ভোটের জেলাবিন্যাসে সহমত নেই রাজ্য-কমিশনের

কমিশন-রাজ্য বৈঠকের পরেও পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে জটিলতা থেকেই গেল। তৃতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিন পরিবর্তন করলেও, জেলাবিন্যাস নিয়ে পুরনো অবস্থানেই অনড় রাজ্য। একইসঙ্গে হাওড়ায় ভোট সংক্রান্ত সমস্যারও কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি।

পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে দেখা হবে না রাজনৈতিক রং, নির্দেশ কমিশনের

পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে, সভা করার অনুমতি দেওয়ার সময় রাজনৈতিক রং যেন দেখা না হয়। মনোনয়ন পত্র দাখিলের সময় গণ্ডগোলের অভিযোগ পেলেও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। দক্ষিণবঙ্গের আটটি জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমনই নির্দেশ দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সোমবার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা কমিশনের।

সরকার-কমিশন সংঘাত অব্যাহত

পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে সরকার-কমিশন সংঘাত অব্যাহত। জেলাবিন্যাস এবং ১০ জুলাই ভোটের দিন পরিবর্তনের দাবিতে আজ সরকারকে চিঠি পাঠাল কমিশন। রাজ্য সরকার চাইছে, ৯-৪-৪ জেলাবিন্যাসে ভোট করাতে। কিন্তু কমিশনের প্রস্তাব পঞ্চায়েত ভোট হোক ৬-৫-৬, এই জেলাবিন্যাসে।

ভোটের দিন ঘোষণা নিয়ে সংঘাতে রাজ্য-কমিশন

পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে ফের সংঘাতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকার। কমিশনের দেওয়া দিন মেনে আজ রাজ্য সরকার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও জেলা বিন্যাস নিয়ে দু'পক্ষের জটিলতা রয়েই গেছে। সর্বদলীয় বৈঠকে ওঠা বিভিন্ন  প্রস্তাবগুলি বিবেচনার পর চলতি সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি জারি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু কমিশন এখনই তা মানতে নারাজ।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের জট কাটলেও আদালতের পথ বন্ধ করছে না কমিশন

পঞ্চায়েত জটিলতা কাটাতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্য সরকার। সেইসঙ্গেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভোটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল দুই শিবিরেই।

রাজ্যের ৫০% বুথই স্পর্শকাতর

রাজ্যে  ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বুথই স্পর্শকাতর। জেলা শাসক ও পুলিস সুপারদের পাঠানো রিপোর্টে এমন তথ্যই উঠে এসেছে কমিশনের হাতে। সোমবার ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের কাছে স্পর্শকাতর বুথ কতগুলি তা জানতে চায়। পাশপাশি কমিশনকে নির্দেশ দেয় তালিকা তৈরির। এরপরেই জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যেক জেলার কাছে স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জানতে চাওয়া হয় কমিশনের তরফে। সন্ধের মধ্যেই অধিকাংশ জেলা তাদের রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয় কমিশনের দফতরে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বুথেই স্পর্শকাতর বলে জানা যায়। রাজ্যে এই মুহুর্তে বুথের সংখ্যা প্রায় আটান্ন হাজার। আজ এই সমস্ত তথ্যই আদালতে তুলে দেবে কমিশন।

পুরনির্বাচন নিয়ে বৈঠকে রাজ্য-কমিশনের

অবশেষে ১৩টি পুরসভার নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বসল রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশন। এই বৈঠক নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন তিনবার চিঠি দেওয়ার পরও সরকারের তরফে জবাব মেলেনি। একবার বৈঠক বাতিলও হয়ে যায়। ফের গতসপ্তাহে মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠায় কমিশন। এই চিঠির পরই পুরসচিব আজ নির্বাচন কমিশনের দফতরে যান। ১৩টি পুরসভার নির্বাচন এবং বেশ কয়েকটি পুরসভার উপনির্বাচন নিয়ে কমিশনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয় ।  

পঞ্চায়েত ভোটে নতুন জটিলতা

পঞ্চায়েত ভোটের জন্য সিএপিএফ বাহিনী চেয়ে আগেই কমিশনকে চিঠি লিখেছিলেন রাজ্য পুলিসের ডিজি। সিএপিএফ মানে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিস ফোর্স। অথচ রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল জানতেন, সিএপিএফ মানে ক্যালকাটা আর্মড পুলিস ফোর্স। আদালতকেও সে কথা জানিয়েছিলেন তিনি। আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের গেজেট উদ্ধৃত করে কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেনারেলের সেই ভুল ধরিয়ে দেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, জানুয়ারি মাসের গোড়ায় ভোটের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে পরে কেন উল্টোপথে হাঁটল রাজ্য সরকার।

১৫ দিনে পঞ্চায়েত মামলার নিষ্পত্তি, আশ্বাস বিচারপতির

পনেরো দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। আশার কথাটা শুনিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার। তাঁর এজলাসেই চলছে রাজ্য সরকার বনাম রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মামলা।