দেবযানী ইস্যুতে সুর নরম দিল্লির, ক্ষমা চাওয়ার দাবি এড়িয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখায় গুরুত্ব

দেবযানী খোবরাগাড়ে ইস্যুতে সুর নরম করল নয়াদিল্লি। প্রথমে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুললেও এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখায় গুরুত্ব দিতে চায় ভারত। এদিকে, বিতর্ক উস্কে দেবযানীর পরিবারের অভিযোগ, পরিচারিকা সঙ্গীতা রিচার্ড সম্ভবত সিআইএ এজেন্ট। দেবযানী খোবরাগাড়েকে ভারতের স্থায়ী মিশনে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ শুরু করল রাষ্ট্রসংঘ। ভারতীয় কূটনীতিককে হেনস্থার অভিযোগ। প্রতিবাদের ঝড় দেশজুড়ে। কড়া অবস্থান নেয় কেন্দ্রও। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কার্যত সংঘাতের পথেই হাঁটতে শুরু করে নয়াদিল্লি। দুঃখপ্রকাশ করেও পাল্টা চাপ দেয় মার্কিন প্রশাসনও। সম্ভবত তার জেরেই শনিবার কিছুটা নরম সুর শোনা গেল কেন্দ্রের গলায়।

দেবযানী গ্রেফতার বিতর্ক: ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনলেন সলমন খুরশিদ, গ্রেফতার আইন মেনেই দাবি মার্কিন অ্যাটর্নি প্রীত ভারারার

একদিকে ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ের হেনস্থার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করলেন মার্কিন বিদেশ সচিব জন কেরি, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননকে ফোন জানালেন, দেবযানীর ঘটনায় ভারত মার্কিন সম্পর্কে কোনওরকম প্রভাব পড়বে না। অন্যদিকে এর কয়েক ঘণ্টা পরেই এই বিষয়ে উল্টোপথে হাঁটলেন মার্কিনি অ্যাটর্নি প্রীত ভারারা। নিজের কৃতকর্মের যথার্থতা নিয়ে গলা তুললেন এবার। জানালেন, মার্কিনি আইন মেনেই দেবযানীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ভারতীয় কূটনীতিককে হাতকড়া পড়ানোর কথাও অস্বীকার করেছেন তিনি। অনান্য বন্দীদের তুলনায় দেবযানীকে অনেক বেশি সম্মান দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। প্রীত জানিয়েছেন দেবযানীকে গ্রেফতারির পর কফি দেওয়া হয়েছিল, দেওয়া হয়েছিল ফোন করার অনুমতিও। দেবযানীকে নগ্ন করে তল্লাশি করার প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন একজন মহিলা মার্শালই সেই কাজে নিযুক্ত ছিলেন। নিজের কাজের সমর্থনে প্রীত জানিয়েছেন ``গরীব, বড়লোক, প্রভাবশালী, আমেরিকান বা আমেরিকান নন, এরকম সবার ক্ষেত্রেই আইন একই রকম।`` গতকাল দেবযানী খোবরাগাড়ের গ্রেফতারের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী। গোটা ঘটনায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন বিদেশমন্ত্রী। এই প্রীত ভাররার নির্দেশেই গ্রেফতার করা হয়েছিল দেবযানীকে। এ সবের মধ্যেই বিদেশমন্ত্রী সলমন খুরশিদ অভিযোগ করেছেন, নিউইয়র্কে ভারতের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবড়াগেড়ে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তাঁকে হেনস্থার ঘটনায় দিল্লির প্রতিক্রিয়া মাত্রাতিরিক্ত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জন কেরির সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

৩৫ বছরের জেল হল হেডলির

২০০৮- মুম্বই সন্ত্রাস হামলার মূল অভিযুক্ত লস্কর এ তৈবার জঙ্গি ডেভিড কোলম্যান হেডলি দোষী সাব্যস্ত হলেন। শাস্তি হিসাবে হেডলিকে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড দিল মার্কিন আদালত।  তদন্তের কাজে সহায়তা করায় হেডলিকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হল না বলে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জানান। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর শাস্তি ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হতে কিছুটা সময় লাগে। শিকাগো আদালতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হেডলির সাজার মেয়াদ ঘোষণা করা হয়।২৬/১১-র মুম্বই হামলার মূলচক্রীর পঁয়ত্রিশ বছর কারাদন্ডের দাবি জানিয়েছিলেন সরকারি আইনজীবী। এর আগে হেডলির প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা খারিজ করে দেয় ওয়াশিংটন। তদন্তে মার্কিন প্রশাসনকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন হেডলি। আমেরিকায় থেকে অন্য দেশের বিচার প্রক্রিয়ায় উপস্থিত হতেও তার আপত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন।