শিলার বাঁধন থেকে মুক্ত পেল `দৈত্য জাহাজ`- কোস্টা কনকরডিয়া উদ্ধারে সাফল্য

Last Updated: Monday, September 16, 2013 - 17:46

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ উদ্ধার অভিযানে সাফল্য মিলল। ইতালির গিগিলিও দ্বীপের কাছে ডুবে যাওয়া কোস্টা কনকরডিয়াকে শিলার বাঁধন থেকে মুক্ত করে ফেললেন উদ্ধারকারীরা। ডুবে যাওয়ার পর `দৈত্য জাহাজ `'কোস্টা কনকরডিয়া`কে এমনভাবে জড়িয়ে ধরেছিল পাশের শিলা, পাহাড়রা যাতে উদ্ধারকারীদের প্রায় নাকানিচোবানি খেতে হচ্ছিল।
ডুবে যাওয়ার ২০ মাস পর অবশেষে সেই শিলার বন্ধন থেকে মুক্ত পেল কোস্টা কনকরডিয়া। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। তবে এখনও অনেক কাজ বাকি বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী দলের প্রধান।
`কোস্টা কনকরডিয়া`ওজন প্রায় সাড়ে এগারো হাজার টন। লম্বায় তিনটে ফুটবল মাঠের সমান। আর সেই পেল্লাই জাহাজকেই এবার জল থেকে তোলার কাজ শুরু হল ইতালিতে। জলের তলায় থাকা পাথরের ধাক্কায় টুসকান দ্বীপের কাছে কাত হয়ে যায় প্রমোদতরী কনকর্ডিয়া।
কীভাবে তোলা যাবে প্রায় সাড়ে এগারো হাজার টনের প্রমোদতরীকে? লম্বায় যা তিনটি ফুটবল মাঠের সমান। আর জলের তলার পাথরে ধাক্কা খেয়ে সেই জাহাজই ডুবেছে কাত হয়ে। খাড়াই সমুদ্রতটের গায়ে হেলান দিয়ে শুয়ে রয়েছে কনকর্ডিয়া। আর এটাই সবথেকে বেশি চিন্তায় ফেলেছে ইঞ্জিনিয়রদের। চেন বেঁধে, কপিকল লাগিয়ে কাজটা শুরু হয়ে গিয়েছে অনেকদিন আগেই। কিন্তু, বিপুলায়তন জাহাজকে নড়ানোই যায়নি।
 
শেষপর্যন্ত নেওয়া হল পারবাকলিংয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য।
 
ডুবে থাকা জাহাজের নীচে প্রথমেই একটা পাটাতন বসিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ররা। আর জাহাজের যে অংশটা ভেসে রয়েছে সেখানে ফাঁপা ধাতব বাক্স লাগিয়ে দিয়েছেন।
 
চেন দিয়ে বাঁধা জাহাজ ধরে টান দেওয়া মাত্রই শুরু হয়ে যায় ধাতব বাক্সগুলিতে জল ভরার কাজ। আর তাতেই নড়েচড়ে ওঠে কনকর্ডিয়া।
 
চেনের টান আর বাক্সের ওজনেই কাজ হতে শুরু করে ম্যাজিকের মতো। জাহাজ একটু সোজা হতেই ধাতব বাক্স থেকে জল বের করে দেওয়া হয়েছে। আর তাতেই প্লাবতা পেতে শুরু করে কনকর্ডিয়া।
 
কিন্তু, এই কাজেও নেহাত কম বাধার মুখে পড়তে হয়নি ইঞ্জিনিয়রদের। টুসকান দ্বীপের খাড়াই উপকূল, খেয়ালি আবহাওয়া--- সবমিলিয়ে হাজারো প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। এখানেই শেষ না। শরতের মেঘ আকাশের কোণায় উঁকি দেওয়ার আগেই তুলে ফেলতে হবে কনকর্ডিয়াকে। কারণ, ওই মেঘই নাকি ডেকে আনতে পারে সামুদ্রিক ঝড়কে। সেই আশঙ্কা যে এক্কেবারে অমূলক নয়, সেই প্রমাণ রবিবার রাতেই পেয়ে গিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ররা। টানা দু ঘণ্টা চলে ঝড়বৃষ্টি।
 
তবে, আশার কথা। সোমবার সকাল থেকেই ফের দেখা গিয়েছে ঝলমলে রোদ। আর তারপরেই জোরকদমে শুরু হয়ে যায় কনকর্ডিয়াকে তোলার কাজ।
 
টুসকান দ্বীপে পাহাড়ের গায়ে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম। কাজ শুরু হতেই রিমোট কন্ট্রোলে যেতে শুরু করে যাবতীয় নির্দেশিকা। আর তাতেই একটু একটু করে জল থেকে মাথা তুলতে শুরু করে কনকর্ডিয়া।
 
কিন্তু, কেন এত তাড়াহুড়ো করে তোলার প্রয়োজন হল এই জাহাজকে? প্রথমত দুর্ঘটনার তদন্তের কাজ এগনোর জন্য কনকর্ডিয়ার ডাঙায় ওঠা অত্যন্ত জরুরি।
 
দ্বিতীয়ত টুসকান দ্বীপের পর্যটন শিল্পের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে ইতালির অর্থনীতি। পাহাড়ের গা ধরে নেমে এসে কোনও পর্যটকই আর আধডোবা জাহাজের কঙ্কাল দেখতে রাজি নন।
 
আর সব থেকে বড় কথা। দুর্ঘটনার পর থেকে কার্যত থমকে গিয়েছিল গিগলিও বন্দরের যাবতীয় কাজ। কনকর্ডিয়াকে জল থেকে তুলে সেই কাজটাই এবার চালু করতে চায় প্রশাসন। ইতিমধ্যেই কনকর্ডিয়াকে জল থেকে তুলতে ষাট কোটি ইউরো খরচকরে ফেলেছে ইতালি। প্রমোদতরী ডাঙায় উঠলে আরও একবার হবে খরচের হিসেবনিকেশ।
জাহাজের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে নিলামে তুলে আবার নতুন করে শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
২০১২ সালের ১৩ জানুয়ারি কোস্টা কনকরডিয়া নামের জাহাজটি গিগলিও দ্বীপের নিকটবর্তী সমুদ্রে একটি বালির স্তুপে আঘাত করলে তা উল্টে যায়। প্রায় ৪০০০ জন যাত্রী ও কর্মী ছিলেন জাহাজটিতে। জাহাজডুবিতে মারা যান প্রায় ৩২ জন।



First Published: Monday, September 16, 2013 - 18:14


comments powered by Disqus
Live Streaming of Lalbaugcha Raja