মুম্বই সন্ত্রাসের তদন্ত রিপোর্ট খারিজ পাক আদালতে

Update: July 17, 2012 16:19 IST

হাফিজ মহম্মদ সইদকে রেহাই দেওয়া হয়েছিল আগেই। এবার ২৬/১১ সন্ত্রাসের তদন্তে নিয়োজিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্টকে `অবৈধ` বলে খারিজ করে কার্যত মুম্বই সন্ত্রাসের নেপথ্যচক্রীদের মুক্তির পথ প্রশস্ত করল রওয়ালপিণ্ডির এক নম্বর সন্ত্রাস দমন আদালত। আর সেই সঙ্গেই নতুন করে প্রশ্ন উঠল, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বিচারবিভাগের দায়বদ্ধতা নিয়ে।

আমেরিকা ও ভারতে ঘুরে বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষার পর পেশ করা ৮ সদস্যের তদন্ত কমিশনের তৈরি রিপোর্টে ২০০৮ সালে নভেম্বরে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানীতে হামলায় দায়ে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার কমান্ডার জাকিউর রহমান লাকভি-সহ মোট ৭ জনকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর সত্যতাকে চ্যালেঞ্জ করে রওয়ালপিণ্ডির সন্ত্রাসদমন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জাকিউর রহমান লাকভি। এদিন বিচারক চৌধুরি হাবিব-উর-রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, মুম্বই সন্ত্রাসের তদন্তে গঠিত কমিশনের রিপোর্ট অবৈধ।

আদালতের মতে, চলতি বছরের মার্চ মাসে মুম্বইতে গিয়ে কমিশনের সদস্যরা ২৬/১১ নাশকতার একমাত্র জীবিত জঙ্গি আজমল কাসভকে জেরা করারও সুযোগ পায়নি। তাই তাজ প্যালেস-নরিম্যান হাউস-ওবেরয় ট্রাইডেন্ট জুড়ে ৬০ ঘণ্টার জঙ্গি তাণ্ডব ও ১৬৭ জনের মৃত্যু সম্পর্কিত তদন্ত রিপোর্টকে কোনওভাবেই বিচার প্রক্রিয়ার অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন করে তদন্ত কমিশন গঠন করে ভারতে পাঠিয়ে অভিযুক্ত কাসভকে জেরার জন্য কূটনৈতিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার পক্ষেও মত প্রকাশ করেছে আদালত। আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত এই মামলার শুনানি মুলতুবি রেখেছেন বিচারক হাবিব-উর-রহমান।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।