সচিন যখন অন্য খেলায়

Last Updated: Sunday, December 30, 2012 - 22:29

পার্থ প্রতিম চন্দ্র
কত কিছুই তো আমার ধরে নিই। এই যেমন অঙ্কের কিছুটা জ্ঞান হওয়ার পরই শেখানো হয় এটা =x, অমুকটা=Y। তারপর সূত্র হিসাবে শেখানো হয় (a+b)2= a2+2ab+b2...কিন্তু এগুলো কী! জিজ্ঞাসা করলেই গোলগোল চেখে উত্তর আসত," এসব ধরে নিতে হয়"। শিলাজিত্‍-এর সেই `x= প্রেম ধরে নিয়ে কষতাম` বিখ্যাত গানটাও তো সেই ধরেই নিয়েই হিট হল। তাই আমারও সচিন তেন্ডুলকরকে ক্রিকেটের বাইশ গজের বাইরের জগতে নিয়ে গেলাম (সেটাও অবশ্য ধরে নিলাম)। যেখানে সচিনের প্রতিপক্ষ বা সতীর্থ সৌরভ-ম্যাকগ্রা- আখতাররা নন। মেসি, শ্যুমাখার, সাম্প্রাস-ফেডেরাররা । চলুন না একটু ধরেনি সচিন ক্রিকেট নয় অন্য খেলার দুনিয়ায় চলে গেছেন। ওই দুনিয়ায় ক্রিকেটের ভগবানের কেরিয়ার ঠিক কেমন কাটল, চলুন দেখি---
টেনিসের র‌্যাকেট হাতে: ক্রিকেট ছাড়া যে খেলাটা নিয়ে সচিন সবচেয়ে বেশি মাথাঘামান তা হল টেনিস। টেনিসের কিংবদন্তি জন ম্যাকেনরোর অন্ধভক্ত সচিন নিজের হেয়ার স্টাইলটাও তাঁর মত করেছিলেন। সেই সচিনকে আমার ধরিয়ে দিলাম টেনিস র‌্যাকেট। ১৯৮৯-২০১২ এই কটা বছর কেমন খেললেন তিনি? দেশ বিদেশের সংবাদপত্রের কিছু ম্যাচ রিপোর্ট দিয়ে বর্ণনা করা হল টেনিস খেলোয়াড় সচিনের কেরিয়ারকে...
অভিষেকেই নজর কাড়লেন এক মুম্বইকর
পল ফিন, দিল্লি
১৮ ডিসেম্বর,১৯৮৯: ডেভিস কাপে আজকে একটা দেখে ম্যাচ দেখে দারুণ লাগল। অনেক বছর ধরে টেনিস ম্যাচ কভার করছি। কিন্তু হেরে যাওয়া একজন খেলোয়াড়ের খেলা দেখে এত ভাল এর আগে লাগেনি। ছেলেটার বয়স মাত্র ১৬ বছর, কোকড়ানো চুল, বেশ বেঁটেখাটো। ওর নাম সচিন তেন্ডুলকর। জীবনের প্রথম ডেভিস কাপেম্যাচেও হারল ২-৬, ২-৬। মাত্র ৫১ মিনিটেই খেলা শেষ হয়ে গেল। কিন্তু এমন একটা হেরে যাওয়া খেলোয়াড়ের খেলা দেখে মনে হল। এমনিতে কোনও টেনিস খেলোয়াড়ের ভাল খারাপ বোঝাতে তার ফোরহ্যান্ড, সার্ভিস, ব্যাকহ্যান্ড, ভলি, ড্রপ শট কেমন খেলে এসব দিয়ে বোঝাতে হয়। কিন্তু এই ছেলেটার খেলার বিবরণ দিতে গেলে আরও বেশ কিছু কথা বলতে হয়। কেন জানি না ওকে দেখে মনে হচ্ছে এই ছেলেটা একদিন গ্র্যান্ড স্লাম জিতবে। কথাটা কি বারাবারি হয়ে গেল! কত বড় বড় খেলোয়াড় এখন পেশাদার সার্কিটে, ও কি পারবে!
(সৌজন্যে:দি টেলিগ্রাফ)

এটিপি খেতাব জয়
২৭ নভেম্বর, ১৯৯৩: নিউজপেপারের এই এক সীমাবদ্ধতা ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেই ঠোঙ্কা হয়ে যায়। ম্যাচ রিপোর্টের কপিটা এইভাবে লিখতে হল কারণ প্রায় পাঁচ বছর আগে দিল্লিতে ভারতের একটা ডেভিস কাপ ম্যাচে আমার একটা ম্যাচ রিপোর্টটা নিউজপেপার না হয়ে বই হলে, বলতাম বুকশেলফ থেকে বের করে একবার পড়ে নিন অবাক হবেন। সেদিন ওই হেরে যাওয়া খেলোয়াড়কে বলেছিলাম ওর মধ্যে কিছু একটা আছে। আজ হিরো কাপ এটিপি খেতাব জিতেও আমায় সত্যি প্রমাণ করল। এই টুর্নামেন্টে ছিল বিশ্বের সব বড় বড় খেলোয়াড়রাই।
মরু ঝড় তুলে সাম্প্রাসকে হারিয়ে খেতাব সচিনের
২৪ এপ্রিল, ১৯৯৮:
এ যেন স্বপ্নের এক ম্যাচ। অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হয়। টেনিসের সর্বকালের সেরার তালিকায় থাকা এক খেলোয়াড়কে টেনিসের `দুগ্ধপোষ্য` এক দেশের খেলোয়াড় যেভাবে হারালেন তা বর্ণনা করা যায় না। দু সেট পিছিয়ে থেকেও পিট সাম্প্রাসকে হারিয়ে শারজা ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হলেন সচিন তেন্ডুলকর। আজকের ফাইনালে প্রথম দু সেটে সচিন ২-৬, ১-৬ পিছিয়ে ছিলেন। এরপরই শারজা স্টেডিয়ামে নামে মরু ঝড়। খেলা বন্ধ থাকে প্রায় আধ ঘণ্টা। খেলা ফের শুরু হতেই ম্যাচে শুরু হল অন্য ঝড়। সচিন ঝড়।
একেক সময় মনে হচ্ছিল টেনিস দেবতা ভর করেছে সচিনকে। অবিশ্বাস্য টেনিস খেলে সচিন বাকি তিনটি সেট জিতে নেন। ৬-৩, ৬-২, ৬-২ সেটে। ম্যাচ হেরে সাম্প্রাস বললেন, "সচিন যে টেনিসটা খেলল তাকে স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু বলা যাবে না"। তিন বছর আগে ভারতের আরেক টেনিস খেলোয়াড় আটলান্টা অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন.. কিন্তু আজকে সচিনের জয়টা বোধহয় সব কিছুকে ছাপিয়ে গেল।
গত পরশু এই শারজা ওপেনের সেমিফাইনালে আন্দ্রে আগাসিকে হারানোটা যদি রূপকথা হয় তাহলে আজ সাম্প্রাসকে হারানোটা মহাকাব্য বলা ঠিক হবে। আজ থেকে টেনিস দুনিয়ার রোমান্টিকতার ক্লাবে নাম লিখিয়ে ফেললেন টেনিসের `লিটল মাস্টার"।
(সৌজন্যে: ডেইলি মেল)
২৩ মার্চ, ২০০৩-- অল্পের জন্য স্বপ্নপূরণ হলও না। উইম্বলডনের ফাইনালে হেরে গেলেন সচিন তেন্ডুলকর। ঐতিহ্যের অল ইংল্যান্ড কোর্টের খেতাবি লড়াইয়ে সচিন স্ট্রেট সেটে হারলেন রজার ফেডেরারের কাছে। পুরো প্রতিযোগিতায় দারুণ খেলা সচিন ফাইনালে কেমন যেন গুঁটিয়ে গেলেন.. অনেকে বলছেন এত বড় একটা প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেলার পাহাড়প্রমাণ চাপটা নিতে পারলেন না টেনিসর মাস্টার ব্লাস্টার। ব্যাপার যাই হোক অল্পের জন্য স্বপ্নভঙ্গ হলও সচিনের। টেনিসের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা গ্র্যান্ড স্লাম জয় তাঁর এবারেও হলও না। গোটা ভারতেও আজ উত্‍সব হতে হতেও হল না। প্রশ্ন উঠল সচিন কি ফাইনালের চাপটা নিতে পারলেন না!

সাফল্যের চূড়ায় সচিন
স্টাফ রিপোর্টার
১০ অক্টোবর, ২০০৬--- সাফল্যের চূড়ায় উঠে সচিন তেন্ডুলকর ছাপিয়ে গেলেন সবাইকে। এখন সচিনের এটিপি খেতাব ৭৫ ছাড়িয়েছে। এটিপি ক্রমতালিকাতেও তিনি উপরের দিকে। গ্র্যান্ড স্লাম খেতাব না জিতেও গোটা বিশ্বে তিনিই এখন জনপ্রিয়তম ক্রীড়াবিদ। এই খেলারই অন্য এক জনপ্রিয় খেলোয়াড় কদিন আগেই যিনি উইম্বলডন জিতলেন, সেই মারিয়া শারাপোভা সচিনকে প্রেমপত্র পাঠিয়েছেন বলে খবর। সেরেনা উইলিয়ামস সচিনের সঙ্গে দেখা করে তাঁর খেলা নিঁখুত করার টিপস নিলেন। নোভাক জকোভিচ নামের এক অনামী খেলোয়াড়ও সচিনের সঙ্গে দেখা করতে এলেন। জকোভিচ লিটল মাস্টারকে জিজ্ঞাসা করলেন," ফেডেরারকে হারানোর উপায় কী?" সচিন তখন নাদালের সঙ্গে অনুশীলনে ব্যস্ত ছিলেন। নাদাল আর সচিনের বন্ধুত্ব দিনদিন বাড়ছে। ফেডেরারের সঙ্গে সচিনের সম্পর্কটা অবশ্য ততটা মধুর না। কথায় বলে না, একটা জঙ্গলে একটাই সিংহ থাকে, তাই বোধহয় ফেড এক্স আর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সম্পর্কটা দারুণ জায়গায় নেই।
( পিটিআইয়ের খবরের সূত্র ধরে এক ভারতীয় সংবাদপত্র)
ব্যর্থতার রাস্তায় হাঁটা সচিনের অবসর জল্পনা
২৯ এপ্রিল, ২০০৭--- ডেভিস কাপে ভারতের ভরাডুবির পর সচিনের কেরিয়ার নিয়ে জল্পনা শুরু করেছেন। অনেকেই বলছেন, ৩৪ বছরের সচিনের এবার অবসর নিয়ে নেওয়া উচিত। সমালোচকদের সেই কথা শুনে সচিন যদি ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে সেটা টেনিস দুনিয়ার কাছে ট্র্যাজিক হয়ে দাঁড়াবে। কারণ সব দিক থেকে কমপ্লিট খেলোয়াড়, টেকনিকক্যালি নিঁখুত, একশোটারও বেশি এটিপি খেতাব জয়, দুবার এটিপি সিঙ্গলস ওয়ার্ল্ড ট্যুর খেতাব থাকা সচিন টেনিসের সবচেয়ে বড় খেতাব গ্র্যান্ড স্লাম জিততে না পারা খেলোয়াড় হয়ে থাকবেন। ভাবা যাচ্ছে না....
(নিউ ইয়র্ক টাইমস)
ভূবনজয়ী সচিন, প্রথম ভারতীয় হিসাবে সিঙ্গলসে গ্র্যান্ড স্লাম খেতাব জয়
মুম্বই, ২৮ এপ্রিল, ২০১১-- একশো কুড়ি কোটি ভারতীয়র স্বপ্নপূরণ হল। প্রথম ভারতীয় হিসাবে সিঙ্গলসে গ্র্যান্ড স্লাম খেতাব জিতলেন সচিন তেন্ডুলকর। উইম্বলডনের ফাইনাল এবার মাঠ সমস্যার কারণে লন্ডনের পরিবর্তে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে হল। ঘরের মাঠে অ্যান্ডি মারেকে হারিয়ে খেতাব জয়ের পর কেঁদে ফেললেন সচিন। মজার কথা ভারতের জনপ্রিয় বেশ কিছু ক্রিকেটার। এই যেমন ধোনি, কোহলি, যুবরাজরা কাপ জয়ের পর সচিনকে কাঁধে তুলে নিয়ে গোটা মাঠ ঘুরলেন। সচিনের মুখে তখন তৃপ্তির হাসি, আর হাতে জাতীয় পতাকা।
টেনিসের তারা খসল, পেশাদারি টেনিস থেকে অবসর সচিনের
মুম্বই, ২২ ডিসেম্বর, ২০১২--- টেনিসে একটা যুগের অবসান। পেশাদারি টেনিস থেকে অবসর নিলেন সচিন তেন্ডুলকর। যেদিন সচিন প্রথম টেনিসের আঙিনায় পা রেখেছিলেন তখন এই খেলাটায় ছিল বরিস বেকারদের দাপট। এরপর পিট সাম্প্রাস, আন্দ্রে আগাসিরা মাতালেন। তারপর রজার ফেডেরার, রাফায়েল নাদাল। ক বছর ধরে আবার নোভাক জকোভিচ টেনিস বিশ্ব মাতাচ্ছেন। এর মাঝে সচিন টেনিসে এক আলাদা ধারা তৈরি করলেন। সচিন দেখালেন দামী ট্রফি-মোটা টাকার প্রাইজমানি নয়, খেলে লোকের মন জেতাটাই আসল খেতাব। এখন থেকে কোনও টেনিস খেলোয়াড়ের সাফল্য মাপতে গ্র্যান্ড স্লাম খেতাবকে মাপদণ্ড করা হয় না। সেই হিসাবে দেখলে সচিন সর্বকালের সেরাদের তালিকার প্রথম দিকে থাকবেন.. কথাটাতে সায় দিয়েছেন বিয়ন বর্গ, ইভান লেন্ডেন,বরিস বেকাররাও.. টিভিতে দেখলাম ঠোঁট চাটতে চাটতে পিট সাম্প্রাসও বললেন, "ইয়া, ইটস ট্রু, হি ইজ রিয়েলি অ্যা লেজেন্ড "।
(২৪ ঘণ্টা ডট কম)
 

ফুটবলার সচিন--
তেইশ বছর ধরে ফুটবল পায়ে জাদু দেখানোর পর থেকে অবসর নিলেন সচিন তেন্ডুলকর।
বার্সেলোনা ক্লাবের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হল তাদের ফুটবলার সচিন অবসর
নিয়েছেন। মেসি- ইনিয়েস্তা-জাভিরা সচিনের অবসরের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে
বলেছেন, শুধু মহান ফুটবলার নন মানুষ সচিনকে তাঁরা মিস করবেন.. সচিনের ফুটবল
কেরিয়ারে সেরা ম্যাচ কোনটা সেটা বলতে গিয়ে মেসি জানালেন, তাঁর কাছে ২০০২
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ম্যাচটা.. সেদিন রিয়ালের পাঁচ
ফুটবলারকে কাটিয়ে প্রায় অর্ধেক মাঠ থেকে বল পায়ে একা গোল করে এসেছিলেন
সচিন। সেই ম্যাচে আরও দুটো গোল করে ছিলেন ফুটবল বিশ্বের আদরের তেন্ডেলা। ওই
ম্যাচেই আবার জিদান মাথা দিয়ে সচিনকে মারতে এসেছিলেন। টিভিতে সেই দৃশ্য
দেখে তিনি ভয় পেয়ে গেছিলেন বলে মেসি জানালেন। সচিনের অবসর নিয়ে অবশ্য
বিতর্ক আছে। শোনা যাচ্ছে পেপ গুয়ার্দিওলা ক্লাব ছাড়ার পর কর্তৃপখের ওপর
খুব্ধ ছিলেন সচিন.. ক`দিন সেভাবে ফর্মে ছিলেন না, সেই সুযোগ কোনও এক মেজো
সাইজের ক্লাব কর্তা নাকি সচিনকে অবসর নিয়ে নিতে বলেন। তাই রাগে নাকি সচিন
খেলা ছেড়ে দিলেন। বার্সা ক্লাব এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছে।
সচিন অবশ্য ক্লাব ফুটবল থেকে সব কিছু পেয়ে গেছেন। তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
জিতেছেন, পাঁচবার ইপিএল খেতাব, পাঁচবার স্প্যানিশ লিগ, দু বার বিশ্বক্লাব
কাপও পেয়েছেন, এছাড়া কিংস কাপ, এফএ কাপ।আরও কত ছোট, মেজো, বড় কাপ রয়েছে
তাঁর ড্রয়িংরুমে। তবে আফশোস একটাই তাঁর দেশ ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে এখন ১৬৬ তে।
বিশ্বকাপে আগামী ৫০ বছরেও খেলতে পারবে কিনা ঠিক নেই। তাতে অবশ্য সচিনের
মাহাত্ম্য একটুও কমে না। কারণ তিনিই দেশের প্রথম ফুটবলার যিনি মেসির মত
ফুটবলারকে বলতে পারেন, " আইলা মেসি বলটা আরও একটু আগে রিলিজ করলে পারতিস,
আমি বেটার পজিশন ছিলাম।" তা ছাড়া সচিনের সান্নিধ্য থেকে মেসি এখন হিন্দিতে
প্রেস কনফারেন্স করেন সেটাই বা কম কিসের!

ফর্মুলা ওয়ানের স্টিয়ারিং হাতে--- সচিন যেদিন ফর্মুলা ওয়ানের খেলা
ছাড়লেন তখন এই খেলাকে জাতীয় খেলা হিসাবে ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। একটা
সময় ফর্মুলা ওয়ানের বিরুদ্ধে ভারতে কম তোলপাড় হয়নি। একবার তখনকার
কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী তো বলেই দিয়েছিলেন এটা কোনও খেলা নয়, বড়লোকেদের
শখ। পিটি উষার মত দেশের কিংবদন্তিরাও ফর্মুলা ওয়ানকে খেলা হিসাবে দেখতে
রাজি ছিলেন না। আসলে এফ-ওয়ান নিয়ে ভারত ধারনা স্পষ্ট ছিল না। সবাই ভাবত এটা
বোধহয় শুধুই ড্রাইভিংয়ের কায়দা দেখানোর ভোজবাজি।
সচিন এই খেলায় সাফল্য এনে সব ধারনা বদলে দিয়েছেন। এখন ভারতে এফ ওয়ানের আসর
বসে। প্রচুর ভিড়ও হয়। পাড়ায় পাড়ায় ব্যাঙের ছাতার মত এফ ওয়ান কোচিং
সেন্টার গজিয়েছে। সকালবেলা আর স্কুলের শেষে কচিকাচারা এখন স্টিয়ারিং হাতে
এফ ওয়ান ড্রাইভার হওয়ার স্বপ্ন দেখে কোচিং নিচ্ছে। আর সেইসব খুদে
ড্রাইভারদের অভিভাবকরা স্বপ্ন দেখেন তাদের ছেলেরাও একদিন সচিনের মত তিনবার
`এফ ওয়ান`-এর বিশ্বসেরার খেতাব জিতবেন।

যে খেলায় সচিন খেললেন না--
বাস্কেটবল (সচিনের উচ্চতাটা এখেত্রে বাধা, তবে বলা যায় না নামটা সচিন তো তাই...)

সাঁতার:
( একটা সমীক্ষায় প্রকাশ ভারতীয়রা আগামী ৫০ বছরেও এই খেলায়
অলিম্পিক পদক পাওয়ার কোনও সুযোগই তৈরি করতে পারবেন না। কারণ নাকি ভারতীয়দের
শারীরিক কাঠামো এই খেলায় বাধা। তাই এমন কোনও খেলায় সচিনকে নিয়ে গেলাম না
যেটাই ভারতের বিশ্বজয়ের সম্ভবনা নেই। যতই হোক নামটা তো সচিন, যার মানে
আমভারতীয়র কাছে শুধু জয়, বিশ্বজয়...)

দৌড়:
উসেইন বোল্ট বড্ড ভাল দৌড়চ্ছেন। প্রচুর সোনাটোনাও জিতছেন। কি
দরকার ওকে `ডিসটার্ভ` করার। যতই হোক বোল্টও তো সচিনভক্ত। আর ভগবান তো
ভক্তদের কাছে সবসময় করুণা করেন। তাই সচিনকে অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাকে
নামালাম না।
(যিনি এত কিছু ধরলেন তিনি পার্থ প্রতিম চন্দ্র)



First Published: Tuesday, January 1, 2013 - 17:07


comments powered by Disqus