বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা রুপো ব্রোঞ্জে ছয়লাপ ভারত বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা রুপো ব্রোঞ্জে ছয়লাপ ভারত

দোহায় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয়দের জয়জয়কার। চ্যাম্পিয়নশিপে চারটি সোনা জিতেছে ভারত। এরই পাশাপাশি একটি রুপো এবং দুটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে ভারতীয় বক্সাররা। ভারতের হয়ে সোনা জিতেছেন দেবেন্দ্রো সিং, শিবা থাপা, মনিশ কৌশিক এবং মনোজ কুমার। রুপো জিতেছেন গৌরব ভিদুরি। দেশের হয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন মনদীপ জাঙ্গড়া এবং বিকাশ কৃষাণ। অক্টোবরে দোহাতেই হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ। তার আগে দেবেন্দ্রো সিং, মনিশ কৌশিক, মনোজ কুমার, গৌরব ভিদুরি, মনদীপ জাঙ্গড়া, বিকাশ কৃষাণ এবং শিবা থাপাদের নজর কাড়া পারফরম্যান্সে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে পদক পাওয়ার আশা উজ্জ্বল হল ভারতের।

বক্সিংয়ে কালো দিনের শতক পেরিয়ে আজও চ্যাম্পিয়ন  জ্যাক জনসন বক্সিংয়ে কালো দিনের শতক পেরিয়ে আজও চ্যাম্পিয়ন জ্যাক জনসন

প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়নের কাছ থেকে খেতাব ছিনিয়ে নেওয়ার চক্রান্তের শতবর্ষে পা। কী চক্রান্ত? কেন চক্রান্ত? কার বিরুদ্ধে চক্রান্ত? তা জানতে হলে চলে যেতে হবে ফ্ল্যাশব্যাকে। ১৯০৮ সাল। টমি বার্নসকে হারিয়ে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসাবে বিশ্ব হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন জ্যাক জনসন। সেই সময় বর্ণবিদ্বেষ তুঙ্গে ছিল আমেরিকায়। জনসনের খেতাব জয়ের ব্যাপারটি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না সেদেশের সাদা বর্ণের মানুষ। ফলে দাঙ্গা বাঁধে আমেরিকায়। ২৬ জন কৃষ্ণাঙ্গ মারা যান এই দাঙ্গায়। কৃষ্ণাঙ্গ হয়ে বিশ্ব খেতাব জয়ের অপরাধে বক্সিং থেকে নির্বাসিত করে দেওয়া জনসনকে। কিন্তু তাতেও শান্ত হয়নি আমেরিকার বাসিন্দারা। বর্ণবৈষম্যের তীব্রতা আরও ঝাঁঝালো হয় জনসনের বিশ্ব খেতাব জয়ের ৭ বছর পর।  চক্রান্তের  জাল বুনে ১৯১৫  সালে আরেকটি বিশ্ব হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করে শ্বেতাঙ্গরা। সেই লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন জনসন এবং জেস উইলফ্রেড। কিন্তু বক্সিংয়ের সঙ্গে ৭ বছর কোনও যোগাযোগ ছিল না জনসনের। পাশাপাশি জনসনের খেতাব কেড়ে নেওয়ার জন্য কিউবার প্রচন্ড গরমকে হাতিয়ার করা হয়েছিল। তরুণ উইলফ্রেডের কাছে সহজেই হেরে যান ৩৭ বছরের জনসন। ছিনিয়ে নেওয়া হয় তাঁর থেকে খেতাব। কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ার অপরাধে জ্যাক জনসনের বিরুদ্ধে ৭ বছর ধরে যে চক্রান্তের জাল বোনা হয়েছিল তার শতক পার করল গোটা বিশ্ব।