানে ৫ উইকেট। সেওয়াগের উইকেট নিয়ে শুরু করেছিলেন, অশ্বিনের উইকেট নিয়ে আজকের কাজটা শেষ করলেন। তবে দিনের সেরা সচিনের উইকেটাই। পরপর দু ইনিংসে সচিনকে আউট করে বিরল ক্লাবে ঢুকলেন ইংল্যান্ডের শিখ স্পিনার। প্রথম ইনিংসে বোল্ডের পর আজ এলবি হলেন সচিন (৮)। আজকের আউটের পর এটা নিশ্চিত আবার নতুন করে তাঁর অবসর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যাবে। সে যাই হোক দুপুরে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দেখে মনে হচ্ছিল মন্টি-সোয়ানের বোলিং যেন রকেট সায়েন্স। কোনটা ভিতরে ঢুকছে, কোনটা বেরিয়ে যাচ্ছে। কোন বলটা ফ্রন্টফুটে, কোনটা ব্যাকফুটে খেলতে হবে তা ভুলে গেছেন। ভারতের সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে ছজনই আউট হলেন দশের কম রানে (সিঙ্গল ডিজটে)। পুজারাকে নিয়ে একটা আশা ছিল কিন্তু সোয়ানের বলে প্রথম ইনিংসে সেই অতিমানবিক ইনিংস খেলা সৌরাষ্ট্রের এই ব্যাটসম্যান আউট হলেন ৬ রানে। ওয়ানডের `আনবিটেবেল` কোহলিও টেস্টে ফের ব্যর্থ হলেন, করলেন ৭ রান। তবু দিনের শেষে ভারত যে ৩১ রানে এগিয়ে কিংবা আজই খেলা শেষ হয়ে গেল না তার সব কৃতিত্ব গৌতম গম্ভীরের। গম্ভীর দারুণ লড়াই চালিয়ে দলের জয়-পরাজয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন। এখন হারের ঠিকানায় দাড়িয়ে গম্ভীরই জয়ের 'পোস্টম্যান'।





Post Your Comment

Total Comments:1

darun lekha...

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।