রাজ্য মন্ত্রিসভায় রদবদল, ডানা ছাঁটা হল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের, শিল্প দফতরের দায়িত্ব বর্তালো অমিত মিত্রের উপর, নতুন পূর্তমন্ত্রী শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়

ডানা ছাঁটা হল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। শিল্প দফতর হাতছাড়া হল তাঁর। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এখন থেকে অর্থ দফতরের সঙ্গে শিল্প দফতরের দায়িত্বও সামলাবেন অমিত মিত্র। তবে, তথ্য-প্রযুক্তি ও পরিষদীয় দফতর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাতেই থাকছে। সুদর্শন ঘোষদস্তিদারকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর হাতে ছিল পূর্ত ও পরিবেশ দফতরের ভার। নতুন পূর্তমন্ত্রী হলেন শঙ্কর চক্রবর্তী। পরিবেশ দফতরের দায়িত্ব পেলেন উপেন বিশ্বাস।

গ্রেফতার ঋতব্রত, অধরা প্রেসিডেন্সি কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূলের নেতারা

দিল্লি কাণ্ডে গ্রেফতার হলেন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রেসিডেন্সি কাণ্ডে এখনও মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের নিয়ে নীরব দর্শক কলকাতা পুলিস। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এ রাজ্য নিরপেক্ষতা এখন শুধু মুখের কথা? ৯ এপ্রিল, দিল্লিতে আমিত মিত্রকে হেনস্থার ঘটনায় নিন্দায় সরব হয়েছিলেন সকল অংশের মানুষ। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন ঘটনার সময় যাদের ছবি দেখা গিয়েছিল, তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? ছবিতে দেখতে পাওয়া এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে সোমবার গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিস।

প্রেসিডেন্সির ঘটনা সাজানো: পার্থ চট্টোপাধ্যায়

গতকালই প্রেসিডেন্সি কলেজে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের রাজ্যপাল আশ্বাস দিয়েছিলেন, পুরো ঘটনার পুলিসি তদন্তে কি উঠে আসে সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন তিনি। কিন্তু আশ্বাসের পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের প্রেসিডেন্সি নিয়ে সাজানো ঘটনার তত্ত্ব হাজির করা হল শাসকদলের পক্ষে। এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুরো ঘটনাটা সাজানো কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। তাঁর বক্তব্য বুধবার প্রেসিডেন্সিতে হামলার ঘটনার পিছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেও কোনও `চক্রান্ত` আছে কিনা সে বিষয় তদন্ত করা দরকার। হামলার সময় যে বর্শা ব্যবহার করা হয়েছিল, তা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিভাগ থেকে এনে ক্যাম্পাসে মজুত করা হয়েছিল কিনা, সেই প্রশ্নও তুলেছেন শিল্পমন্ত্রী। দিল্লির ঘটনা থেকে চোখ ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই সিপিআইএম এই সব চক্রান্ত করছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী, আমলাদের রাজভবনে জরুরি তলব উদ্বিগ্ন রাজ্যপালের

এর আগেও ভাঙড়কাণ্ডের সময় রাজ্যের অবস্থার সঙ্গে গুন্ডারাজের তুলনা করে একইভাবে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন রাজ্যপাল। সেবার শিল্পমন্ত্রীকে ছুটে যেতে হয়েছিল রাজভবনে বিরোধ মেটাতে। আর শুক্রবারও সেই একই ছবির পুনরাবৃত্তি হল। পুলিস কমিশনারের বদলিতে তাঁর অসন্তোষ বৃহস্পতিবারই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। আর শুক্রবার রাজ্য পুলিসের ডিজি এবং রাজ্যের মুখ্যসচিবকে তলব করে সেই বিষয়ে প্রায় একঘণ্টা বৈঠক করেন রাজ্যপাল। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রীও এদিন সকালে যান রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে। যদিও সকলের ব্যাখা শুনে রাজ্যপাল কতটা সন্তুষ্ট তা পরিস্কার নয়।