রানিতন্ত্রের ৬০ বছর

Update: June 3, 2012 22:19 IST

গোটা টেমস নদী জুড়ে যেন রঙের সমারোহ। সার দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে একহাজারটা ছোট ছোট নৌকো। আর সেই হাজার নৌকার সমারোহ দেখতেই টেমসের দুই পারে ভীড় জমিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

রানি এলিজাবেথের সিংহাসনে আরোহণের হীরকজয়ন্তী উত্‍সবের শুরুতে এভাবেই সেজে উঠল ব্রিটেন।

বিশ্বযুদ্ধের রেশ তখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইউরোপ। আয়তনের কিছুটা কমে এলেও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য তখনও অনেকটাই উজ্জ্বল। সময়টা দোসরা জুন, উনিশশো তিপ্পান্ন। ইতিহাসের সেই সন্ধিক্ষণে ব্রিটেনের সিংহাসনে অভিষেক হয়েছিল রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের।

তারপর ষাটটি বসন্ত পার করে এসেছেন রানী। এবারে সেই অভিষেকের ষাটবছরে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতেছে গোটা দেশ। রবিবার টেমসে হাজার নৌকার পালের মাঝেই সোনার পাতে মোড়া বজরায় পরিবার আর ঘনিষ্ঠদের নিয়ে সওয়ার রানি এলিজাবেথ। দশহাজার ফুলে সজ্জিত সেই বজরায় রানির সঙ্গেই হাজির ছিলেন এডিনবোরার ডিউক আর ডাচেস অব কেমব্রিজের মতো রাজবংশের প্রতিনিধিরা।

চারদিন ধরে রানির অভিষেকের হীরকজয়ন্তীর উত্‍সব শুরু হয়ে গিয়েছে শনিবার থেকেই। দুদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করে দিয়েছে ক্যামেরন প্রশাসন। ইংল্যান্ডের রাস্তায় রাস্তায় আয়োজন করা হয়েছে রোড পার্টির। এমনই একটি পার্টিতে হাজির হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন প্রিন্স চার্লস। সোমবার বাকিংহাম প্যালেসের বাগানে বসবে সমারোহ। আতসবাজির মাঝেই আয়োজন করা হবে এক মহা সঙ্গীত সমারোহের। যেখানে স্যার পল ম্যাকার্টনির সুর নতুন বসন্তকে মনে করিয়ে দেবে ছিয়াশির রানিকে।






Post Your Comment

Total Comments:1

This is most irresponsible activity. People are suffering - queen and her gangs are enjoying at the cost of people. This is horrible and punishable acts. People are protesting in the streets but who cares! The days are not far, when these queens & kings will be thrown. We are all waiting for that HISTORICAL MOMENT.Actually the world is divided vertically in 2 parts - HAVE & HAVE-NOTS.The fight amongst them are continuing in different forms since long and it will continue ... Let wait for the CHANGE.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।