ইউরোপীয় বডি ফুটবলকে হারিয়ে জয় ল্যাটিন শিল্পের, ত্রিমুকুটের মালিক বার্সা

ইউরোপীয় বডি ফুটবলকে হারিয়ে জয় ল্যাটিন শিল্পের, ত্রিমুকুটের মালিক বার্সা

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতল বার্সেলোনা। ফাইনালে জুভেন্টাসকে হারাল ৩-১ গোলে। লা লিগা, কোপা ডেল রের পর ইউরোপ সেরা হয়ে চলতি মরশুমে ত্রিমুকুট জিতল মেসি, সুয়ারেজ, ইনিয়েস্তা, নেইমাররা। খেলা শুরুর ৪ মিনিটের মধ্যেই গোল পায় বার্সেলোনা। ইভান রাকিটিকের দুরন্ত শটে পরাস্ত হন বুফোঁ। দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটে আলভেরো মোরাতার গোলে সমতা ফেরায় জুভেন্টাস। কার্লস তেভেজের শট আংশিক ভাবে আটকান বার্সেলোনার গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে তের স্তেগান। সেই বল জালে পাঠান মোরাতা। ৬৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পায় বার্সেলোনা। মেসির দুরন্ত শট কোনওমতে আটকান জুভেন্টাসের এলিট গোলরক্ষক বুফোঁ। ফিরতি বল গোলে পাঠান সুয়ারেজ। এরপর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে খেলা জমে উঠলেও গোলের দরজা খুলতে পারেনি জুভেন্টাস। উল্টো দিকে বেশ কয়েকবার গোল করার মত পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বার্সেলোনাও। কিন্তু গোল সংখ্যা বাড়ছিল না। অবশেষে ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে, ইঞ্জুরি টাইমে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন নেইমার। কোচ হিসেবে প্রথম মরশুমেই সফল লুই এনরিকে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ত্রিমুকুট জিতল বার্সেলোনা। বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে সুয়ারেজ, মেসিদের হাতে ট্রফি তুলে দেন UEFA সভাপতি মিশেল প্লাতিনি।

জিতল বায়ার্ন, ফাইনালে গেল বার্সা  জিতল বায়ার্ন, ফাইনালে গেল বার্সা

মিউনিখে মিরাকেল  হল না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের ফিরতি পর্বে বার্সেলোনাকে হারিয়েও বিদায় নিল বায়ার্ন মিউনিখ। ঘরের মাঠে ৩-২ গোলে জিতেও কাজের কাজ হল না। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ গোলে জিতে তিন বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লুই এনরিকের বার্সা। ন্যু ক্যাম্পে ৩-০ গোলে জেতাটাই বার্সা ও বায়ার্নের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। এলায়েন্স এরিনাতে বায়ার্নকে শুরুতেই এগিয়ে দিয়েছিলেন বেনাটিয়া। তবে প্রথমার্ধেই নেইমারের জোড়া গোলে ক্যাটালিয়ান্সদের ফাইনালের রাস্তা নিশ্চিত হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে লেওয়ানডোস্কির গোলে ম্যাচের স্কোর হয় ২-২। তারপর থমাস মুলারের গোলে জিতলেও ছিটকে গেল বায়ার্ন।

বেলের পাশে নেইমার বেলের পাশে নেইমার

মাঠে কট্টর প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁরা। কিন্তু মাঠের বাইরে গ্যারেথ বেলকে পরামর্শ দিচ্ছেন নেইমার। বেলকে সমালোচনার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দ্বিতীয় মরসুমে কোনও চমকই দেখাতে পারেননি বেল। জুভেন্টাস ম্যাচের পর কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। নেইমারের মতে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সমালোচনায় কান না দিয়ে বেলকে খেলার প্রতি ফোকাস ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন নেইমার। পাশাপাশি লিওনেল মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি। কোর্ডোবার বিরুদ্ধে ম্যাচে নিজে না মেরে নেইমারকে পেনাল্টি মারার সুযোগ দিয়েছিলেন তিনি। এজন্য মেসির কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন বলে জানিয়েছেন নেইমার। অন্যদিকে বার্সেলোনা কর্তাদের কাছে ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার পল পোগবাকে নেওয়ার জন্য দরবার করেছেন ব্রাজিলীয় তারকা।

বার্সার ত্রিফলা বনাম বায়ার্নের তিকিতাকা, ন্যু ক্যাম্পে আজ লড়াই গুরু শিষ্যের বার্সার ত্রিফলা বনাম বায়ার্নের তিকিতাকা, ন্যু ক্যাম্পে আজ লড়াই গুরু শিষ্যের

গুয়ার্দিওলা বনাম এনরিকে। মেসি বনাম মুলার। সুয়ারেজ বনাম সোয়াইনস্টাইগার। বুধবার রাতে বছরের সেরা ম্যাচে ঐতিহাসিক ন্যু ক্যাম্পে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লিগে মুখোমুখি বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখ। ফুটবল বিশ্বের মতে বার্সা-বায়ার্ন দ্বৈরথই এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অঘোষিত ফাইনাল। ক্যাটালিয়ান্স ছাড়ার পর প্রথমবার প্রতিপক্ষের কোচ হিসেবে ন্যু ক্যাম্পে পা রাখছেন গুয়ার্দিওলা। আবেগ দুরে সরিয়ে মর্যাদার ম্যাচে জিততে মরিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ। গুয়ার্দিওলা জমানায় খেলার স্টাইল বদলে ফেলেছেন জার্মান জায়েন্টসরা। গোলের সুনামিতে প্রতিপক্ষদের ভাসিয়ে দিয়েছেন মুলাররা। মেগা লড়াইয়ের আগে কিছুটা চাপে বায়ার্ন। চোটের জন্য মাঠের বাইরে আর্জেন রবেন সহ বেশ কয়েকজন তারকা। ন্যু ক্যাম্পে বার্সার ক্রিফলা আক্রমণ থামানোই বড় চ্যালেঞ্জ দান্তে, বোয়েতাংদের সামনে। অন্যদিকে শেষ ২৮টি ম্যাচের মধ্যে ২৬টিতে জিতে সেমিফাইনালে নামছে এনরিকে ব্রিগেড। বার্সেলোনার বড় শক্তি মেসি, সুয়ারেজ ও নেইমারের দুরন্ত ফর্ম ও বৈচিত্র। ৩ তারকার মেজাজ বায়ার্ন শিবিরের ঘুম কেড়ে নেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। ঘরের মাঠে দ্বৈরথ জিতে ফাইনালের টিকিট পাকা করে ফেলতে চাইছে বার্সেলোনা। অন্যদিকে অ্যাওয়ে ম্যাচে পাসিং ফুটবলের ঝড় তুলে গোল করতে মরিয়া পেপের বায়ার্ন। বার্সায় থাকাকালীন গুয়ার্দিওলার তিকিতাকা ফুটবল সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বায়ার্নেও সেই স্টাইলে খেলে ফুল ফুটিয়েছেন মুলাররা। ২ স্টাইলের  ফুটবলে  এবার  একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার লড়াই শুরু।

মেসি-সুয়ারেজ-নেইমারের 'সেঞ্চুরি' মেসি-সুয়ারেজ-নেইমারের 'সেঞ্চুরি'

২০০৮-২০০৯ মরশুমে ৯৯ টি গোল করে রেকর্ড গড়েছিলেন বার্সেলোনার তিন স্ট্রাইকার মেসি, এটো ও অরি। বার্সার ক্রিফলা স্ট্রাইক ফোর্সের সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন মেসি, সুয়ারেজ ও নেইমার। চলতি মরশুমে গোলের সেঞ্চুরি করে ফেললেন বার্সেলোনার এমএসএন। মেসি,সুয়ারেজ ও নেইমারের ত্রিফলা আক্রমণের সামনে চলতি মরশুমে ভেঙে পড়েছে বহু দল। মঙ্গলবার রাতে বাদ গেল না গেটাফেও। হাফডজন গোলে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে লা লিগার খেতাবী দৌড়ে রিয়াল মাদ্রিদের থেকে আপাতত ৫ পয়েন্টে এগিয়ে গেল ক্যাটালিয়ান্সরা। ম্যাচের ২৮ মিনিটের মধ্যে গোল করে ফেলেন মেসি, সুয়ারেজ ও নেইমার। বার্সার ৪ নম্বর গোলটি করেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জাভি। দ্বিতীয়ার্ধে ফের গোল করেন সুয়ারেজ ও মেসি। চলতি মরশুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সার তিন তারকার গোলের সংখ্যা দাঁড়াল ১০৩।

জাতীয় দলের হয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধানে মেসি, ব্রাজিল ফুটবলের খোলনলচে বদলের প্রস্তাব নেইমারের জাতীয় দলের হয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধানে মেসি, ব্রাজিল ফুটবলের খোলনলচে বদলের প্রস্তাব নেইমারের

বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের হতাশা ভুলে জাতীয় দলের হয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধানে লিওনেল মেসি। উনিশশো নব্বই সালের পর আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে হারলেও,দীর্ঘসময় পর আবার আর্জেন্টিনার জাতীয় দল নিয়ে উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা। আন্তর্জাতিক ফুটবল মঞ্চে আর্জেন্টিনার পুরনো গরিমা ফিরিয়ে আনতে পেরে খুশি মেসি। বিশ্বকাপের হারের পর সমর্থকরা যেভাবে পাশে থেকেছেন,তার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন চারবারের ব্যলন ডি অর জয়ী। আগামী বছর কোপা আমেরিকায় নামছে আর্জেন্টিনা। মেসির অধিনায়কত্বে লাতিন আমেরিকার সেরা টুর্নামেন্টে সেরাটা উজাড় করে দিতে চায় বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টরা।