টি টোয়েন্টির বিশ্বকাপ নাকি আইপিএল!

টি টোয়েন্টির বিশ্বকাপ নাকি আইপিএল-পাল্লাভারী কোন দিকে

টি টোয়েন্টির বিশ্বকাপ নাকি আইপিএল-পাল্লাভারী কোন দিকেপার্থ প্রতিম চন্দ্র
বিতর্কটা তোলার এটাই তো সেরা সময়। ক্রিকেট বিশ্ব এখন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বুঁদ। বাইশ গজে উঠছে শটের ফুলঝুরি, দর্শকাসনেও চলছে নাচানাচি। এই সময়টা কী আইপিএলের কথা একটু মনে পড়ছে! ব্যাপারটা তো অনেকটাই এক। দুটোই টি টোয়েন্টি ক্রিকেট, দুটোরই আকর্ষণ ব্যাটসম্যানদের ঠ্যাঙানি। কিন্তু ফারাকটাও রয়েছে অনেক। আইপিএল শুধুই বিনোদনের প্রতীক, আর টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিনোদনের সঙ্গে দেশপ্রেমের ককটেল। তবে এটাও ঠিক আইপিএলের `এক্স ফ্যাক্টর`-এর কাছে কিছুটা ম্রিয়মান টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তা হলে ক্রিকেট দুনিয়ার কাছে কোনটা বেশী হিট তা খুঁজতেই বেড়িয়ে পড়লেন আমাদের প্রতিনিধি পার্থ প্রতিম চন্দ্র
----


ক্লাব বনাম দেশ বিতর্কটা ফুটবল দুনিয়ায় বহু চর্চিত। মেসি আসলে বার্সেলোনা নাকি আর্জেন্টিনার তা নিয়ে তো রোজ বিতর্ক চলছে। আসলে বিশ্ব ফুটবল দুনিয়া জুড়ে ক্লাব এতটাই শাসন করে বেড়ায় যেখানে বিশ্বকাপ, কিংবা ইউরো/কোপা আমেরিকা কাপ ছাড়া দেশের কথা মালুমই থাকে না। মেসি, রোনাল্ডোরা ক্লাবের হয়ে খেলে যত টাকা কামান, তার চেয়ে অনেক কমই পান দেশের জার্সি গলিয়ে।
ক্রিকেট বিশ্বে অবশ্য এতদিন এ বিতর্ক ছিল না। বিতর্কটা এল ভারতীয় বোর্ডের `লক্ষ্মীর ভাণ্ডার` আইপিএলের জন্মের পর। এই আইপিএলে মাত্র এক-দেড় মাস ধরে দু`তিন ঘন্টার ক্রিকেট খেলে এতটাকা রোজগার করা গেল যা দেখে ক্রিকেটারদের চোখ গেল টেরিয়ে। আন্তর্জাতিক তারকাদের কথা তো ভুলেই যান যারা সিরিয়াস ক্রিকেটে সবেমাত্র মুখেভাত হয়েছে তারাও বিস্তর টাকা কামাতে শুরু করল। সেই সঙ্গে শুরু হল ক্লাব বনাম দেশ বিতর্ক। গেইলের সঙ্গে ক্যারিবিয়ান বোর্ডের দ্বন্দ্বের অধ্যায়টা তো সেই বিতর্কটা উসকে দিয়েছিল।
আসুন দেখেনি এই বিষয়ে কে কী বলেন---


ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা:রবি শাস্ত্রী, সুনীল গাভাসকররা বলছেন, টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর আইপিএল দুটোই একই ফর্ম্যাটের ক্রিকেট হলেও দুটোই ভিন্ন স্বাদের। দুটোর দর্শকই আলাদা। ইয়ান বোথাম অবশ্য `স্ট্রেট ফরোয়ার্ড`। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন এই অলরাউন্ডার বলছেন, আইপিএল আকর্ষণীয় ঠিকই কিন্তু গোটা ক্রিকেট বিশ্বে এর মাদকতা কম। সেখানে বিশ্বকাপ মানেই দেশের আবেগ। যার জন্য টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে এগিয়ে রাখছেন বোথাম।


বাজার কী বলছে: কোনও প্রতিযোগিতা কতটা সফল তার তুলাযন্ত্র হিসাবে দেখা হয় টিআরপি রিপোর্টকে। এই বিষয়ে আইপিএলের প্রথম তিন সংস্করণের কাছে হেরে গেছে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইপিএলে বলিউড আর বিনোদনের মিশলটা শুধুই ক্রিকেটের বিশ্বকাপকে হারিয়ে দিয়েছিল। এ বিষয়ে বিজ্ঞাপনদাতারাও তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য আইপিএলকেই বেশী পছন্দ করছেন। কারণ আইপিএলে হারের শোকটা কম। বিশ্বকাপে যেমন ভারতের বিদায় মানেই বেশীরভাগ ভারতীয়র কাছেই প্রতিযোগিতার কোনও মানে থাকে না। মানে বিজ্ঞাপনদাতা আর চ্যানেলের কাছে সব সময় ভয় থাকে ভারত বিদায় নিলেই বড় বিনিয়োগ জলে যাবে। আইপিএল সেই ভয় নেই, দেড় মাস ধরে নিশ্চিন্তে চলতে পারে বিজ্ঞাপনের খেলা আর খেলার বিজ্ঞাপন। তবে এটাও ঠিক বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার কাছে শাহরুখ-আম্বানিদের দলের লড়াই এখনও নেহাতই `দুধভাত`।
জয় বাবা আইপিএল: দেশের হয়ে খেলার সুযোগ আর ক`জন সৌভাগ্যবানেরই বা হয়! কিন্তু শাহরুখের নাইট রাইডার্স, মালিয়াদের রয়্যাল, প্রীতির কিংসদের মত গোটা আট দশেক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলার সুযোগ অনেক, টাকাও অনেক। মাত্র কয়েকটা ছয়-চার, কিংবা কয়েক ওভার হাত ঘুরিয়ে বিস্তর প্রচারেও মেলে। ফ্লপ হলে মিডিয়া দাঁত মুখ বেরও করে আসে না, ঠিক যেমনটা হয় দেশের জার্সি পড়লে। তাই " জয় বাবা আইপিএল"!

বিশ্বকাপ বিশ্বকাপই: বিশ্বকাপ মানেই গোটা ক্রিকেট বিশ্বের মিলন। আইপিএলে বিদেশী ক্রিকেটাররা খেলেন ঠিকই, কিন্তু বিশ্বকাপের বিশ্বজয়ের আবহটা থাকে না। তাই অনেকেই বলছেন বিশ্বকাপ বিশ্বকাপই।

ক্রিকেটাররা কী বলছেন: সামনা সামনা যা বলছেন তা এক পেশাদাররা বলে থাকেন। কিন্তু মনের কথা হল পকেটর ওজন বাড়াতে আইপিএলে খেলা, আর আবেগ-নিজেকে উজাড়ের জন্য দেশের হয়ে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা।


আপনার বক্তব্যটা বাকি রয়ে গেল কিন্তু...





First Published: Monday, October 01, 2012, 14:47


comments powered by Disqus