একাকিত্বের কঠিন সময়ের টিপস

Update: February 7, 2013 23:41 IST

যখন আপনি একা, খুব একা, বড় একা। হয়তো আপনার পছন্দের মানুষটা আপনার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে অথবা আপনায় ছেড়ে চলে গেছে, কিংবা হয়তো আপনি প্রস্তাবই করতে পারলেন না। সব মিলিয়ে আপনি একা। তাহলে এবার...! এই অবস্থার থাকল কিছু টিপস।
দিনগুলো আপনার এখন বড্ড একঘেঁয়ে কাটছে...
১) নতুন বন্ধু তৈরি করুন-- কোনও ওষুধ নয় কোনও ব্যায়াম নয় একজন মানুষই পারে অন্য একজন মানুষকে ভাল রাখতে। আপনার যদি মনে হয় আপনার এই কঠিন সময়টা আপনি ভাল থাকতে চান। তাহলে সব কিছু ছেড়ে নতুন বন্ধু করুন। হয়তো ভাবছেন আমি যেচে বন্ধুত্ব করতে পারি না কিংবা হয়তো ভাবছেন বন্ধু কি আর বলে কয়ে হয়! তাহলে বলব বন্ধুত্ব যেমন বলে কয়ে হয় না এটা সত্যি, তেমনই আবার না বলে কয়ে হয় না এটা তো সত্যি। তা ছাড়া আপনি যেমনই হোন কিন্তু এটা তো মানবেন আপনার হাসি-কান্না-আবাগের কারণ একটা মানুষই। তাহলে ভেবে দেখুন না এই কথাটা।

২) গালে হাত দিয়ে পুরনো কথা ভাবা ছেড়ে দিন-- অতীত যেমন মানুষেক শেখায়, তেমন অন্যদিকে পিছিয়েও দেয়। হতাশ অবস্থায় পুরনো কথা ভাবলে খারাপটাই মাথায় আসে মনোবিদরা সে কথাই বলেন। তাই গালে হাতে দিয়ে অতীত ভেবে সময় নষ্ট নয়। ভাবুন ভবিষ্যতে দারুণ কিছু দিন অপেক্ষা করছে, অতীত থেকে শিক্ষা নেবেন ঠিকই কিন্তু তাই বলে অতীত নিয়ে পরে থাকবেন না।


৩) নিজেকে একা ভাববেন না-- জানেন দেবদাসের সবচেয়ে বড় সমস্যা কি হয়েছিল!
আসলে দেবদাস ভেবেছিল পারো চলে যাওয়ার দুনিয়াটাই ফাঁকা। আপনি কি তাই ভাবছেন।
তাহলে ভুল করছেন পৃথিবীতে যেমন শূণ্য বলে কিছু হয় না। আপনার মনটাও, কবিরা
যাকে হৃদয়পুর বলে সেটাও ফাঁকা থাকে না। কারও কারও না থাকাটা অনুপস্থিতিটা
হয়তো দারুণ শূন্যতা তৈরি করে, কিন্তু প্রকৃতির নিয়মেই সেটা আবার ঠিক হয়ে
যায়। তা ছাড়া মনোবিদরা বলছেন আপাতভাবে যাদের দেখে মনে করছেন এদের জন্য
অনেকে আছে, তারও আসলে একা। মানুষ অনেকটা নিজেই নিজের জন্য থাকে।

৪) জীবনটা এখানেই শেষ নয়--এখানেই জীবনটা শেষ নয়। একটা মিনিট হয় ৬০
সেকেন্ডে, আবার ৬০ মিনিটে হয় একটা ঘণ্টা। এরকম করে ২৪ ঘণ্টায় একটা দিন।
৩০টা দিনে একটা মাস, বারোটা মাসে একটা বছর। তাহলে বুঝছেন তো এই এত বড়
জীবনটায় কত কিছু ঘটতে পারে কত ভাল মুহূর্ত, কত ভাল ক্ষণ তৈরি হতে পারে।
সেটার জন্যই অপেক্ষা করুন।


৫) নিজের জগতটা আরও একটু ভাল করে দেখুন তো, এমন কাউকে মিস করছেন না তো যে
আপনাকে আড়ালে দারুণ ভালবাসে-- অনেক সময় আমরা নিজেদের জগতটা ঠিক মত দেখি
না। মানুষের খুব স্বাভাবিক স্বভাব সামনেরটা না দেখে দূরের দিকে চোখ দেওয়া।
তাই খেয়াল করুন এমন কাউকে হারাচ্ছেন না তো যে আপনায় দারুণ কেয়ার করে, আপনার
সব দুঃখে পাশে থাকে। হতে পারে সেভাবে তাকে আপনি দেখেন না, কিন্তু এবার
দেখুন। বন্ধু যেমন চিনতে হয় বিপদে, তেমন সম্পর্ক চিনতে হয় একাকিত্বের
মুহূর্তে।
মনোবিদদের সঙ্গে কথা বলার প্রতিবেদনটি লিখলেন পার্থ প্রতিম চন্দ্র

Post Your Comment

Total Comments:2

uhhh ai tips gulo sotti amar jonno lekha. thanks writer of the story

darun hoeche tips gulo, sotti valo. thanks 24 ghanta

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।