পাকিস্তানে অর্থসাহায্য বন্ধ করতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

Update: September 27, 2011 19:34 IST

পাকিস্তানকে যাবতীয় অর্থসাহায্য বন্ধ করতে বিল পেশ হল মার্কিন কংগ্রেসে । প্রস্তাবটি এনেছেন টেক্সাসের কংগ্রেস সদস্য টেড পো । তাঁর দাবি ,অ্যাবটাবাদে লাদেনের মৃত্যুর পর থেকেই পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে । বিলে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার আমেরিকা থেকে কোটি কোটি ডলার সাহায্য নেয় । আবার যেসব সন্ত্রাসবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে তত্‍পর তাদের মদত যোগায় । পাকিস্তান সরকার আমেরিকার সঙ্গে দ্বিচারিতা এবং শঠতা করছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে ওই প্রস্তাবে ।
দু সপ্তাহ আগে কাবুলের মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তালিবান জঙ্গিরা । আক্রান্ত হয়েছে নেটোর সদর দফতর । মার্কিন গোয়েন্দারা ওই নাশকতার জন্য জঙ্গি নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানিকে দায়ী করছেন । তাদের দাবি,দূতাবাসে হামলা চালানোর সময় সন্ত্রাসবাদীরা টেলিফোনে কথা বলেছে । সেই টেলিফোনগুলির সূত্র ধরেই পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইকে কাঠগড়ায় তুলেছে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন । আমেরিকার জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান মাইর মুলেনের দাবি,জঙ্গি গোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে আইএসআইয়ের । কাবুলের নাশকতার সময় জঙ্গিরা পাক গোয়েন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত কথাও বলেছে ইসলামাবাদের সন্ত্রাসবাদদমন বিশেষজ্ঞ আগা মাসুদ হুসেনের পাল্টা দাবি সিরাজ হাক্কানি তো পাকিস্তানেই নেই । তাহলে পাকিস্তান সরকার তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে ।

নেভি সিলসদের ঝটিকা অভিযানে ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর থেকেই তিক্ত হচ্ছিল পাক-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক । মার্কিন গোয়েন্দাদের একাংশের সন্দেহ,অ্যাবটাবাদে সৌদি সন্ত্রাসবাদীর গোপন ডেরার কথা পাক সেনাবাহিনী জানত । বস্তুত পাক প্রশাসনের কোনও কোনও শীর্ষ কর্তার মদতেই এতদিন লাদেনের উপস্থিতি গোপন রাখা হয়েছিল বলেও মনে করেন তাঁরা । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক পাকিস্তানের বহু নাগরিকেরও চক্ষুশূল । দুই রাষ্ট্রের চাপান-উতোরের সুবাদে ইসলামাবাদ ,করাচিতে ফের ছড়াতে শুরু করেছে অন্ধ মার্কিন বিদ্বেষ ।পাকিস্তান সরকারকে যাবতীয় অর্থসাহায্য বন্ধ করতে একটি বিল পেশ হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।