নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে

নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠল মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। হুগলির জনাইয়ে নির্বাচনী সভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা পঞ্চায়েত ভোটের জন্য আটকে রয়েছে একলক্ষ চাকরি। ভোটের পরই চাকরি দেওয়া হবে। অন্যদিকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডেকে ব্যক্তিগত আক্রমণের ধারা অব্যাহত ছিল এদিনও। মন্ত্রী বেচারাম মান্না কমিশনারের উদ্দেশে কটূক্তি করেন। রাজ্যে প্রথম দফার পঞ্চায়েত নির্বাচন তখনও শেষ হয়নি। এরই মাঝে বৃহস্পতিবার দুপুরে হুগলির চণ্ডীতলায় নির্বাচনী জনসভায় একলক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনী আচরণবিধির তোয়াক্কা না করেই।

পঞ্চায়েত ভোট সুষ্টুভাবে করতে সর্বদল বৈঠকের ডাক কমিশনের

পঞ্চায়েত ভোট যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় তার জন্য আগামী মঙ্গলবার সর্বদল বৈঠকে বসবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তার আগে সোমবার জেলার পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। মঙ্গলবার সর্বদলের পাশাপাশি ডিজি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গেও বৈঠক করবে কমিশন। ৩ এবং ৪ জুলাই জেলাশাসক এবং পুলিস সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। সুপ্রিম কোর্ট পঞ্চায়েত ভোটের জন্য যে সময়সীমা ধার্য করেছে, তার মধ্যে রমজান মাস পড়ছে। রয়েছে উল্টোরথ। এর পাশাপাশি ক্যালেন্ডারের নিয়ম মেনে সেই সময় ভরা বর্ষা চলার কথা। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে ভোটপর্ব নির্বিঘ্নে সারা যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্য সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তে নামছে কমিশন

মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এবার তদন্তে নামছে কমিশন। সিপিআইএম রাজ্য কমিটির অভিযোগ বুধবার বনগাঁর এক সভায় বেশ কিছু প্রকল্পের কথা ঘোষণা করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সেই অভিযোগ তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে জানিয়েছেন। কমিশন তার ভিত্তিতে জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠাচ্ছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে গতকাল রাজ্যপালের গলায় যে উদ্যোগের কথা শোনা গিয়েছিল। তারপর আজই নির্বাচন কমিশনার দিল্লি যান। তবে মীরা পাণ্ডের দাবি নেহাতই ব্যক্তিগত কাজে দিল্লি গেছেন তিনি।

ভোট না হলে দায় রাজ্যেরই, জানিয়ে দিল কমিশন

সময়মতো ভোট না হলে দায় রাজ্য সরকারের। বাহিনী নিয়ে চূড়ান্ত চিঠি দেওয়ার আগের দিন সরকারের ওপর প্রবল চাপ বাড়িয়ে বললেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডে। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছেন নির্বাচন কমিশনার। তাঁর অভিযোগ, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বাহিনী নিয়ে বহুবার তাঁরা রাজ্যকে চিঠি দিয়েছেন । কিন্তু সরকারি তরফে কোনও সহযোগিতা পাননি। বর্তমান বাহিনী সংখ্যা দিয়ে তিনদফায় ভোট করা অসম্ভব। এরই মধ্যে বাহিনী নিয়ে কমিশনের পাঠানো চিঠি রাজ্য ফেরত পাঠানোয় নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজ্যের আচরণে রুষ্ট কমিশন এবার সোজাসুজি রাজ্যসরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাল।