নতুন নেতাদের নাম ঘোষণা হল আনুষ্ঠানিক ভাবে চিনে

চিনে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হল নতুন নেতাদের নাম

চিনে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হল নতুন নেতাদের নামঅষ্টাদশ পার্টি কংগ্রেসের পর দল এবং দেশের পরবর্তী নেতৃত্বের নাম আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করল চিনের কমিউনিস্ট পার্টি। আগামী মার্চে হু জিনতাওয়ের পর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চিনের প্রেসিডেন্ট পদে বসবেন জি জিনপিং। ওয়েন জিয়াবাওয়ের জায়গায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হবেন লি কেকিয়াং। নতুন এই নেতৃত্বের হাতেই আগামী এক দশক এক দশক পরিচালিত হবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার এই দেশ।

পরিবর্তন হল প্রত্যাশা মতোই। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টাদশ কংগ্রেসের শেষ হওয়ার একদিন পর সারিবদ্ধ হয়ে এসে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন দলের নতুন নেতৃত্ব। নিয়ম মতো নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জি জিংপিং প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের উত্তরসূরী। দেশ পরিচালনায় তিনি সঙ্গী হিসেবে পাশে পাবেন প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংকে। আগামী মার্চেই পার্লামেন্টের বার্ষিক অধিবেশনের পর নতুন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বভার নেবেন। সাধারণ সম্পাদকের বিদায়ি ভাষণে দলে ভেতর দুর্নীতি ও আমলাতন্ত্র নিয়ে সতর্ক করেছিলেন হু জিনতাও। নতুন সাধারন সম্পাদক জি জিংপিংয়ের গলাতেও সেই আশঙ্কারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল। জানালেন, এই প্রবণতাকে কড়া হাতে মোকাবিলা করবে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি।

জি জিনপিং তাঁর ভাষণে বলেন, "পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পার্টির ভেতরেই আমাদের হয়তো আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হব। পার্টির ভেতরে দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিকতা বাড়তে দিলে জনগণের কাছ থেকে আমরা দূরে সরে যাব। দল সর্বশক্তি দিয়ে এই প্রবণতার মোকাবিলা করবে।"

বৃহস্পতিবারই প্রথম বৈঠকে বসে চিনের অষ্টাদশ পার্টি কংগ্রেসে নির্বাচিত নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি। সেখানেই ঠিক হয় পলিটব্যুরোর চব্বিশজন সদস্য এবং সর্ব্বোচ্চ নীতি নির্ধারক পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদের নাম। পলিটব্যুরোর এই স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরাই আগামী দিনগুলোতে চীনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গতিপথ ঠিক করে দেবেন। এবার এই কমিটির সদস্য সংখ্যা দুই জন কমিয়ে নয় থেকে সাতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এবারে সাধারণ সম্পাদকের পদের পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন জি লিংপিং।

গত এক দশকে হু জিনতাওয়ের আমলে চিন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে উঠে এসেছে। মাথা পিছু আয় বেড়েছে পাঁচ গুণ। বিশ্বজুড়ে মন্দা চললেও তা ছুঁতে পারেনি চিনের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে। দুর্নীতি মোকাবিলা করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সেই ধারা বজায় রাখাই চিনের নতুন নেতৃত্বের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





First Published: Friday, November 16, 2012, 16:46


comments powered by Disqus