হীরক জয়ন্তীতে রুপোলি পর্দায় সোনার স্বপ্নগুচ্ছ

এক্সিট ডোর দিয়ে পিল পিল করে বেরোচ্ছে দর্শক। ঘেঁটে যাওয়া কাজল-মাসকারা, স্বপ্নে বিভোর চোখে লেগে থাকা আস্ত বলিউড নিয়ে যেন বেরোলেন সবাই। ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো-তে স্বচক্ষে দেখা ভিড়। করণ জোহর, দিবাকর ব্যানার্জি, জোয়া আখতার, অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালক-চতুষ্টয় যেভাবে অলিগলি, বস্তি, ফুটপাথ, উচ্চমধ্যবিত্তের চার দেওয়াল, শিশুর স্বপ্নের আনাচকানাচ থেকে বলিউডকে কুড়িয়ে এনে কোলাজ বানালেন, এক কথায় অবিস্মরণীয়!

প্রাণজুড়নো মেলডি, "এক্সট্রা ফ্রি" আদিত্য-শ্রদ্ধা

নব্বই সালের আশিকি-র নস্ট্যালজিয়া নিয়েই এ ছবি দেখতে এসেছেন দর্শক। বলিউড ছবির ইকনমি বদলে গিয়েছে। প্রথম শুক্র, শনি, রবিবারে দর্শকসংখ্যাই ঠিক করে দিয়েছে ছবি হিট না ফ্লপ। একটু সময় নিয়ে সোমবার ম্যাটিনি শো দেখতে গিয়ে যা দৃশ্য দেখলাম, ইদানীং প্রায় কোনও ছবিতেই এমনটা দেখিনি। হল কানায় কানায় পূর্ণ।

অস্কার মনোনয়নের সশব্দ দাবিদার

মানুষের কথার স্রোতের তোড়ে যারা শ্রুতিগোচর হয় না, এমন কোনও মানুষ আছে কি, যিনি কোলাহলের পাথর সরিয়ে মুক্ত করে দিতে পারেন তাদের? সকাল থেকে রাত এমন অজস্র শব্দ, যা জীবদ্দশায় আমরা শুনেও শুনতে চাই না। শব্দের পৃথিবীতে সেই বাকি সব শব্দ-ই এ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র। এই সব প্রান্তিক শব্দ যিনি চিনে নিতে পারেন, সেই মানুষটি হলেন প্রোট্যাগনিস্ট। সিনেমার ভাষায় ফলি আর্টিস্ট। এই সব সূক্ষ্ম, প্রায় অননুকরণীয়, প্রান্তিক শব্দগুলি রেকর্ডিং স্টুডিয়োতে যান্ত্রিক উপায়ে অনুকরণ করে চলাই যাঁর উপার্জনের মাধ্যম। যাদের নাম টাইটেল কার্ডে থাকে না। থাকে না সাউন্ড জিজাইনারের জায়গাতেও।

হিম্মত থাকলে শেষ অবধি দেখুন

হেডিংটা হেলাফেলার নয়, বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ। অন্তত আমার তো বার পাঁচেক মনে হয়েছিল নমস্কার ঠুকে উঠে পড়ি। নেহাত রিভিউ করতে এসে মাঝপথে উঠে পড়াটা বেআইনি বলে পারিনি। কাজেই যাঁরা ইতিমধ্যে ছবিটা দেখতে যাব-যাব করছেন, তাঁদের জন্য কয়েকটা স্ট্যাচুটরি ওয়ার্নিং দিয়ে রাখলাম। তার আগে দুচার কথা বলা অবশ্যকর্তব্য।

রোদন-হরষে ভরা বসন্তের লিপি

হৃদয়কে যদি ধরা হয় একসঙ্গে বাঁধা তন্ত্রীর সমন্বয়, তবে সঠিক সুর তোলার জন্য হাত বুলিয়ে ঠিক তারটি খুঁজে বের করে টান দিতে হয়। এই সন্ধানকার্যে অল্প সময় লাগতে বাধ্য। বসন্ত উত্সবে নানা রঙের আবির-মেঘের ফাঁকফোঁকর দিয়ে এক ঝাঁক রঙিন চরিত্র বের করে এনেছেন পরিচালক।

বদলাবদলির উলটপুরাণ, জিও রুদ্র-পরমব্রত জুটি

এমনিই তো কত বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয় রাস্তাঘাটে। অনেকদিনের পরে। বন্ধু কী খবর বল, কতদিন দেখা হয়নি! বোতলবন্দি শ্যাম্পেনের মতো হিসহিস করে বেরোয় চেপে রাখা আবেগ। দুদ্দাড় করে নামে স্মৃতির ঢল, নস্ট্যালজিয়ার প্লাবন।

শরীরী আত্মা, অশরীরী আতঙ্ক

স্বচ্ছ জলে একটি ফোঁটা নীল তরল। মুহূর্তে এদিক-সেদিক হয়ে জলের মধ্যেই সৃষ্টি হল রহস্যময় ত্রিমাত্রিক বিশ্ব। এই দৃশ্যপটেই একে একে আবির্ভূত কলাকুশলীদের নাম। বহুদিন বাদে এমন একটি টেকনিকের ব্যবহার দেখলাম টাইটেল কার্ডে। সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের যোগ্য সঙ্গত দাগ কেটে দেয় মনে।

নারী আর নরম নদী

ভোর রাত থেকে মাথা নিচু করে চন্দন বেটেই চলেছি। চন্দনপিঁড়িতে দুফোঁটা চোখের জল পড়ে গেল কেন জানি না। মিশে গেল লেই হয়ে। হাওয়ায় ভেসে আসছে চাপাকান্নার মৃদু শব্দ। ইতিউতি দীর্ঘশ্বাস। পাথরের বাটিতে আঙুল ডুবিয়ে কপালে ছোঁয়াই সে নারীর। প্রায় সাত ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরেও শিশুর মতো নরম ত্বক! মনেই হল না কোনও প্রাণহীন দেহ ছুঁলাম...কই বরফের মতো ঠান্ডাও তো হয়ে যায়নি! তবে কি এখনও বুকে কান পাতলে শোনা যাবে প্রাণসমুদ্রের শব্দ?

তিক্ত স্মৃতি, নানা পটেকরের অবিস্মরণীয় অভিনয়

ছবির নাম আর পোস্টার দেখলেই স্মৃতি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে যন্ত্রণা, রাগ, প্রতিহিংসার তেতো স্বাদ। ওই অভিশপ্ত দিনে এই-ই তো ছিল বর্তমান নিউজ ক্যামেরার সামনে। জীবন্ত সিনেমার মতো ঘটে চলেছিল সেই নির্বিচার হত্যালীলা। গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া পেরিয়ে তাজ মুম্বইয়ে ঢুকে পড়েছিল পাকিস্তানি দুষ্কৃতীরা।