আদালতের নজরদারিতে পঞ্চায়েত ভোটের দাবি অধীরের

রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। তাই আদালতের নজরদারিতে ভোট হওয়া সত্যিই সম্ভবপর কিনা? তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

Updated By: Apr 20, 2018, 12:45 PM IST
আদালতের নজরদারিতে পঞ্চায়েত ভোটের দাবি অধীরের

নিজস্ব প্রতিবেদন : হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে  শেষ হল পঞ্চায়েত মামলার শুনানি। শুক্রবার বিকেল ৪.৩০ মিনিটে পঞ্চায়েত মামলার রায় ঘোষণা করবেন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার। আদালত কী রায় দেয়? সেইদিকে তাকিয়ে এখন সবপক্ষ। এরই মধ্যে এদিন হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের পঞ্চায়েত ভোটের দাবি জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী।

এদিন শুনানি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, সব কিছু আদালতের গোচরে রয়েছে। বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই কাজ করছেন। উল্লেখ্য, ১১ এপ্রিল দেশের শীর্ষ আদালত বিজেপি-র দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে পঞ্চায়েত ইস্যুতে হাইকোর্টকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পঞ্চায়েতের মনোনয়ন জমা দেওয়া সংক্রান্ত বিরোধীদের অভিযোগ, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েও কমিশনের সেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নেওয়া- প্রভৃতি বিভিন্ন ইস্যু খতিয়ে দেখে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

আরও পড়ুন, পঞ্চায়েতে স্থগিতাদেশ বহাল, মনোনয়নের দিন বাড়িয়ে ভুল করেনি কমিশন:হাইকোর্ট

এরপরই ১২ এপ্রিল পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর স্থগিতাদেশ জারি করে সিঙ্গল বেঞ্চ। এই রায় খারিজের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে ফের সিঙ্গল বেঞ্চেই পঞ্চায়েত মামলা ফেরত পাঠায়।

এদিন সিঙ্গল বেঞ্চে শুনানি শেষ হওয়ার পর অধীর চৌধুরী বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে শুক্রবার রায় তাঁদের পক্ষে যাবে বলে আশাবাদী তাঁরা। তাঁদের আশা, বিচারপতি সুব্রত তালুকদার মানুষের ভালো-মন্দ বিচার করেই তাঁর সুচিন্তিত রায় দেবেন। ভোটে সকল মানুষের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করার জন্য হাইকোর্টের কাছে দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্টকে সংবিধান উপেক্ষা করতে বলেনি : কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

পাশাপাশি, এদিন ফের রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তোপ দাগেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা। তিনি সাফ জানান, কমিশনের উপর তাঁদের কোনও ভরসা নেই। বলেন, শাসকদলের চাপে পড়েই কমিশন মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েও তা প্রত্যাহার করে নেয়। তাই এক্ষেত্রে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটের জন্য আদালতের নজরদারিতে নির্বাচন হওয়া বাঞ্ছনীয়।

আরও পড়ুন, আগামিকাল বিকাল ৪.৩০ মিনিটে পঞ্চায়েত মামলার রায়

কিন্তু এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। তাই তার কাজে আদালত আদৌ হস্তক্ষেপ করতে পারে কিনা? আদালতের নজরদারিতে ভোট হওয়া সত্যিই সম্ভবপর কিনা? এই সব প্রশ্নের উত্তরই মিলবে আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৪টেয়।

.