অস্তিত্ব রক্ষার ম্যাচ মেসিদের, সম্মান রক্ষার লড়াই উরুগুয়ের  অস্তিত্ব রক্ষার ম্যাচ মেসিদের, সম্মান রক্ষার লড়াই উরুগুয়ের

বুধবার ভোরে কোপা আমেরিকায় মেগা লড়াই। গ্রুপের ম্যাচে গতবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটা হতেই পারত বার্সেলোনার দুই তারকা মেসি আর সুয়ারেজের দ্বৈরথ। কিন্তু সুয়ারেজ নির্বাসিত থাকায় তা আর হয়ে উঠছে না। কোপায় প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট নষ্ট করেছে আর্জেন্টিনা। ২ গোলে এগিয়ে থেকেও জিততে পারেননি মেসিরা। উরুগুয়ে ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া জেরার্ডো মার্টিনোর দল। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে জামাইকার বিরুদ্ধে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে উরুগুয়েও। তাই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে নামার আগে দুদলই সেরা ছন্দের খোঁজে । 

ম্যান অফ দ্য ম্যাচ মেসি, পুরস্কার নিলেন প্যারাগুয়ের ভালদেজ ম্যান অফ দ্য ম্যাচ মেসি, পুরস্কার নিলেন প্যারাগুয়ের ভালদেজ

দলের খেলায় এতটাই অসন্তুষ্ট ছিলেন যে আর্জেন্টিনা-প্যারাগুয়ে ম্যাচের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার নিতে অস্বীকার করলেন লিওনেল মেসি। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে কোপা আমেরিকার প্রথম ম্যাচে দুগোলে এগিয়ে থেকেও জিততে ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা। ২-২ ম্যাচ শেষ হয়। ম্যাচ শেষের পর উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনা ড্রেসিংরুমে গিয়ে জানান হয় যে ম্যাচের সেরা হয়েছেন মেসি। যদিও ততক্ষণাত উদ্যোক্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয় যে মেসি সেরা ফুটবলারের পুরস্কার গ্রহণ করবেন না। এমনকি আর্জেন্টিনার কোনও ফুটবলারই ম্যাচের সেরা পুরস্কার গ্রহণ করার মত মানসিক অবস্থায় নেই। এই অবস্থায় প্যারাগুয়ের নেলসন ভালদেজকে সেরার পুরস্কার দেন উদ্যোক্তারা।

সুপার সান্ডেতে কোপা অভিযান শুরু মেসিদের, কোপা জয়ই চ্যালেঞ্জ কোচ জেরার্ডো মার্টিনোর    সুপার সান্ডেতে কোপা অভিযান শুরু মেসিদের, কোপা জয়ই চ্যালেঞ্জ কোচ জেরার্ডো মার্টিনোর

রবিবার ভোর রাতে কোপা আমেরিকার অভিযান শুরু করছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মেসিদের প্রতিপক্ষ গতবারের ফাইনালিস্ট প্যারাগুয়ে। ১৯৯৩ সালের পর লাতিন আমেরিকার সেরা টুর্নামেন্টে আর চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি আর্জেন্টিনা। গত বছর ব্রাজিলে ফাইনালে উঠেও বিশ্বসেরা হওয়া হয়নি মারাদোনার দেশ। তাই চিলিতে নতুন উদ্যমে নামতে চাইছে আর্জেন্টিনা। ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনাকে ত্রিমুকুট এনে দেওয়ার পর দেশকে ট্রফি এনে দেওয়ার হাতছানি মেসির সামনে। আর্জেন্টিনীয় সুপারস্টারের স্বপ্নের ফর্ম আশ্বস্থ করছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। তবে শুধু মেসি নন, ডিফেন্সে জাবালেতা, মার্টিন ডেমিচেলিস, মাঝমাঠে মাসচেরানো, আর আক্রমনভাগে সার্গিও অ্যাগুয়েরো আর কার্লোস তেভেজ সমৃদ্ধ আর্জেন্টিনা যথেষ্ট শক্তিশালী দল। জিতে কোপা আমেরিকা অভিযান শুরু করতে মরিয়া মেসিরা। কেননা পরের ম্যাচেই গতবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। মেসিরা এগিয়ে থেকে মাঠে নামলেও বিপক্ষ দলকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ প্যারাগুয়ে। রামোন ডিয়াজের দলে তারকা না থাকলেও দল হিসাবে খেলে মেসিদের চমকে দিতে চাইছে লাতিন আমেরিকার এই দেশটি। আক্রমনভাগে রক সান্তাক্রুজ আর নেলসন ভালদেজ জুটিকে দিয়েই বাজিমাত করতে চাইছে প্যারাগুয়ে।

ইউরোপীয় বডি ফুটবলকে হারিয়ে জয় ল্যাটিন শিল্পের, ত্রিমুকুটের মালিক বার্সা  ইউরোপীয় বডি ফুটবলকে হারিয়ে জয় ল্যাটিন শিল্পের, ত্রিমুকুটের মালিক বার্সা

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতল বার্সেলোনা। ফাইনালে জুভেন্টাসকে হারাল ৩-১ গোলে। লা লিগা, কোপা ডেল রের পর ইউরোপ সেরা হয়ে চলতি মরশুমে ত্রিমুকুট জিতল মেসি, সুয়ারেজ, ইনিয়েস্তা, নেইমাররা। খেলা শুরুর ৪ মিনিটের মধ্যেই গোল পায় বার্সেলোনা। ইভান রাকিটিকের দুরন্ত শটে পরাস্ত হন বুফোঁ। দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটে আলভেরো মোরাতার গোলে সমতা ফেরায় জুভেন্টাস। কার্লস তেভেজের শট আংশিক ভাবে আটকান বার্সেলোনার গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে তের স্তেগান। সেই বল জালে পাঠান মোরাতা। ৬৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পায় বার্সেলোনা। মেসির দুরন্ত শট কোনওমতে আটকান জুভেন্টাসের এলিট গোলরক্ষক বুফোঁ। ফিরতি বল গোলে পাঠান সুয়ারেজ। এরপর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে খেলা জমে উঠলেও গোলের দরজা খুলতে পারেনি জুভেন্টাস। উল্টো দিকে বেশ কয়েকবার গোল করার মত পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বার্সেলোনাও। কিন্তু গোল সংখ্যা বাড়ছিল না। অবশেষে ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে, ইঞ্জুরি টাইমে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন নেইমার। কোচ হিসেবে প্রথম মরশুমেই সফল লুই এনরিকে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ত্রিমুকুট জিতল বার্সেলোনা। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে সুয়ারেজ, মেসিদের হাতে ট্রফি তুলে দেন UEFA সভাপতি মিশেল প্লাতিনি।

ওয়ান টাচ খেলে ডান পা না ছুইয়ে 'বাঁ' পায়ে মেসির ম্যাজিকাল গোল ওয়ান টাচ খেলে ডান পা না ছুইয়ে 'বাঁ' পায়ে মেসির ম্যাজিকাল গোল

এমন এক গোল যা নিয়ে ঝড় উঠছে গোটা বিশ্বে। ফুটবলের মহাতারকারা বলছেন, এই গোল একমাত্র মেসির 'বা' পা থেকেই সম্ভব। কোপা দেল রে কাপের ফাইনাল ম্যাচে ২০ মিনিটের মাথায় মাঝ মাঠ থেকে ৫ জনকে কাটিয়ে ডি বক্স থেকে বা পায়ের ইনসউইং কিক, বারের গা ঘেসে জালে জড়াল বল। গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাড়িয়ে অভিবাদন জানালো একজনকে। সেই একজন আর কেও নন, একমাত্র লিও মেসি। আর এই ভাবেই বার্সেলোনার ১০ নম্বর আরও একবার ঢুকে পড়লেন সোনায় মোড়া ইতিহাসের পাতায়। এল এম টেনের এই গোলের পর, ফুটবল বিশ্ব বলছে সর্বকালের সেরা গোলের মধ্যে এটি একটি। কোপা দেল রেতে এমন গোল না কি এর আগে কেও করেনি। 

মেসি-সুয়ারেজ-নেইমারের 'সেঞ্চুরি' মেসি-সুয়ারেজ-নেইমারের 'সেঞ্চুরি'

২০০৮-২০০৯ মরশুমে ৯৯ টি গোল করে রেকর্ড গড়েছিলেন বার্সেলোনার তিন স্ট্রাইকার মেসি, এটো ও অরি। বার্সার ক্রিফলা স্ট্রাইক ফোর্সের সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন মেসি, সুয়ারেজ ও নেইমার। চলতি মরশুমে গোলের সেঞ্চুরি করে ফেললেন বার্সেলোনার এমএসএন। মেসি,সুয়ারেজ ও নেইমারের ত্রিফলা আক্রমণের সামনে চলতি মরশুমে ভেঙে পড়েছে বহু দল। মঙ্গলবার রাতে বাদ গেল না গেটাফেও। হাফডজন গোলে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে লা লিগার খেতাবী দৌড়ে রিয়াল মাদ্রিদের থেকে আপাতত ৫ পয়েন্টে এগিয়ে গেল ক্যাটালিয়ান্সরা। ম্যাচের ২৮ মিনিটের মধ্যে গোল করে ফেলেন মেসি, সুয়ারেজ ও নেইমার। বার্সার ৪ নম্বর গোলটি করেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জাভি। দ্বিতীয়ার্ধে ফের গোল করেন সুয়ারেজ ও মেসি। চলতি মরশুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সার তিন তারকার গোলের সংখ্যা দাঁড়াল ১০৩।