মামলা প্রত্যাহার বন্দরের, বিদায় নিতে বাধা রইল না এবিজির

এবিজির বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের মামলা প্রত্যাহার করল বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে চুক্তি না মানার কারণে বন্দর থেকে এবিজিকে সরিয়ে দেবার দাবি করে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিল কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট। একত্রিশ অক্টোবর এবিজি কর্তৃপক্ষ নিজেরাই বন্দর ছাড়তে চাইলে এই আবেদন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। হাইকোর্টে বিচারপতি সম্বুদ্ধ চক্রবর্তীর এজলাসে পোর্ট ট্রাস্টের পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আর্জি জানান। সেই আবেদন মঞ্জুর হয়। এর ফলে অনায়াসেই হলদিয়া বন্দর ছেড়ে চলে যেতে পারবে এবিজি। একই সঙ্গে এবিজি চলে যাওয়ার দায়ও নিজের কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলল বন্দর কর্তৃপক্ষ।

টেলিফোনে হুমকি দিচ্ছেন শুভেন্দু: জানিয়েছিলেন বন্দর ম্যানেজার

এবিজির আনা প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগকে কার্যত এবার সত্যি প্রমাণ করল স্বরাষ্ট্রসচিবকে পাঠানো বন্দরের চেয়ারম্যান মণীশ জৈনের একটা চিঠি। এখানেই শেষ নয়, অন্য একটি চিঠিতে বন্দরের এক ম্যানেজারের মনীশ জৈনের কাছে সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে টেলিফোনের হুমকির অভিযোগ ও আনেন। প্রথম চিঠিটি লেখা হয় ১৯ সেপ্টেম্বর। স্বরাষ্ট্রসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো সেই চিঠিতে মণীশ জৈন শ্রমিক অসন্তোষে বিপর্যস্ত বন্দর এলাকার সমস্যার সমাধান করতে প্রশাসনিক সাহাজ্যের অনুরোধ করেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় আইএনটিটিইউসির নেতা শ্যামল আদকের নেতৃত্বে শ্রমিক বিক্ষোভে বন্দরের স্বাভাবিক কাজ ব্যহত হচ্ছে। অভিযোগ, প্রশাসনিক স্তরে এই চিঠির পাওয়ার পরেও সমস্যা মেটানোর কোনও চেষ্টা করা হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে হাইকোর্টে আর্জি এবিজির

শিল্পমহলের আশঙ্কাকে সত্যি করে রাজ্য ছাড়তে চাইল পণ্যখালাসকারী সংস্থা এবিজি। হলদিয়া ছাড়তে চেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে তারা। সেই সঙ্গে হলদিয়া বন্দরের সঙ্গে তাদের চুক্তি খারিজের জন্য, কলকাতা হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে এবিজি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে রাজ্যের শিল্পমূর্তি জোর ধাক্কা খেল। অন্যদিকে অভিযোগ পালটা অভিযোগে হলদিয়ার দুই ও আট নম্বর বার্থে অচলাবস্থা চলছেই। গতকালই মহাকরণে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী হলদিয়ায় কোনও অসন্তোষের খবরকেই পত্রপাঠ উড়িয়ে দেন। এমনকী বন্দরে বিক্ষোভ ও অচলাবস্থার খবরের পিছনে কিছু সংবাদমাধ্যমের দুরভিসন্ধি কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।