অশান্তির আগুনে পুড়ছে বাংলাদেশ

Update: February 7, 2013 09:40 IST

অশান্ত বাংলাদেশে গত দু`দিনে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। একাত্তরের যুদ্ধপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে হিংসাত্মক আন্দোলনে নেমেছে জামাত-এ-ইসলামি। দেশজুড়ে বনধের ডাক দিয়েছে তারা। শুরু হয়েছে পাল্টা আন্দোলনও। ঢাকার শাহবাগ স্কোয়ারে সেই আন্দোলনে পাশে দাঁড়িয়েছেন বুদ্ধিজীবীরা। সমর্থন করছে আওয়ামি লিগও।

জামাত-এ-ইসলামি নেতা আবদুল কাদেরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশের পর থেকেই অশান্তির আগুনে পুড়ছে বাংলাদেশ। একাধিক জেলায় পুলিসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে জামাত-এ-ইসলামির সমর্থকেরা। কাদের মোল্লার মামলার রায়দানের দিন ঘোষণার পরই মঙ্গলবার হরতালের ডাক দেয় জামাত-এ-ইসলামি। তখন থেকেই মিছিল, অবরোধ, সংঘর্ষে উত্তপ্ত ছিল বাংলাদেশ। বিভিন্ন জায়গায় জামাত-এ-ইসলামি সমর্থকদের সঙ্গে পুলিসের সংঘর্ষ হয়েছে। বাস, গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হয়েছে অবাধে ভাঙচুর।

বুধবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। আশান্তির জেরে ঢাকায় আধাসেনা নামাতে হয়েছে। চট্টগ্রামে পরিস্থিতি সবথেকে উদ্বেগজনক। ঢাকা এবং খুলনায় পুলিসকে লক্ষ্য করে বোমা ছুঁড়েছে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রবার বুলেট ছুঁড়েছে পুলিস। ফাটানো হয়েছে কাঁদানে গ্যাসের শেল। কিন্তু, তাতেও দমেনি বিক্ষোভকারীরা। হয়েছে পাল্টা বিক্ষোভও। আবদুল কাদেরের কঠোরতর শাস্তির দাবিতে ঢাকায় মিছিল করেন বহু মানুষ। জামাত-এ-ইসলামির ডাকা বনধকে উপেক্ষা করেই চলে প্রতিবাদ। বিকেলে বার করা হয় মোমবাতি মিছিল। আর এই আন্দোলনে ওরা পাশে পেয়েছেন দেশের তাবড় বুদ্ধিজীবীদের সমর্থন। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের কুশপুতুল এনে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে শাহবাগ স্কোয়ারে। ছাত্র-যুব এবং বুদ্ধিজীবীদের আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগ।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।