ডুবছে কোস্টা কনকর্ডিয়া, জোর কদমে চলছে উদ্ধারকাজ

Last Updated: Sunday, January 15, 2012 - 16:37

টাইটানিকের স্মৃতিই উসকে দিল কোস্টা কনকর্ডিয়া। ১৯১২-র ১৫ এপ্রিলেরই পুনরাবৃত্তি হল ২০১২-র ১৩ জানুয়ারি। প্রায় এক শতকের ব্যবধান। অ্যাটলান্টিকের মহাসাগরের হিমবাহে ধাক্কা লেগে ডুবে গিয়েছিল প্রাসাদপম টাইটানিক। বালির চরে ধাক্কা লেগে সলিল সমাধি হতে চলেছে ইতালির বিলাসবহুল জাহাজ কোস্টা কনকর্ডিয়া। জোর কদমে চলছে উদ্ধার কাজ। শুক্রবার ঘটনার পর কেটে গিয়েছে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়। শেষ পাওয়া খবর, রবিবার ভোরের দিকে ডুবন্ত জাহাজটির কেবিন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩জন জীবিত যাত্রীকে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার ২ যুবক-যুবতী। জাহাজের কিছু কর্মী কেবিনে আহত অবস্থায় আটকে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন উদ্ধারকারী দলের অফিসাররা। উদ্ধারকারী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্ধেক ডুবে যাওয়া জাহাজটিতে উদ্ধারকাজ চালানোর সময় কেবিনের ২টি ডেক থেকে আর্তনাদ শুনতে পায় তারা। সেই শব্দ শুনেই ৩ জন যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। ইতালি সরকার সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৩, আহতের সংখ্যা ৩০। ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৪০ জন যাত্রী এখনও নিখোঁজ। মৃতদের মধ্যে ১জন জাহাজটির কর্মী, ২জন ফরাসি যাত্রী। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাহাজটির ক্যাপ্টেনকে আটক করেছে ইতালি পুলিস।
ঠিক কী হয়েছিল শুক্রবার রাতে? তখন সন্ধে। রোমের ক্রুস ছেড়ে এগিয়ে চলেছে বিলাসবহুল জাহাজ কোস্টা কনকর্ডিয়া। ঘণ্টা খানেক কেটে গিয়েছে। টিরেনিয়ান সাগরের মাঝে বিলাসবহুল জাহাজটিতে তখন চলছে নৈশভোজের পার্টি। বাইরে কনকনে ঠান্ডা। জাহাজটির যাত্রী লুসিয়ানো কাস্ত্রো জানান, নৈশভোজের পার্টি চলাকালীনই হঠাত্ই একটা জোর শব্দ হয়। বোঝা যায় কিছু একটায় ধাক্কা মেরেছে জাহাজ। এরপরই হু-হু করে জল ঢুকতে শুরু করে জাহাজটিতে। হেলতে থাকে কোস্টা কনকর্ডিয়া। বহু যাত্রীই ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ঝাঁপ দেন হাড়হিম করা জলে। বেশ কয়েকজন সাঁতরে কাছের সমুদ্রতটে পৌঁছে যান। যুদ্ধকালীন তত্পরতায় শুরু হয়ে যায় উদ্ধার কাজ। ব্যবহার করা হয় লাইফ বোট, হেলিকপ্টার। প্রত্যেক ১৫০ জন যাত্রীর জন্য ছিল একটি করে লাইফ বোট। ইতালি প্রশাসন জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ৪,২০০ জনকে। যার মধ্যে ৩,২০০ যাত্রী ও ১,০০০ জাহাজের কর্মী। তাঁদেরকে স্থানীয় স্কুলবাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে রয়েছে ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্সের নাগরিক।

পুলিসের বক্তব্য, প্রাথমিক ভাবে বালির চড়ে ধাক্কা লেগেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমাণ করা হলেও, বড় পাথরে ধাক্কা লাগার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। টাইটানিক ডুবে যাওয়ায় মারা গিয়েছিলেন প্রায় ১,৫০০ যাত্রী। বেশির ভাগই মারা গিয়েছিল অ্যাটলান্টিকের কনকনে ঠান্ডা জলে জমে গিয়ে। তবে উন্নত প্রযুক্তি ও উদ্ধারকারী দলের তত্পরতায় কোস্টা কনকর্ডিয়ার ক্ষেত্রে সেই মৃত্যু মিছিল এড়ানো গিয়েছে। কোস্টা কনকর্ডিয়া জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৯৫২ ফুট। বিলাসবহুল এই জাহাজটিতে ঘরের সংখ্যা ১,৫০০টি। ৫৫টি ব্যালকনি। স্পা, জিম, সুইমিং পুল, লাক্সারি হল। ছোটদের জন্যও আলাদা জায়গা। কচিকাঁচাদের মনোরঞ্জনের জন্য ভিডিও গেম থেকে শুরু করে বাচ্চাদের দামি দামি খেলনা। ছিল ইন্টারনেট ক্যাফেও। এক কথায় ডুবন্ত কোস্টা কনকর্ডিয়া ছিল বিলাসের শেষ কথা।



First Published: Sunday, January 15, 2012 - 16:37


comments powered by Disqus