বইমেলায় সুনীল কোণঠাসা, মেলাজুড়ে`জাগো বাংলা`

গিল্ডের ঘোষণা ছিল এবারের বইমেলা হবে সুনীলময়। কিন্তু সুনীল গাঙ্গুলিকে নিয়ে একটি বিশেষ স্টল জায়গা পেল মেলার এককোণে। উল্টোদিকে, বিরাট স্টল তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র জাগো বাংলার। সেই স্টলের সামনে বড় জায়গা রয়েছে আড্ডা আর অনুষ্ঠানের জন্য। গিল্ড কর্তৃপক্ষের সাফাই, তৃণমূল শাসক দল। তাই তাঁদের পছন্দমত জায়গা দিতে হয়েছে।

না থেকেও বইমেলা সুনীলময়

তিনমাস আগে অক্টোবরের ভোরে সকলকে বিদায় জানিয়ে দিক শূন্যপুরে চলে গেছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তবু তাঁর উপস্থিতি পাঠকের হৃদয়ে। কলকাতা বইমেলাকেও সুনীল-শূন্য হতে দিল না তাঁর বিপুল সৃষ্টি।

বিতর্ক সঙ্গী করে চলচ্চিত্র উৎসব `বুদ্ধ` হীন

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের শুরুতেই  বিতর্ক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন না পরিচালক বুদ্ধদেব

দাশগুপ্ত। তা নিয়ে শিল্পীমহলে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যদিও পরিচালক নিজে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় একেবারেই ক্ষুব্ধ নন।

তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকারের কাছ থেকে এই শীতল আচরণই আশা করেছিলেন তিনি।

সুনীল আবেগে ভেসে কেঁদে ফেললেন সৌমিত্র

কে বলে তিনি নেই। উত্সবের আলো ফিকে করে এই তো সেদিন চলে গেলেন তিনি। তবু তাঁর ছায়া যেন ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে বাঙালির মননে। তাঁর লেখনীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আমবাঙালির আশৈশব স্মৃতি। আর যাঁরা কাছের, তাঁদের স্মৃতিতে স্বজন হারানোর বেদনা। তাঁরই গড়া বুধসন্ধ্যার আসরে তাঁর কথা বলতে গিয়ে চোখের জল বাঁধ মানলো না সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। পরিপূর্ণ দর্শক আসনেও কোথাও তিনি নেই।

বাঙালির মনের নায়ক নীললোহিতের কথা

নীললোহিত। পাজামা পাঞ্জাবি পরা এক ভবঘুরে বেকার যুবক, দুই প্রজন্ম ধরে বাঙালির আইকন। বোহেমিয়ানিজমের সঙ্গে রোমান্টিসিজমের এমন মিশেল বাংলা সাহিত্যে তুলনাহীন। নীললোহিত চরিত্রটির মতোই লেখক নীললোহিতও অতুলনীয়। আর এখানেই বাংলা গদ্যে সুনীল প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী। 

মেলালেন, তিনি মেলালেন...

তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। যাঁদের দেখা যায় সারাবছর যুযুধান, কবিকে শ্রদ্ধা জানাতে তাঁরা সবাই একসঙ্গে নতমস্তক। রবীন্দ্র সদনে তখন শেষ শয্যায় শায়িত নীললোহিত। কবির মরদেহের সামনে, প্রেক্ষাগৃহের বাইরে - দেখা গেল রাজনীতিবিদদের সৌজন্যের বিরল ছবি।

আজ দিকশূন্যপুরে বিলীন হল নীললোহিতের ডিঙা

মানুষের সঙ্গে জীবনের পরতে পরতে কাটানো অভিজ্ঞতা থেকেই সংগ্রহ করতেন তাঁর অনন্য সাহিত্য, কবিতা সৃষ্টির রসদ। তাঁর শেষ যাত্রায় সেই সাধারণ মানুষের আবেগ যেন ভেঙে পড়ল। বিশিষ্ট সাহিত্যিক তথা কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে, ভালবাসার ঝুলি উজাড় করে দিলেন আজীবন মানুষকে ভালবেসেছেন। চেষ্টা করতেন মানুষের সঙ্গে থাকার। মানুষের সঙ্গে জীবনের পরতে পরতে কাটানো অভিজ্ঞতা থেকেই সংগ্রহ করতেন তাঁর অনন্য সাহিত্য, কবিতা সৃষ্টির রসদ। তাঁর শেষ যাত্রায় সেই সাধারণ মানুষের আবেগ যেন ভেঙে পড়ল। বিশিষ্ট সাহিত্যিক তথা কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ভালবাসার ঝুলি উজাড় করে দিলেন কবির গুনমুগ্ধ পাঠকরা।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলেও

সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রয়ানে শোকস্তদ্ধ রাজনৈতিক মহল। কালজয়ী এই সাহিত্যিকের মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন

করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গদ্য ও পদ্যসাহিত্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য বলে শোকবার্তায় জানিয়েছেন

তিনি। রাজ্যপাল এম কে নারায়ণ নীললোহিতের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (১৯৩৪-২০১২)

 -সুদীপ্ত সেনগুপ্তসাহিত্যে সত্যিকারের বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। প্রথম ভালবাসা ছিল তাঁর কবিতা। গল্প,

কবিতা, উপন্যাস নিয়ে তাঁর বইয়ের সংখ্যা দুশোরও বেশি। আধা-বোহেমিয়ান জীবন যাত্রার সঙ্গে তিনি অবাধে মেলাতে

পেরেছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। দেশ পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেছেন, সাংবাদিকতা করেছেন, জীবনের

শেষ চার বছর সাহিত্য আকাদেমির সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। বাংলা সাহিত্যের পুরো একটি প্রজন্ম সুনীল

গঙ্গোপাধ্যায়কে অভিভাবক হিসাবে পেয়েছে। তাঁর মৃত্যু আক্ষরিক অর্থেই বাংলা সাহিত্যে একটি যুগের অবসান।

দিকশূন্যপুরে যাত্রা করলেন নীললোহিত (১৯৩৪-২০১২)

বাংলা সংস্কৃতির জগতে নবমীর সকালে বিসর্জনের সুর। বাকি 'অর্দ্ধেক জীবন' কাটিয়েও চলে গেলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। আটাত্তর বছরের বর্ণময় জীবনের স্পন্দন স্তব্ধ হয়ে গেল সোমবার  রাত ২টোয়। অবসান ঘটল বাংলা সাহিত্যের একটা উজ্জ্বল অধ্যায়ের। রেখে গেলেন স্ত্রী স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায় পুত্র শৌভিক আর তাঁর বিশাল সাহিত্য সম্ভারকে। পুজোর আনন্দ উত্সবের মধ্যে 'কৃত্তিবাস'-এর সম্পাদকের  প্রয়াণে অগণিত গুণমুগ্ধ পাঠকের মনে বিষাদের ছায়া। আগামিকাল তাঁর শেষকৃত্য। তার জন্য দেশে ফিরছেন তাঁর বস্টন প্রবাসী ছেলে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের দেহ রাখা হয়েছে পিস হাভেনে।