সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম নয়, বাম নেতাদের প্রতি অসন্তোষই ২০১১ সালে `পরিবর্তন`-এর মূল কারণ, বলছে সমীক্ষা

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের কারণটা কী? বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রণব বর্ধনের নেতৃত্বে এক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় তারই সন্ধান করেছেন ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের গবেষকরা। তাতে দেখা যাচ্ছে, বহু কথিত সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম নয়, স্থানীয় বাম নেতৃত্বের সম্পর্কে ভোটারদের অসন্তোষই রাজনৈতিক পরিবর্তনের বড় কারণ। স্থানীয় নন এমন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তৃণমূলের তুলনায় বামেদের সম্পর্কে মানুষের অসন্তোষ ছিল অনেক তীব্র। ভোটারদের বয়স, পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি বা টেলিভিশনের মতো মিডিয়ার প্রভাব, খুব একটা উল্লেখযোগ্য নয় বলে ওই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে।

গুলির পরে রাতভর অত্যাচারের অভিযোগ পুলিসের বিরুদ্ধে

নতুন করে অশান্তি এড়াতে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। আর এই পুলিসেই এখন আতঙ্ক এলাকাবাসীর। আতঙ্কিত বাসিন্দারা বলছেন, বুধবার রাতভর তল্লাসির নামে হাউলিয়া মোড় সংলগ্ন দেড় কিলোমিটার এলাকায় পুলিস যা করেছে তাকে তাণ্ডব বললেও কম বলা হয় । বাড়িঘরে এখনও জ্বলজ্বল করছে অত্যাচারের দগদগে চিহ্ন। অভিযোগ, নতুন পাড়া, পিডব্লিউডি মোড়ের বাড়ি বাড়ি ঢুকে পুলিস অত্যাচার চালিয়েছে। মারধর, গালিগালাজ, ভাঙচুর, চলেছে সবই। অশ্রাব্য গালিগালাজের সঙ্গেই চলে শারীরিক নিগ্রহ। পুলিসের ভূমিকায় নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে তেহট্টের মানুষের মধ্যে।

দুবরাজপুরে পুলিস বাড়াবাড়ি করেনি : মমতা

গতকালের দুবরাজপুরের লোবা গ্রামের ঘটনা নিয়ে অবশেষে আজ মহাকরণে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের সঙ্গে এই ঘটনার কোন তুলনাই চলে না বলে তিনি জানালেন। কারণ এর সঙ্গে জোর করে জমি দখলের কোনও সম্পর্ক নেই। তার সঙ্গেই গতকালের ঘটনা নিয়ে তিনি দুঃখপ্রকাশও করেছেন। ঘটনার কথা স্বীকার করে নিলেও তিনি জানিয়েছেন দুবরাজপুরে পুলিস বাড়াবাড়ি করেনি। তিনি জানিয়েছেন তাঁর কাছে আসা খবর অনুযায়ী স্থানীয় পুলিস রাজ্য পুলিসকে না জানিয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও গুলি চালায়নি। তবে ঘটনা যে একটা ঘটেছে সে কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।

ব্রাত্য নন্দীগ্রাম নিয়ে সিনেমাও

রাজরোষের শিকার এক চলচ্চিত্র। শুধু তাই নয় যে চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে নন্দীগ্রামের চোখের জলকে ঘিরে। ছবির নাম নন্দীগ্রামের চোখের পানি। কলকাতা চলচ্চিত্র উত্সবে ঠাঁই হয়নি এই ছবির। আদতে সিনেমায় নন্দীগ্রামে মাওবাদীদের উপস্থিতির কথা বলাতেই নাকি এমন সিদ্ধান্ত। অভিযোগ খোদ চিত্রনাট্যকারের। এই নন্দীগ্রামেই সওয়ার হয়ে মহাকরণের চৌকাঠ ডিঙিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সেই নন্দীগ্রাম যা ক্ষমতাচ্যুত করেছে ৩৪ বছরের বাম শাসনকে। পরিবর্তন এসেছে রাজ্যে। সেই নন্দীগ্রামের মানুষের চোখের জল নিয়েই তৈরি হয়েছে এই সিনেমা। যা সমাদৃত হয়েছে বহু জায়গায়।