মুশারফের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ প্রাক্তন সহকর্মীর

Update: February 2, 2013 08:59 IST

উনিশশো নিরানব্বই সালের মার্চে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন পরভেজ মুশারফ। তত্‍কালীন পাক সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন পাক সেনার অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আশফাক হুসেন। তাঁর লেখা বই `উইটনেস টু ব্লান্ডার`-এ কার্গিল যুদ্ধের জন্যও পরভেজ মুশারফকে দায়ী করেছেন তিনি। কার্গিল নিয়ে প্রাক্তন আইএসআই কর্তার পর আশফাক হুসেনের এই অভিযোগে চাপে পরভেজ মুশারফ। একই সঙ্গে এই ইস্যুতে ইসলামাবাদও প্রবল অস্বস্তিতে।

কার্গিল যুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না পরভেজ মুশারফের। সম্প্রতি প্রাক্তন আইএসআই কর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল শাহিদ আজিজ কার্গিল কাণ্ডের জন্য মুশারফকেই কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। জবাবে টেলিভিশনে চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাতকারে কার্গিল অভিযানকে পাক সেনাবাহিনীর বড়সর সাফল্য বলে দাবি করেন পরভেজ মুশারফ। কিন্তু এবার নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করে রাত কাটানোর মত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পরভেজ মুশারফের বিরুদ্ধে। অভিযোগ তুলেছেন অবসরপ্রাপ্ত পাক সেনাকর্তা কর্নেল আশফাক হুসেন। কার্গিল যুদ্ধের সময় তিনি পাক সেনার প্রচার বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তাঁর লেখা বই,  `উইটনেস টু ব্লান্ডার`-এ হুসেনের দাবি, ১৯৯৯-এর ২৮ মার্চ হেলিকপ্টারে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ১১ কিলোমিটার দুরত্বে জাকরিয়া মুস্তাকর নামে একটি জায়গায় গিয়েছিলেন পরভেজ মুশারফ। তত্‍কালীন পাক সেনাপ্রধানের সঙ্গে ছিলেন কর্নেল আমজাদ সাব্বির।

উইটনেস টু ব্লান্ডার`-এ হুসেন আরও জানিয়েছেন, কার্গিলের কাণ্ডে সুচনা হয়েছিল ১৯৯৮-এর ১৮ ডিসেম্বর। ওইদিন ক্যাপ্টেন নাদিম, ক্যাপ্টেন আলি এবং হাবিলদার লালক জান নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিল রেকি করতে। তত্‍কালীন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে কার্গিল অভিযানের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হয় ১৯৯৯-এর ১৭ মে। সম্প্রতি প্রাক্তন আইএসআই কর্তা শাহিদ আজিজ অভিযোগ করেছিলেন কার্গিল যুদ্ধে মাত্র চার জন পাক জেনারেল ছাড়া গোটা সেনাবাহিনীকেই মুশারফ অন্ধকারে রেখেছিলেন। তাঁর বইতে আশফাক হুসেন দাবি করেছেন, মেজর জেনারেল জাভেদ হাসান, জেনারেল মেহমুদ এবং জেনারেল আজিজ, এই তিন পাক সেনাকর্তা কার্গিলে হানাদারির মুল চক্রী। তাদের ছকে সম্মতি দিয়েছিলেন মুশারফ।

প্রাক্তন আইএসআই কর্তা শাহিজ আজিজের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে মুখ খুলে কার্গিলে হানাদারি পাক সেনার অন্যতম বড় সাফল্য বলে মন্তব্য করেছেন পরভেজ মুশারফ। তাঁর এই স্বীকারোক্তি ইসলামাবাদের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। কিন্তু পাক সেনারই এক কর্নেল প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণরেখায় অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলেছেন। ফলে ইসলামাবাদের অস্বস্তির পাশাপাশি ভারত-পাক সম্পর্কে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কাও করছে কূটনৈতিক মহল।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।