তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত আমেরিকা

ভারী তুষারপাত সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। স্যান্ডির রেশ কাটতে না কাটতেই ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে আমেরিকা। ইতিমধ্যেই নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

স্যান্ডির রেশ না কাটতেই আছড়ে পড়ল এথেনা

ভয়ঙ্কর ঘূর্নিঝড় স্যান্ডির আতঙ্ক এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি আমেরিকাবাসী। তার আগেই মার্কিন মুলুকের উত্তরপূর্বাঞ্চলে ফের থাবা বসালো আরও একটি ঘূর্নিঝড় এথেনা। যার প্রভাবে বুধবার থেকে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি সহ বেশকয়েকটি শহরে শুরু হয় বৃষ্টি। সঙ্গে ঘণ্টায় পঞ্চাশ মাইল বেগে ঝোড়ো হাওয়া। তার জেরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটে উপড়ে ও তার ছিঁড়ে, নিস্প্রদীপ লক্ষাধিক বাড়ি। স্যান্ডির তাণ্ডবে দীর্ঘদিন অন্ধকারে ডুবে থাকার পর যেসব বাড়িতে বিদ্যুত সংযোগ স্থাপিত হয়েছিল, এথেনার থাবার ফের আঁধার নেমে এলো তাঁদের জীবনে। নিউইয়র্কের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শহরে কবে ফের বিদ্যুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সেটা এখন তাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। কারণ বৃষ্টি চলতে থাকায় মেরামতির কাজও করতে পারছেন না কর্মীরা। এঅবস্থায় নিউইয়র্কবাসীর জন্য বিশেষ কমিউনিটি হল খুলেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে কম্বল এবং ব্যাটারি চালিত হিটার দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন অবসানে আসন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সন্ত্রস্ত আমেরিকা

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ। ওবামা ফের মসনদে। কিন্তু খুশির ফাঁকেও চিন্তার ভাঁজ ফের মার্কিনিদের কপালে। স্যান্ডির পর ফের আমেরিকার দিকে ধেয়ে আসছে সামুদ্রিক ঝড়। স্যান্ডির মতো ভয়ঙ্কর না হলেও, সাবধানতায় কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ নিউইয়র্ক এবং নিউ জার্সি প্রশাসন। ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের। নিচু এলাকাগুলিও খালি করা হচ্ছে।

স্যান্ডির রেশ কাটিয়ে এবার লড়াই ঘুরে দাঁড়ানোর

বিপর্যয়ের রেশ কাটিয়ে এবার স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফেরার লড়াই। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত আমেরিকায় সেই চেষ্টাই চলছে যুদ্ধকালীন তত্‍পরতায়। নিউ ইর্য়ক থেকে নিউ জার্সি, ডেলাওয়ার থেকে মেরিল্যান্ড সব জায়গায় একই ছবি। কোথাও চলছে উদ্ধারকাজ, কোথাও চলছে রাস্তা সারাই, জমা জল সরানোর কাজ। বিদ্যুত্‍ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিকের পথে। নিউ ইর্য়কের বিমানবন্দরে শুরু হয়েছে উড়ান। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে যে সময় লাগবে, তা মানছেন সকলেই।

মহাবলীপুরমে আছড়ে পড়ল নীলম

তীব্র হয়ে উঠতে পারে নৃশংস নীলমের তাণ্ডব। এমনই আশঙ্কা করেছেন আবহাওয়াবিদরা। বুধবার বিকেল ৫টা ৩০ নাগাদ তালিমনাড়ুর মহাবলীপুরমের উপকূলে আছড়ে পড়ে নীলম। ইতিমধ্যেই সমুদ্র তিরবর্তী দোকানপাট ভাঙতে শুরু করেছে ঝড়ের দাপটে। তবে এখনও পর্যন্ত বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। উওপকুলবর্তী অঞ্চলে হাওয়ার গতিবেগ ১০০ কিলোমিটার ছাড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২৩টি বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বেশকিছু বাড়ি।

স্যান্ডি বিধ্বস্ত আমেরিকায় মৃত ৪৮

হ্যারিকেন স্যান্ডির তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছে আমেরিকার পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা। ঝড়ের কারণে এখনও পর্যন্ত ৪৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যার মধ্যে নিউ ইয়র্কেই মারা গিয়েছেন ১৮ জন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশের অর্থনৈতিক রাজধানীর যাবতীয় লেনদেন বন্ধ। বন্ধ রাষ্ট্রসংঘের অফিস। জলমগ্ন নিউ ইয়র্কের ভূগর্ভস্থ রেল ব্যবস্থা। বন্ধ শহরের তিনটি প্রধান বিমানবন্দর। দেশজুড়ে বাতিল হয়েছে দেড়হাজার উড়ান।

সাইক্লোন সতর্কতা জারি দক্ষিণ ভারতে

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণে অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির উপকূলবর্তী অঞ্চলে সাইক্লোন সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। চেন্নাইয়ের ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপটি অবস্থান করছে। আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে যে এই নিম্নচাপের ফলে তামিলনাড়ুর উত্তর উপকূল এবং সংলগ্ন অন্ধ্রর দক্ষিণ উপকূল অঞ্চল, নাগাপাট্টিনাম এবং নেলোরের ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভবনা রয়েছে।

আমেরিকার পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ল স্যান্ডি

আমেরিকার উত্তর পূর্ব তটরেখায় আছড়ে পড়ল সুপারস্টর্ম স্যান্ডি। ঝড়ের দাপটে এখনও পর্যন্ত দশ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ঝড়ের দাপটে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক, মেরিল্যান্ড, পেনসিলভ্যানিয়া ও কানেক্টিকাট। প্রবল ঝড় বৃষ্টিতে কার্যত স্তব্ধ আমেরিকার পূর্ব উপকূলের জনজীবন। গ্রাউন্ড জিরো, অ্যাটলান্টিক সিটি সহ অনেকগুলি শহর জলমগ্ন। বিদ্যুৎহীন প্রায় তিন লক্ষ মানুষ।

হারিকেন স্যান্ডির দাপটে বিপর্যস্ত আমেরিকার পূর্ব উপকূল

হারিকেন স্যান্ডির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত আমেরিকার পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকা। প্রবল ঝড়ে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৪৩ জনের। বিপর্যস্ত বিদ্যুত পরিষেবা। ঝড়ে উপড়ে গিয়েছে প্রচুর গাছ। আগেই প্রবল ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জামাইকা আর বাহামাস দ্বীপপুঞ্জ।