আফজল গুরুর ফাঁসির নিন্দায় পাক প্রস্তাব অগ্রাহ্য লোকসভার

আফজল গুরুর ফাঁসির নিন্দা করে পাক আইনসভায় গৃহীত প্রস্তাব অগ্রাহ্য করল লোকসভা। শাসক-বিরোধী সব পক্ষের সর্বসম্মতিতে প্রস্তাবটি খারিজ হয়ে যায়। সংসদ হামলায় দোষী সাব্যস্ত আফজল গুরুর মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করায় পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা বন্ধের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। এ সবের মধ্যেই শ্রীনগরে সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক পাক নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অবিশ্বাস দূর করতে হবে: পাক বিদেশমন্ত্রী

শ্রীনগরের সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলার পরই ফের জটিল হয়ে উঠল ভারত-পাক সম্পর্ক। নয়াদিল্লি যখন ওই হামলায় পাক মদতের অভিযোগ জোরালো করছে, ঠিক তখনই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন বিদায়ী পাক বিদেশমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার। শেষ সাংবাদিক সম্মেলনে দুই দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করার ওপরই জোর দেন তিনি। যদিও বৃহস্পতিবারই আফজল গুরুর ফাঁসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হয় পাক সংসদে।

আফজলের দেহ হস্তান্তর: লোকসভায় আলোচনার পর সিদ্ধান্ত

আফজল গুরুর পরিবারের দাবি দেহ হস্তান্তরের। কিন্তু তাঁদের সেই পরিবারের দাবিকে খুব একটা আমল দিতে রাজি নয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের মতে, শীঘ্রই এই প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে জম্মু কাশ্মীর সরকারকে তা জানিয়ে দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের মধ্যস্থতায় আফজলের স্ত্রীর বারামুলার ডেপুটি কমিশনরকে পাঠানো চিঠিতে সংসদ ভবন হামলার চক্রীর দেহ হস্তান্তের দাবি জানানো হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং জানান, আফজলের দেহ হস্তান্তরের পার্লামেন্টে আলোচনার পর নেওয়া হবে।

কারফিউ উঠল কাশ্মীরে, ছন্দে ফিরছে উপত্যাকা

সংসদ হানার অভিযুক্ত আফজল গুরুর ফাঁসির এক সপ্তাহের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে কাশ্মীর। কারফিউ তুলে নেওয়া হয়েছে উপত্যাকা থেকে। সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবাও স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়েছে। আজ সকাল থেকেই আবার রাস্তায় বেরিয়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় দোকান ও বাজারও খুলেছে আগের মতোই। আফজলের ফাঁসির প্রতিবাদ দেখাতে গিয়ে গত কয়েকদিনে মোট ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্ততপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন পুলিসের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে।

আবার কারফিউ কাশ্মীরে

নতুন করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ফের কারফিউ জারি হল কাশ্মীর উপত্যাকায়। কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন যেন পাহাড়ে আফজল গুরুর স্মৃতিতে মিছিল করতে না পারে, তাই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসনের তরফে।

আফজলের পরিবারকে তিহারে যাওয়ার অনুমতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

আফজল গুরুর পরিবারকে তাঁর কবর পরিদর্শনের অনুমতি দিল সরকার। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ২০০১-র সংসদ ভবন হানার দোষী আফজল গুরুর কবর দেখতে তিহার জেলে যেতে পারবে তাঁর পরিবার। স্বরাষ্ট্র সচিব আর কে সিং বলেন, "আফজল গুরুর পরিবার যদি এখনই কবরে তাঁদের প্রার্থনা করতে আসতে চান, তাতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।"

চিঠি পেল অফজলের পরিবার

অবশেষে সোপর গ্রামে চিঠি পৌঁছল। কিন্তু যতক্ষণে পৌঁছল ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। আফজল গুরুর ফাঁসির ঠিক দু`দিনের মাথায় তাঁর পরিবার সরকারি চিঠি পেল। এর আগেই ২০০১ সংসদ হামলার অন্যতম অভিযুক্ত আফজলকে তিহারের জেলে ফাঁসি কাঠে ঝোলানো হয়ে গিয়েছে। ফলে শেষ বারের মতো দেখার সুযোগটাও পেল না তাঁর পরিবার।

আফজলকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করানো উচিৎ ছিল, মত ওমর আবদুল্লার

আফজল গুরুর ফাঁসি ইস্যুতে এবার কংগ্রেসের সঙ্গে ন্যাশনাল কনফারেন্সের চাপানউতোর প্রকাশ্যে চলে এল। শনিবারই তিহার জেলে ফাঁসি দেওয়া হয় সংসদ হামলার সাজাপ্রাপ্ত আফজল গুরুকে। মৃত্যুর পর তিহার জেলেই কবর দেওয়া হয় আফজলকে।

শেষ দেখা হল না আফজলের পরিবারের, কারফিউতে স্তব্ধ কাশ্মীর

তিহারের বন্ধ দরজার আড়ালে গতকাল আফজল গুরুর ফাঁসির পর এখন সরকার ও তাঁর পরিবারের মধ্যে শুধুই তোপ দাগার পালা। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার বলছে আফজলের ফাঁসির কথা আগেই জানানো হয়েছিল তাঁর পরিবারকে। অন্যদিকে সরকারের এই দাবি মানতে নারাজ গুরুর পরিবার।