ডিলিট

Update: February 7, 2013 16:30 IST

সপ্তর্ষি সোম

স্ট্রাং-শব্দটায় পিসি থেকে চোখ নামিয়ে ল্যাপটপে চোখ রেখেছিল অরুণ
"শ্রিমি-র সঙ্গে তোমার সম্পর্কটা কী?"
একথার কী উত্তর হয়? জাস্ট দুসেকেন্ড ভেবে অরুণ টাইপ করে-"ভাল, বেশ ভাল, বন্ধুর থেকেও বেশি।"
কাজে মন দেয় অরুণ। কালকের মধ্যেই লেখাটা শেষ করতে হবে। পাক্কা দুশো পাতার রিপোর্ট দিতে হবে বসকে। কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল, ব্যাকগ্রাউন্ড কী? কেন শ্রমিকরা এতটা উত্তেজিত হয়ে পড়ল? গত দশ বছরে যা এই ইউনিটে হয়নি, তার জন্য কর্তৃপক্ষ এতটাই উদগ্রীব যে ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত আসছেন। তাকে দেওয়ার জন্যই তৈরি হচ্ছে এই রিপোর্ট।

স্ট্রাং-আবার
"তোমরা দুজন-দুজনকে চিনেছো?"
মজা লাগে অরুণের। টাইপ করে-"ইয়েস, অফকোর্স। না হলে এতটা গাঢ় হয়?"
কর্পোরেট সেক্টরে কোম্পানি সম্পর্কে যতটা তথ্য বিভিন্ন ধাপে জানানো হয় তার থেকেও বেশি তথ্য পেয়ে গিয়েছিল অনেকেই। আর তার জন্য দায়ী নতুন সফটওয়্যার।
স্ট্রাং-"আমার থেকেও বেশি? কী বলছ? আর ইউ ক্রেজি?"

রেশমি। রেশমি বোস। ১ বছর বাদে আরও বেশি পজেসিভ। প্রথম পরিচয়ের ৩ মাস বাদেও যে নিজের ছবি দিতে অস্বীকার করেছিল। আজ তাঁর পিরিয়ডের আগে পরে নির্দিষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয় প্রোটেকসন ছাড়া সেক্স করা সম্ভব কি না। যত দিন যাচ্ছে পাগলামিটা আরও বাড়ছে। ফেসবুক, টুইটার, নাহলে মোবাইলে মেসেজ দিয়ে অন্তত পঞ্চাশবার। ফোন কল অন্তত দশবার। তারমধ্যে শরীর, মন, প্রাণ সম্পর্কে যেমন খোঁজ নেওয়া থাকে, তেমনই থাকে কনফিডেন্স বা়ডানোর প্রশ্ন। হয়তো কারও সঙ্গে তর্ক বেঁধেছে বিশ্বরূপ সিনেমায় কে বেশি ভাল? রেশমি জানিয়ে দিয়েছে ওমর-রাহুল বোস। উল্টোদিকের দাবি বিশ্বনাথ-কমল হাসান। চ্যালেঞ্জ-এ জিততে হলে রেশমির চাই একটাই। অরুণ কী বলছে? ফেসবুক, মেসেজ, না হলে ফোন। আর তখুনি অরুণকে বলতে হবে, কে বেশি ভাল। উত্তর? সে আরও মজার। অরুণকে আগে জেনে নিতে হবে, রেশমি কেন কমল হাসানের থেকে এই সিনেমায় রাহুল বোসকে বেশি পছন্দ করেছে। ফিল্মের কোন জায়গাটায় রাহুল এগিয়ে, তাই ও বলছে। এসব জানার মধ্যে দিয়েই অরুণ বুঝে যায় উত্তর কী হবে? ব্যস, রেশমির বিন্দাস আনন্দ। আবার ফেসবুক আর মোবাইলের ইনবক্স ভর্তি হয় স্মাইলিতে।

কর্তৃপক্ষ যখন জানতে পারে এই ঘটনা তখনই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আসে একেবারে টপ থেকে। ব্যস। শ্রমিকরাও রেগে আগুন। এভাবে কাউকে ছাঁটাই করা যায় নাকি? তুমুল বিক্ষোভ। অশান্তি। ঝাঁ চকচকে, কেতাদুরস্ত অফিসে যেন একেবারে যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব। কেউ কারও দিকে তাকায় না। কেমন সন্দেহের চোখে দেখে।

রিপোর্টটা প্রায় শেষ করে এনেছে অরুণ। আবার স্ট্রাং-"আমি কিন্তু খুব রেগে যাচ্ছি। তুমি যা তা বলছ। এই শ্রিমিটা কে? ওর প্রোফাইলে তোমার ছবি ভর্তি। কী করে?"

খুট। দরজা খোলে। কাঁধের ওপর থেকে দুহাত গলা হয়ে বুক অবধি এসে জড়িয়ে ধরে। সুগন্ধ জানান দেয় ও-কে। কানের পাশে মুখ। সুড়সুড়ি লাগে কানে। শরীর জাগে। নির্দেশ আসে ঠোঁটটা ফাঁক করো। সুন্দর একটি হাত ঠোঁটে আঙুল বোলায়। অরুণ হাঁ করা মুখের ভেতর একটা কিছু অনুভব করে। জলের গ্লাস আসে ঠোঁটের ফাঁকে। ঢক ঢক করে পুরো জলটা খায় অরুণ। "এবার ঘুমিয়ে পড় । সোনা, তোমার রিপোর্টতো তৈরিই।" সেডেটিভের ঘোরে আস্ত আস্তে ঘুমিয়ে পড়ে অরুণ।

রেশমির এখন এনেক কাজ। শ্রিমি নামের প্রোফাইলটা ডিলিট করা। রেশমির নিজের প্রোফাইলটা ডিলিট করা। পিসি, ল্যাপটপ বন্ধ করা। এমনকী, মোবাইল দুটোকেও সুইচ অফ্ করতে হবে। সফটওয়্যার হ্যাক করার অভিযোগে চাকরি যাওয়ার পর থেকেই মাথাটা আর কাজ করে না অরুণের। ভাবে তার জন্য সব কর্মীরা বিক্ষোভে সামিল হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ চাপে। ওই পারবে এই বিপদ থেকে কোম্পানিকে উদ্ধার করতে। তাই সারাক্ষণ শুধু ব্যস্ত থাকার খেলা। আর রিপোর্ট তৈরি করা। রেশমি রোজ রাতে সবকিছু ডিলিট করে আর ভাবে এই সময়টা যদি ডিলিট করা যায়।






Post Your Comment

Total Comments:3

lekhok ke tv ta dekhai na? uni abar golpo o lekhen naki! jai hok, bes bhalo laglo mitthuk reporter lekha

emon ghotona amar ek bondhu r sthe goteche. lekhok ki take chena?

DELET GOLPO TA DARUN

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।