সমাধি থেকে তোলা হল আরাফাতের দেহ

Last Updated: Tuesday, November 27, 2012 - 21:24

কেটে গেছে আটটা বছর। তাঁর মৃত্যু নিয়ে আজও জল্পনা-কল্পনা শেষ হয়নি। তাঁর মৃত্যু রহস্যের সত্য উদ্‌ঘাটন করতে সমাধিস্থল থেকে তোলা হল। তিনি ইয়াসির আরাফাত। বিশ্বে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপ্রধানদের তালিকা উপরের দিকে যাঁর নাম রাখা হয়। আরাফাতকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় অবস্থিত সমাধি থেকে তার দেহাবশেষ উত্তোলন করা হলো কড়া নিরাপত্তায় স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় আরাফাতের দেহাবশেষ উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। গোটা বিশ্বের নজর তখন জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি মোহাম্মদ হোসাইন ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের কাছে মুকাতার প্রেসিডেন্সিয়াল বাগানে। এখানেই শায়িত অবস্থায় কবরের তলায় রাখা আরাফাতের দেহ।
আরাফাত ২০০৪ সালে ফ্রান্সের এক মিলিটারি হাসপাতালে মারা যান। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চিকিৎসকেরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি। কিন্তু তার পোশাকসহ ব্যবহার্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয় পদার্থ পলোনিয়াম ধরা পড়ার পর ফরাসি পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। কখনও কখনও গুজব ওঠে এইডসের জন্য তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যু সাধারণ শরীর অসুস্থতার জন্য যে হয়নি এটা অনেকখানি সুস্পষ্ট হতে থাকে সুইস বিশেষজ্ঞদের তদন্তে। তাঁরা তদন্ত করে খুঁজে পেয়েছেন তাঁর ব্যবহৃত পোশাক ও ট্রুথব্রাশ থেকে রেডিওঅ্যাকটিভ পোলোনিয়াম ২১০। তারপরেই ফ্রান্স কতৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে দেয় মার্ডার কেস হিসাবে।
তাঁর স্ত্রী সুহা-ও মনে করেন আরাফতকে হত্যা করা হয়েছে। সবকিছুর পিছনে ইজরায়েলের যে হাত রয়েছে এটা অনেকেই মনে করছেন, কারণ প্যালেস্তাইন লিবারেসন সংস্থার নায়ক ইয়াসের আরাফতকে তাঁরা বন্দি করে রাখেন। তারপরই তিনি অসুস্থ হন। বিশেষজ্ঞরা জানান, কোথাও কোথাও ওই পদার্থের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি এবং এটি কোনো প্রাকৃতিক উপায়ে আসার কথা নয়। এ বিষয়ে আরাফাতের স্ত্রী সুহা আরাফাত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের একটি আদালতে গত জুলাই মাসে একটি মামলা করেন।
ফ্রান্স, রাশিয়া ও সুইজারল্যান্ডের সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলের উপস্থিতিতে আরাফাতের দেহাবশেষের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে পুরোপুরি সামরিক মর্যাদায় তার দেহাবশেষ পুনরায় সমাধিস্থ করার কথা।



First Published: Wednesday, November 28, 2012 - 11:21


comments powered by Disqus