অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, জামাত-পুলিস সংঘর্ষে মৃত বেড়ে ৪৮

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জামাত শিবিরের হিংসা আজও অব্যাহত। গতকাল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮। লাগাতার হিংসার জেরে দেশের অন্যান্য জায়গার পরিস্থিতি থমথমে চেহারা নিলেও শাহবাগ স্কোয়ারে স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আন্দোলনে মানুষের যোগদানের বিরাম নেই। যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড ও জামাতের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে শুক্রবার নতুন করে শপথ নিয়েছে শাহবাগ।     

Updated: Mar 1, 2013, 08:54 AM IST

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জামাত শিবিরের হিংসা আজও অব্যাহত। গতকাল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮। লাগাতার হিংসার জেরে দেশের অন্যান্য জায়গার পরিস্থিতি থমথমে চেহারা নিলেও শাহবাগ স্কোয়ারে স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আন্দোলনে মানুষের যোগদানের বিরাম নেই। যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড ও জামাতের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে শুক্রবার নতুন করে শপথ নিয়েছে শাহবাগ।   
বৃহস্পতিবার দেলোয়ার হুসেন সাইদির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পরই হিংসাত্মক আন্দোলন শুরু করে জামাত শিবির। শুক্রবারও দিনভর অব্যাহত ছিল সেই হিংসা। এ দিন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আওয়ামি লিগ সমর্থক এক দোকানদারকে পিটিয়ে খুন করা হয়। বিভিন্ন জায়গায় হামলায় শুক্রবার আরও দুই পুলিসকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে আহত এক পুলিসকর্মী হাসপাতালে মারা গিয়েছেন।
 
বহু জায়গায় জামাত শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামি লিগ সমর্থকরা। আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার চট্টগ্রামের চকবাজারে আচমকাই বিভিন্ন বাড়িতে ভাঙচুর চালাতে শুরু করে ইসলামি ছাত্র শিবিরের সদস্যরা। বাধা দিলে পুলিসকে লক্ষ্য করে হাতবোমা ছোড়া হয়। আহত হন চার পুলিসকর্মী। রাজশাহীতে পুলিসকে লক্ষ্য করে গুলি, বোমা ছোঁড়ে জামাত সমর্থকরা। ঘটনায় দুই সাংবাদিক সহ ২০ জন আহত হন। সীতাকুণ্ডে গাড়িতে আগুন লাগায় জামাত কর্মীরা। সুন্দরগঞ্জ, পেকুয়া, কুতুবদিয়া সহ বহু জায়গায় পরিস্থিতি সামলাতে একশো চুয়াল্লিশ ধারা জারি করেছে পুলিস। হিংসা ছড়ানোর পর জামাতপন্থীরা  মহিলা ও শিশুদের ঢাল হিসাবে  ব্যবহার করায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
 
দেশজুড়ে জামাতের হিংসার মধ্যেই শুক্রবার নতুন করে জনতার ঢল নামে শাহবাগে। রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্লোগান তুলে মিছিল করে স্বাধীনতা প্রজন্ম চত্ত্বরে আসে আন্দোলনকারীরা। সমাবেশ থেকে  জামাতের হরতাল প্রতিরোধের ডাক দেওয়া হয়। শনিবার, দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমনকি যানবাহনেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি নিয়েছে গণ-জাগরণ মঞ্চ। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশের ডাক দিয়েছেন শাহবাগের আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার, স্বাধীনতা প্রজন্ম চত্ত্বরের বাইরে মিরপুর, মতিঝিল ও রায়েরবাজারে অনুষ্ঠিত তিনটি সমাবেশেও ছিল লাখো মানুষের উপস্থিতি।