বিজয়ার সুর ধোনির ড্রেসিংরুমে

গঙ্গায় ভাসতে চলেছে ধোনির `সিরিজ বদলার` প্রতিশ্রুতি! শুরুটা ভাল হলেও লাঞ্চের পর সবার কেমন যেন প্যাভিলিয়নে ফেরার তাড়াহুড়ো পরে গেল। লাঞ্চের পর প্রথম বলেই সেওয়াগ আউট হন। সয়ানের বলে ব্যাটের ভিতরের কিনারা ছুঁয়ে যেতেই অফ স্টাম্প উইকেটটা নড়ে ওঠে। এক রানের জন্য অর্ধশতরান অধরা থেকে গেল। পুজারার ব্যাটিং অর্ঘ্য প্রথম ইনিংসে ছিল ১৬। দ্বিতীয় ইনিংসে তা আরও কমে দাঁড়াল। মাত্র ৮ রানে তাঁকে ফিরতে হয় প্যাভিলিয়নে। `আসা-যাওয়া` নিয়ম মেনেই গৌতম গম্ভীর ফিরে যান ৪০ রানে। তবে প্রথম ইনিংসে একমাত্র যিনি একটু হলেও ঝলসে উঠেছিলেন, সেই মাস্টার ব্লাস্টার পুরোপুরি বাঁধ ভেঙে দিলেন নিজের উইকেট খুইয়ে। মাত্র ৫ রানে সয়ানের বলে আউট হন। তারপর যুবরাজ ১১ আর অধিনায়ক ধোনি শূণ্য রানে আউট হয়ে নাটকের শেষ পর্দাটা ফেলে দেন।

সম্মান বাঁচানোর লড়াই জারি গৌতম-বীরুর

অবশেষে থামল অশ্বমেধের ঘোড়া। চতুর্থ দিনের শুরুতে ইংরেজবাহিনী ৫২৩ রানের সব উইকেট খুইয়ে প্রথম ইনিংস শেষ করল। গতকালের ক্লান্ত ভারতীয় বোলাররা আজ হঠাত্ই যেন ঝলসে ওঠে। তৃতীয় দিনের শেষে ইংল্যান্ডের রান ছিল ৬ উইকেটে ৫০৯ রান। আজ শুরুতে মাত্র পাঁচ ওভারের মধ্যে ৪টি উইকেট তুলে নেয় ভারতীয় বোলাররা। এত তাড়াতাড়ি উইকেট পড়েযাওয়ায় অধিনায়ক ধোনি বোলারদেরকে প্রশংসা করার থেকে হারার অশনিসংকেতই দেখতে পাচ্ছেন বেশি। ধোনির হাতে বেশি সময় মানে, টিকে থাকার অস্তিত্ব কঠিন। জেতার প্রশ্ন তো দূরে থাক, কুকদের চাপিয়ে দেওয়া ২০৭ রান শোধ করে কতক্ষানি রান সংগ্রহ করতে পারে সেটাই এখন দেখার।

অথৈই জলে ধোনিবাহিনী!

নাহ! ইডেনেও জিতে ফেরা হল না ধোনিবাহিনীর। বদলার সিরিজের স্বপ্ন তো ওয়াংখেড়ের টেস্টের পরেই আরব সাগরে ভেসে গিয়েছিল। দেশের মাটিতে দাপটের সঙ্গে সিরিজ জেতার স্বপ্নটারও আজ গঙ্গার জলে ভেসে গেল। কলকাতা টেস্টের তৃতীয় দিনেও ব্রিটিশদের আধিপত্য বহাল থাকল। দিনের শেষে ইংল্যান্ডের স্কোর ৬ উইকেটে ৫০৯। সপ্তম উইকেটে ইতিমধ্যেই সয়ান আর ম্যাট প্রায়র জুটি ৫০ রানের মজবুত পার্টনারশিপ তৈরি করে ফেলেছেন। তাঁদের হাভভাব দেখে মনেই হচ্ছে না তাঁরা দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে যেতে ইচ্ছুক। অশ্বিন, ওঝারা প্রচুর হাত টাত ঘুরিয়েও ইংল্যান্ড ইনিংসে দাঁড়ি টানতে ব্যর্থ। যদিও আজ লাঞ্চের পর ভারতীয় বোলাররা তুলনামূলক কিছুটা ইতিবাচক বোলিং করলেন। ওঝার ঝুলিতে ৩টে উইকেট। অশ্বিনের শিকার এক। কুক এন্ড কোম্পানি এখনই ১৯০ রানে এগিয়ে।

মোতেরা, ওয়াংখেড়ের পর ইডেনও সাক্ষী থাকল কুকের শতরানের

আবার কামাল করলেন ক্যাপ্টেন কুক। মোতেরা, ওয়াংখেড়ের পর ইডেনও সাক্ষী থাকল তাঁর শতরানের। অধিনায়ক হিসাবে পরপর তিন টেস্টে সেঞ্চুরি করার বিরল কৃতিত্ব লাভ করলেন তিনি। তাঁর অসাধারণ ধারাবাহিক ফর্মের কাছে বড় অসহায় লাগছে ভারতীয় বোলিং বাহিনীকে। মুম্বই জয় করে আসার পর ইডেনেও কুক বাহিনীর ব্যাটিং বিক্রম অব্যাহত। যে পিচ ঘিরে এত বিতর্ক সেখানে এখনও পর্যন্ত ধারহীন লেগেছে জাহির, ইশান্তকে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইংল্যান্ডের স্কোর এক উইকেটে ১৯৪। অধিনায়ক কুক ১৩০ রানে অপরাজিত হয়ে ২২গজে রাজত্ব করছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন জনাথন ট্রট ৫ রানে। অশ্বিনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন আর এক ওপেনার নিক কমটন। অবশ্য তার আগে ব্রিটিশ স্কোরবোর্ডে যোগ করে গেছেন অতি প্রয়োজনীয় ৫৭ রান। এর সঙ্গেই টেস্টে নিজের প্রথম অর্ধশতরানটি সেরে রাখলেন কমটন। অবশ্য কমটনের উইকেটটি তুলে নিলেও অশ্বিন বা ওঝা কেউই তেমন উল্লেখযোগ্য বোলিং করছেন না।

কুক বিক্রমে দিশাহারা ধোনিবাহিনী

অ্যালেস্টার কুকের বৃহস্পতি এখন সত্যিই তুঙ্গে। ভারতের মাটিতে তাঁর শতরানের সিলসিলাতো তিন টেস্ট ধরেই অব্যাহত। আপাতত ইডেনের ২২ গজে ভারতীয় বোলারদের নির্বিষ বোলিং নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করছেন। তার সঙ্গে কুকের কিন্তু টিম ইন্ডিয়ার ফিল্ডিংয়ের কাছেও কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। দু`-দুবার তাঁর ক্যাচ ফেলার দুঃসাহস দেখালেন ভারতীয় ফিল্ডাররা! এই রকম একটা ম্যাচে যেখানে হাতে সাকুল্যে ৩১৬টি রান পুঁজি, সেখানে ব্রিটিশ অধিনায়কের প্রতি ভারতীয়দের `বদান্যতার` কোন কিনারা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। কাল থেকে অবিশ্রান্ত হাত ঘুরিয়েও ভারতীয় শিবিরের প্রাপ্তি মাত্র একটি উইকেট। আজ টেস্টের তৃতীয় দিনে লাঞ্চ পর্যন্ত দুই পেসার আর দুই স্পিনারের প্রচুর কসরত সত্ত্বেও ধোনি এন্ড কোম্পানির প্রাপ্তির ভাঁড়ার সেই শূন্যই। লাঞ্চ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের স্কোর এক উইকেট হারিয়ে ২৯৬। মাঠে ১৬৭ রানে অপরাজিত ক্যাপ্টেন কুক। তাঁর সঙ্গেই ৬৬ রানে ব্যাট করছেন ট্রট।

বিপর্যয়ের মুখে ভারত, লড়াই চালাচ্ছে পুজারা

নিউটনের তৃতীয় সুত্রের মতো ওয়াংখেড়ের প্রসিদ্ধ স্পিনিং পিচ বুমেরাং হয়ে ফিরল ধোনিবাহিনীর কাছেই। আর এই কাজটা এখনও পর্যন্ত একাই সারলেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ অর্থোডক্স স্পিনার মন্টি পানেসর। ম্যাচের সকালে গৌতম গম্ভীর মাত্র ৪ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ম্যাচের প্রথম ওভারে অ্যান্ডারসনের বলে এল বি ডব্লিউ হন। কিন্তু সেওয়াগ ছিলেন পুরানো ছন্দে। তাঁর আজ তেমন কোনও তাড়াহুড়ো ছিল না। একশতম টেস্টে একটা নজিরবিহীন উপহার হয়ত দিতে চেয়েছিলেন ভারতবাসীকে। কিন্তু মন্টির লোভনীয় হাফভলি বলে `নজফগড়ের নবাব` ফ্লিক করতে গিয়ে বোল্ড হলেন। তখন তাঁর রান চারটে বাউন্ডারির বিনিময়ে ৩০। ফিরতে হল মাস্টার ব্লাস্টার সচিনকেও। সেই মন্টি পানেসর! এক অবর্ণনীয় বলে লিটল মাস্টার একটু হলেও থমকালেন। ক্রিকেটের ঈশ্বরকে আউট করতে গেলে ঐশ্বরিক ডেলিভারি দরকার। সেটাই ঘটল ধোনির পচ্ছন্দসই ওয়াংখেরের পিচে। মাত্র ৮ রানে তিনি ফিরলেন। চেতাশ্বর পুজারা এখনও মাটি আঁকড়ে লড়ে যাচ্ছেন। তিনি অর্ধশতরান করে ফের প্রমাণ করে দিলেন ব্যাটিং অর্ডারের গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় স্থানটি শুধুমাত্র তাঁর দখলে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৯ রানে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নমুখী হয়েছেন বিরাট কোহলি। যুবরাজ কোনও রান না করে সোয়ানের বলে আউট হলেন।