ধোনি ব্রিগেডের বিস্ফোরণে ছত্রাকার অসি বাহিনী

নাশকতা দীর্ণ হায়দরাবাদের মাটিতে জয়ের প্রলেপ লাগিয়ে ধোনি বাহিনী ধূলিসাৎ করল অসি গরিমাকে। চেন্নাই টেস্টের জয়ের উড়ানে আরও দ্রুত গতি সঞ্চারণ করে অন্ধ্রের রাজধানীতে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফির দ্বিতীয় টেস্ট একদিন বাকি থাকতেই এক ইনিংস ও ১৩৫ রানে জিতে নিল টিম ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্লার্ক এন্ড কোম্পানি গুটিয়ে গেল মাত্র ১৩১ রানে। চিপকে একটুর জন্য হাতছড়া হওয়া ইনিংসে জয় সুদে আসলে নিজামের দেশে উসুল করে নিলেন পূজারা, অশ্বিনরা। প্রত্যাশামতই ম্যাচের সেরা চেতেশ্বর পূজারা। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচের ট্রফি হাতে সদ্যবিবাহিত পূজারা বললেন ''আমার বউ এই ম্যাচে আমার পারফরমেন্স নিয়ে খুবই চিন্তায় ছিল।''

পূজারা- মুরলীর জোড়া সেঞ্চুরি, চালকের আসনে ভারত

চেন্নাই টেস্টের রেশ ধরেই অসিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটসম্যান প্রতাপ অব্যাহত। আজ হায়দরাবাদ টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই ধোনি ব্রিগেডের দুই তরুণ তুর্কী, চেতেশ্বর পূজারা ও মুরলী বিজয়ের জোড়া সেঞ্চুরির সৌজন্যে রানের সম্ভাব্য পাহাড় গড়ে তোলার পথে ভারত। চেতেশ্বর পুজারা অপরাজিত আছেন ১৩৩ রানে। তাঁর সঙ্গেই হায়দরাবাদের ২২ গজে রাজত্ব করছেন মুরলী বিজয়। তাঁর সংগ্রহে ১১৮ রান। ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন প্রজন্মের এই দুই প্রতিনিধির ব্যাটের উপর ভর করে টিম ইন্ডিয়া খুব সহজেই টপকে গেছে অস্ট্রেলিয়ার ২৩৭ রানের গণ্ডি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভারতীয়দের স্কোর এক উইকেট খুইয়ে ২৬২।

ভারতের প্রথম ইনিংসের শেষ, পুজারাকে কুর্নিশ ওয়াংখেড়ের

অবশেষে পরিসমাপ্তি ঘটল একটা রূপকথার ইনিংসের। মুম্বই টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সোয়ানের বলে আউট হয়ে চেতেশ্বর পুজারা যখন প্যাভিলিয়নে ফিরে যাচ্ছেন তখন গ্যালারিতে সবাই উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছেন। দর্শকদের সঙ্গেই পুজারাকে অভিবাদন জানাল গোটা ভারতীয় ড্রেসিং রুম। ৩৫০ বলে করা ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন তারার ১৩৫ রানের ইনিংসটিকে কোন সংখ্যার মাপকাঠিতে বিচার করা যাবেনা। বিট্রিশ বোলিং-এর সামনে নুয়ে পড়া টিম ইন্ডিয়ার পৃথিবী বিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপ-এর মেরুদণ্ড টাকে কার্যত একার চেষ্টায় সোজা করে দিয়ে গেলেন তিনি। মূলত তাঁর ভরসার ব্যাটের উপর নির্ভর করেই ভারতের প্রথম ইনিংস শেষ হল ৩২৭ রানে। ব্যর্থ রথী-মহারথীদের ব্যর্থতাকে কিছুটা হলেও ঢেকে দিয়ে তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভারতীয় টেল এন্ডারদের মধ্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করলেন হরভজন সিং। তিনি ভারতীয় স্কোরবোর্ডে যোগ করলেন অতি মূল্যবান ২১ টি রান।

দিনের শেষে ধোনির তৃপ্ত হাসি!

আধারের পিছনে সর্বদা আলো লুকিয়ে থাকে। দীর্ঘ পরিশ্রম, নিঃস্বার্থ সাধনায় সেই আলোর ঠিকানায় কিভাবে পৌচ্ছানো যায়, চেতাশ্বর পুজারা শতরান করে তা দেখিয়ে দিলেন। আর তার যোগ্য সঙ্গ দিলেন `অলরাউন্ডার` রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তিনি ভারতীয় শিবিরের অন্যতম বোলার হলেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ের সময় নিজের ব্যাট শক্ত করে ধরতে কখনও ভয় পান না। গতবছর এই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শতরান করেন তিনি। আর আজ অশ্বিন দিনের শেষে ৬০ রানে অপরাজিত থেকেছেন। চেতাশ্বর পুজারাও অনবদ্য ১১৪ রানে ক্রিজে টিকে রয়েছেন।

টালমাটাল পরিস্থিতি থেকে কার্যত একাহাতে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেটের এই নতুন তারকা। বাইশ গজ পিচে আবহাওয়া যতই খারাপ হোক তাঁর শুরুর মধ্যে যেমন কোনও তাড়াহুড়ো নেই, তেমনি সেঞ্চুরির পথেও একই রকম অবিচল তিনি। স্বভাবত ওয়াংখেড়ের দর্শকরা পুজারার ব্যাটিং-এ `ডিপেন্ডেবলের ছায়া` দেখতে পেলেন। একের পর এক মহারথীরা যখন `শুধু যাওয়া আসা`-র ফর্মুলা মেনে প্যাভিলিয়নমুখী তখন দলকে বাঁচাতে তিন নম্বর স্থানে আসা রক্ষণশীল পুজারা হাল ধরেন। পাহাড় প্রমাণ চাপের মধ্যেও কোনও রকম তাড়াহুড়ো না করে সারাক্ষণ অবিচল, অনড় থেকেছেন পুজারা। তাই কোনও অসুবিধাই হল না নিজের কেরিয়ারের তৃতীয় শতরানটি পুরণ করতে।