সিঙ্গুরের জমি মাফিয়াদের নিয়ে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

সিঙ্গুরে জমি মাফিয়াদের কার্যকলাপ নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। একটি জনস্বার্থ মামলায় এই রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তিন সপ্তাহের মধ্যে জেলা ভূমি সংস্কার আধিকারিককে এই রিপোর্ট দিতে হবে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সিঙ্গুরের চণ্ডীতলায় রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে জমি মাফিয়ারা। প্রভাব খাটিয়ে তারা চণ্ডীতলার নিজামপুর, কাপাসরিয়া, বড় কমলাপুরে প্রায় সাড়ে তিলশ বিঘা জমি দখল করেছে । সিঙ্গুরে গাড়ি কারখানার ঠিক বিপরীতে ন্যাশনাল হাইওয়ে সংলগ্ন জমি চলে যাচ্ছে জমি মাফিয়াদের হাতে। অনুমোদন ছাড়াই তৈরি হচ্ছে রাস্তা।  ছাই ফেলে জমি ভরাটের জন্য আশপাশের প্রায় এক হাজার বিঘা তিন ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই অভিযোগ জানিয়েই হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের  হয়। আজ সেই মামলার শুনানিতেই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেয়।

আজ ভোট দেবে বর্ধমান আর সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম

রাজ্য সরকার, নির্বাচন কমিশনের দাবি নির্বিঘ্নেই মিটেছে প্রথম দফার পঞ্চায়েত ভোট। কাল দ্বিতীয় দফা। ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর ও হুগলির মানুষ। ইতিমধ্যেই পৌঁছতে শুরু করেছে ভোট গ্রহণকারী আধিকারিকরা। তিন জেলা থেকেই দিনভর এসেছে উত্তেজনার খবর। মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রশাসনের বিশেষ নজরে রয়েছে বর্ধমান জেলা। ওদিকে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন, দ্বিতীয় দফাতেও কান্দ্রীয় বাহিনীকে কার্যত ঠুঁটো জগন্নাথ করে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক হিংসা সত্ত্বও নির্বিকার রয়েছে প্রশাসন। যে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে রাজ্যে পরিবর্ত হয়েছে। আজ ভোট সেখানে। আদালতের আঙিনায় টানাপোড়েনে এখনও নির্ধারিত হয়নি সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকদের ভাগ্য। নন্দীগ্রাম হারিয়েছে শিল্প স্বপ্ন। রাজ্যে পরিবর্তনের পর কাল প্রথম জনতার রায় দেওয়ার পালা সেখানে।

সিঙ্গুরের জমি ফেরত এক অলীক স্বপ্ন

সরকারে এলেই অনিচ্ছুক চাষী ফেরত পাবে সিঙ্গুরের ৪০০ একর। এমনই প্রতিশ্রুতি ছিল। সরকারে আসার পর অতিক্রান্ত দু`বছর। জমি ফেরত পাওয়া যায়নি। সিঙ্গুর এখন অথৈ জলে। কারোর জমি ফেরত না পেয়ে স্বপ্নভঙ্গ। কারোর আবার শিল্প না হওয়ার যন্ত্রণা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের তরুপের তাস কী ছিল? রাজনীতি নিয়ে যাঁর বিন্দুমাত্র মাথাব্যাথা নেই তিনিও সম্ভবত উত্তরে বলবেন সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম।আর তাই, ২ বছর আগে ক্ষমতায় এসে  ক্যাবিনেটের প্রথম সিদ্ধান্তই ছিল সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এখন জমি ফেরানো বিশ বাঁও জলে। হাইকোর্টে সিঙ্গুর বিল নিয়ে নাস্তানাবুদ হয়েছে সরকার। এখন মামলা সুপ্রিম কোর্টে। শিল্প হবে না কী জমি ফেরত.... সিঙ্গুরের সব আশাই মুখ থুবড়ে পড়েছে।