গ্রেফতার ঋতব্রত, অধরা প্রেসিডেন্সি কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূলের নেতারা

দিল্লি কাণ্ডে গ্রেফতার হলেন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রেসিডেন্সি কাণ্ডে এখনও মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের নিয়ে নীরব দর্শক কলকাতা পুলিস। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এ রাজ্য নিরপেক্ষতা এখন শুধু মুখের কথা? ৯ এপ্রিল, দিল্লিতে আমিত মিত্রকে হেনস্থার ঘটনায় নিন্দায় সরব হয়েছিলেন সকল অংশের মানুষ। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন ঘটনার সময় যাদের ছবি দেখা গিয়েছিল, তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? ছবিতে দেখতে পাওয়া এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে সোমবার গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিস।

প্রেসিডেন্সি হামলা: জামিন পেলেন পার্থ, তমোঘ্ন

এপ্রিল ১০-এ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ঝান্ডা হাতে শতাব্দী প্রাচীন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। রাজ্য তৃণমুল নেতৃত্ব দলীয় উপস্থিতি অস্বিকার করলেও ২৪ ঘণ্টার হাতে আসা এক্সক্লুসিভ ছবিতে একাধিক তৃণমূল ও টিএমসিপি নেতাকে দেখা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পার্থ বসু। কলকাতা পুরসভার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার সোনালি গুহর স্বামী। তমোঘ্ন ঘোষও ওই দলের পুরভাগেই ছিলেন।

রোজ বদলানো বয়ান এসে থামল `সাজানো` ঘটনায়

প্রেসিডেন্সিতে হামলার পর প্রতিদিনই বদলেছে সরকারের বয়ান। তৃণমূল জড়িত নয় এই দাবির পর সরাসরি দায়ী করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীকে। আক্রমণের হাত থেকে বাদ যাননি উপাচার্য-রেজিস্ট্রারও। আর সবশেষে গতকাল বলে দেওয়া হয়েছে সাজানো ঘটনা।  

প্রেসিডেন্সিতেও `সাজানো` ঘটনার তত্ত্বে শাসকের নিশানায় পাপ্পু

প্রেসিডেন্সি কাণ্ডেও সাজানো ঘটনার তত্ত্ব হাজির করল সরকার। শিল্পমন্ত্রীর মন্তব্য, পুরো ঘটনার পিছনে ষড়যন্ত্র আছে। শুক্রবারই, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী পাপ্পু সিংকে গ্রেফতারের দাবি করেন তিনি। রাতেই পাপ্পু সিংকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। যদিও, ছাত্র এবং কর্তৃপক্ষের আপত্তিতে রাতে তাঁকে থানায় যেতে হয়নি। গতকাল, জোড়াসাঁকো থানার পুলিস তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে, পুলিস পাপ্পুকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ গোপন করেননি শিল্পমন্ত্রী।

প্রেসিডেন্সির ঘটনা সাজানো: পার্থ চট্টোপাধ্যায়

গতকালই প্রেসিডেন্সি কলেজে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের রাজ্যপাল আশ্বাস দিয়েছিলেন, পুরো ঘটনার পুলিসি তদন্তে কি উঠে আসে সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন তিনি। কিন্তু আশ্বাসের পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের প্রেসিডেন্সি নিয়ে সাজানো ঘটনার তত্ত্ব হাজির করা হল শাসকদলের পক্ষে। এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুরো ঘটনাটা সাজানো কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। তাঁর বক্তব্য বুধবার প্রেসিডেন্সিতে হামলার ঘটনার পিছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেও কোনও `চক্রান্ত` আছে কিনা সে বিষয় তদন্ত করা দরকার। হামলার সময় যে বর্শা ব্যবহার করা হয়েছিল, তা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিভাগ থেকে এনে ক্যাম্পাসে মজুত করা হয়েছিল কিনা, সেই প্রশ্নও তুলেছেন শিল্পমন্ত্রী। দিল্লির ঘটনা থেকে চোখ ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই সিপিআইএম এই সব চক্রান্ত করছে বলে জানান তিনি।

শিল্পমন্ত্রীর অভিযোগের জেরে নিরাপত্তারক্ষীকে তিনঘণ্টা জেরা

প্রেসিডেন্সিতে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী সন্তোষ সিং ওরফে পাপ্পুকে জেরা করল পুলিস। জোড়াসাঁকো থানায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাঁকে জেরা করা হয়। তবে পাপ্পুর বিরুদ্ধে সেই অভিযোগকে কার্যত উড়িয়ে দিলেন বিভাগীয় প্রধান সৌমক রায়চৌধুরী। আজ জোড়াসাঁকো থানায় যান প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রবীর দাশগুপ্ত ও বিভাগীয় প্রধান সৌমক রায়চৌধুরী। মূলত পাপ্পু সিংকে গ্রেফতার করা হতে পারে কিনা তারই সত্যতা জানতে থানায় গিয়েছিলেন তাঁরা।

জমি ইস্যুকে গুরুত্ব না দিয়ে সৌগতকে একহাত পার্থর

রাজ্যে শিল্পায়নে জমি কোনও সমস্যা নয়। সমস্যা হল বিনিয়োগ প্রস্তাব না আসাটাই। এই সত্যিটাই কার্যত স্বীকার করে নিলেন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যের জমিনীতি নিয়ে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি।

সরকারের নতুন জমি নীতি, রাজ্যের শিল্প ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে

শিল্পের জন্য জমির ছাড়পত্র পাওয়ার নতুন নীতি লাগু করেছে সরকার। যার জেরে রাজ্যের শিল্প ভবিষ্যৎ আবার একটি বড়সড় ধাক্কা খেতে চলেছে বলে মনে করছে শিল্পমহল। এই নীতির জেরে কোনও শিল্প সংস্থা বিনিয়োগের সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর জমির জন্য প্রায় দেড় বছর অপেক্ষা করতে হবে। প্রশ্ন তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে কোনও শিল্পপতি কি বিনিয়োগের জন্য দেড় বছর অপেক্ষা করবেন?  

শিল্প উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা সৌগতর

শিল্প উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায়। দিনকয়েক আগেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ইস্তফা পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে, এখনও তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেননি মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল সাংসদ মুখ না খুললেও, রাজ্যের নয়া শিল্পনীতির খসড়া নিয়ে মতান্তরের জেরেই তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।