শোকের সঙ্গে মিশে গেল প্রতিবাদের সুর

বেনজির স্মরণ। মোমবাতির আলোয় নিহত সহকর্মী তাপস চৌধুরীকে স্মরণ করলেন কলকাতা পুলিসের কর্মীরা। বহু প্রতিবাদ আন্দোলনের সাক্ষী মেট্রো চ্যানেলের স্মরণসভায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে হাজির ছিলেন কর্মরত বহু পুলিস কর্মীও। কলকাতা পুলিসের ইতিহাসে এই প্রথমবার।

নিহত পুলিসকর্মীকে বিশেষ শ্রদ্ধার উদ্যোগ প্রাক্তন অফিসারদের

সরেছেন নেতা। কেড়ে নেওয়া হয়েছে সহকর্মীর মৃত্যুর তদন্তের অধিকার। মুখ্যমন্ত্রীর জোড়া ধাক্কায় তলানিতে কলকাতা পুলিসের মনোবল। নগরপালের দায়িত্ব নিয়ে সেই ড্যামেজ কন্ট্রোলেই উদ্যোগী হলেন সুরজিত কর পুরকায়স্থ। যদিও সেই উদ্যোগে ঝিমিয়ে পড়া বাহিনী ঘুরে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে সন্দীহান সবপক্ষই। আর এরমধ্যেই সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে আগামীকাল নিহত পুলিসকর্মীকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানোর উদ্যোগ নিয়েছেন প্রাক্তন অফিসাররা। 

সহকর্মীদের মনোবল ফেরাতে মাঠে নামলেন নগরপাল

কলকাতা পুলিসের দায়িত্ব নিয়েই বাহিনীর ক্ষোভ প্রশমন ও মনোবল ফেরাতে উদ্যোগী হলেন সুরজিত কর পুরকায়স্থ। আজ আলিপুর বডিগার্ড লাইন ও গার্ডেনরিচ থানায় গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। অন্যদিকে, গার্ডেনরিচ কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার সমস্ত অভিযুক্তকেই নিজের হেফাজতে নিয়েছে সিআইডি। যদিও এখনও অধরা অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত মহম্মদ ইকবাল ওরফে মুন্না।

এডিজি বদলির প্রশ্নে সুর নরম রাজ্যের

এডিজি আইনশৃঙ্খলাকে বদলির প্রশ্নে সুর নরম করল রাজ্য সরকার। আজ মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেবেন তাঁরা। রাজ্যের তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ঠিক আগে এডিজি আইনশৃঙ্খলাকে নগরপালের পদে বদলি করে রাজ্য সরকার। বিধি মেনে এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। ফলে কমিশনের কাছে বিধিভঙ্গের অভিযোগ আনে বামেরা। একই দাবি জানিয়ে নয়াদিল্লিতে কমিশনের দ্বারস্থ হয় কংগ্রেসও। কমিশনের সদর দফতরে চিঠি দিচ্চেন এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ।

মুখ্যমন্ত্রীর `বিশেষ` ক্ষতিপূরণের দাবি নস্যাৎ পুলিসমহলের

মুখ্যমন্ত্রীর গার্ডেনরিচে নিহত এসআই তাপস চৌধুরীর পরিবারের জন্য একাধিক ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাপসবাবুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর মুখ্যমন্ত্রী গতকাল জানান, নিহত এসআইয়ের স্ত্রী মিনতি দেবীর জন্য বিশেষ পেনশনের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। কিন্তু পুলিসমহলের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী যেসব সাহায্য ঘোষণা করেছেন, তা এমনিতেই নিহত অফিসারের পরিবারের প্রাপ্য। সেখানে বাড়তি কিছুই নেই।

আইনের দ্বারস্থ হতে পারেন পচনন্দা, বিপাকে সরকার

অপসরণ নিয়ে আইনের দ্বারস্থ হতে পারেন প্রাক্তন পুলিস কমিশনার রঞ্জিত কুমার পচনন্দা। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে এই খবর পাওয়া গেছে। প্রকৃতপক্ষে আইন অনুসারে তাঁকে সরানোর ক্ষেত্রে যে নিয়মাবলী রয়েছে তা মানেনি রাজ্য সরকার। সিপির অপসারণ নিয়ে সিপি-কে পরিবর্তন করতে হলে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপালের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু তা যে নেওয়া হয়নি রাজ্যপালের এই সংক্রান্ত বক্তব্য থেকেই তা স্পষ্ট।

দায়িত্ব গ্রহণ না করে ছুটিতে পচনন্দা

কাজে যোগ না দিয়ে ১৫ দিনের ছুটিতে গেলেন আর কে পচনন্দা। গতকাল, পুলিস কমিশনারের পদ থেকে অপসারণের পর ভেঙে পড়েন তিনি। মহাকরণ সূত্রে খবর, ঘনিষ্ঠ মহলে রাজ্য ছাড়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। এরপরই, ছুটির আবেদন করেন সরকারের কাছে। নতুন পদে যোগ না দিয়ে আপাতত কিছুদিনের জন্য অন্তরালে চলে গেলেন প্রাক্তন নগরপাল।

নগরপাল বদলি: মুখ্যমন্ত্রীর ভিন্ন সুর সুব্রতর গলায়

নগরপাল অপসারণ বিতর্কে ভিন্ন সুর শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী এবং পঞ্চায়েতমন্ত্রীর কথায়। গতকালই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, গার্ডেনরিচ কাণ্ডে ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায়, অ্যাকশন নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। যদিও পঞ্চায়েতমন্ত্রীর বক্তব্য, পচনন্দার বদলির সঙ্গে অন্য কোনও সম্পর্ক নেই। রঞ্জিত পচনন্দাকে কেন নগরপালের পদ থেকে সরানো হল, বৃহস্পতিবার সন্ধেতেই তা জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "অ্যাকশন নিতে দেরি হয়েছে বলে, আমাকে এই অ্যাকশনটা নিতে হয়েছে।"

সংবাদমাধ্যমের প্রশংসায় `বিব্রত` দময়ন্তী, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জানালেন মহাকরণে

পার্ক স্ট্রিট কাণ্ড নিয়ে তুমুল বিতর্কের জেরে সোমবার মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন পুলিস কর্তারা। বৈঠকে ছিলেন পুলিস কমিশনার আর কে পচনন্দা, কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা প্রধান দনয়ন্তী সেন, যুগ্ম পুলিস কমিশনার জাভেদ শামিম। বৈঠকের পর মহাকরণেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দময়ন্তী সেন ও জাভেদ শামিম।