হেডলির ফোনে নির্দেশ আসত  পাকিস্তান থেকে! হেডলির ফোনে নির্দেশ আসত পাকিস্তান থেকে!

ডেভিড কোলম্যান হেডলির মোবাইলের খুঁটিনাটি তথ্য ভারতকে দিয়েছে আমেরিকার। সোনি এরিকসনের SEK 7701 মডেলের ওই হ্যান্ডসেটটি হেডলিকে দিয়েছিল ISI কর্তা মেজর ইকবাল। ভারতে থাকাকালীন সেই হ্যান্ডসেটে তিনটি নম্বর ব্যবহার করে হেডলি। নম্বরগুলি হল, 9819829221, 9820910814 এবং 39920280935। মোবাইল ক্যামেরা থেকেই মুম্বইয়ে লস্কর টার্গেটগুলির ছবি তোলে ও ভিডিওগ্রাফি করে হেডলি। এই মোবাইলের পাকিস্তান থেকে মেজর ইকবালের নির্দেশ আসত হেডলির কাছে। যদিও, সেই ফোনকলটি নিউ ইয়র্ক থেকে আসছে বলে দেখানো হত। এই তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বই হামলায় ISI-ও লস্করের যোগাযোগ প্রমাণ করা আরও সুবিধাজনক হবে বলে মনে করছে NIA।

মুম্বইয় এখনও লস্করের নিশানায়, হেডলির বয়ানে বিস্ফোরক তথ্য  মুম্বইয় এখনও লস্করের নিশানায়, হেডলির বয়ানে বিস্ফোরক তথ্য

আত্মঘাতী হামলা। নাকি হত্যালীলা চালিয়ে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার প্ল্যান ছিল আজমল কসাভদের? ডেভিড কোলম্যান হেডলির সাক্ষ্য শোনার পর এখন এমন সন্দেহ উঁকি দিচ্ছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মনে। শুনানি চলাকালীন হেডলিকে ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাসের ছবি দেখানো হয়। হেডলি জানায়, সে ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাসের ভিডিওগ্রাফি করে টার্গেট হিসেবে নয়, জঙ্গিদের পালানোর পথ হিসেবে। যদিও, মার্কিন আদালতে হেডলি যে বয়ান দিয়েছিল  তার সঙ্গে এই বয়ানের মিল নেই। সেখানে হেডলি বলে, জঙ্গিরা সমুদ্রপথে ভারতে এসে আমৃত্যু লড়াই চালাবে। লস্করের তরফে তাকে নাকি এমনটাই জানানো হয়।

৩৫ বছরের জেল হল হেডলির

২০০৮- মুম্বই সন্ত্রাস হামলার মূল অভিযুক্ত লস্কর এ তৈবার জঙ্গি ডেভিড কোলম্যান হেডলি দোষী সাব্যস্ত হলেন। শাস্তি হিসাবে হেডলিকে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড দিল মার্কিন আদালত।  তদন্তের কাজে সহায়তা করায় হেডলিকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হল না বলে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জানান। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর শাস্তি ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হতে কিছুটা সময় লাগে। শিকাগো আদালতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হেডলির সাজার মেয়াদ ঘোষণা করা হয়।২৬/১১-র মুম্বই হামলার মূলচক্রীর পঁয়ত্রিশ বছর কারাদন্ডের দাবি জানিয়েছিলেন সরকারি আইনজীবী। এর আগে হেডলির প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা খারিজ করে দেয় ওয়াশিংটন। তদন্তে মার্কিন প্রশাসনকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন হেডলি। আমেরিকায় থেকে অন্য দেশের বিচার প্রক্রিয়ায় উপস্থিত হতেও তার আপত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন।