যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে 'অশোক রুদ্রের উপস্থিতি অবাঞ্ছিত', সুরঞ্জন দাশ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে 'অশোক রুদ্রের উপস্থিতি অবাঞ্ছিত', সুরঞ্জন দাশ

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে থামছে না বিতর্ক। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্রের উপস্থিতি। যেভাবে অশোক রুদ্র তাঁর কাছে এসেছিলেন, সেটা আদৌ বাঞ্ছিত নয়। আজ এই মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য সুরঞ্জন দাশ। গতকালই হঠাত্‍ বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজির হন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্র। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বহিরাগতরাও। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে  উপাচার্যের ঘরে ঢোকেন তাঁরা। সেপ্রসঙ্গেই আজ উপাচার্যের মন্তব্য, এভাবে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসাটা বাঞ্ছিত নয়। তাঁর মন্তব্য, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যেকেউই উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। অশোক রুদ্র জানিয়েছিলেন তিনি সৌজন্য সাক্ষাতে আসছেন। কিন্তু তিনি যেভাবে দলবল নিয়ে এসেছেন, তা মোটেই বাঞ্ছিত নয়। উপাচার্যের আজকের মন্তব্যের জেরে  নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক ।

আজ আচার্য-রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবে যাদবপুরের ৩ ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা আজ আচার্য-রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবে যাদবপুরের ৩ ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা

আচার্য-রাজ্যপালের সঙ্গে আজ দেখা করছেন যাদবপুরের ৩ ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা। সহ-উপাচার্য আশিসস্বরূপ ভার্মা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতিতে আচার্যর মনোনীত প্রতিনিধি বিমল রায়ও রাজভবনে যাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময় জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রভোট করার ব্যাপারে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে একমত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। কিন্তু, পরীক্ষার মরসুমে রাজ্য সরকার ছাত্রভোটে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় রাজ্যপালের দ্বারস্থ হচ্ছে তারা। গতকাল রাতেই রাজ্যপালের কাছ থেকে কর্মসমিতি ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব আসে। সাধারণ সভা করে রাজ্যপালের আলোচনার প্রস্তাব মেনে নেয় ছাত্রছাত্রীরা। এরপরই উঠে যায় অবস্থান। রাজ্যপাল দেখা করতে রাজি হওয়ায় গতকাল ১০ টা নাগাদ ঘেরাও তুলে নেন যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীরা।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন- ঘেরাও তুললেও জারি অবস্থান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন- ঘেরাও তুললেও জারি অবস্থান

ঘেরাও তুললেও অবস্থান তুলবেন না। রাতে বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দেলনরত ছাত্রছাত্রীরা।  তাঁরা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষের মৌখিক কোনও কথায় তাঁরা আস্থা রাখতে পারবেন না। রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকের দিনক্ষণ নির্দিষ্ট না জানানো পর্যন্ত অবস্থান চলবে। তবে ঘেরাও তুলে নিয়ে উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ অন্যদের চলে যেতে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেন তাঁরা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যেতে রাজি হননি উপাচার্যসহ অন্যরা। ছাত্রদের সঙ্গে তাঁরাও রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। আজ বেলা তিনটেয় অরবিন্দ ভবনের সামনে সাংস্কৃতিক কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা।