প্রবল চাপের মুখে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সীমা ঘোষণা করল মিশর

প্রবল আন্দোলনের মুখে পড়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সীমা ঘোষণা করতে বাধ্য হল মিশরের সামরিক প্রশাসন। আগামী বছরের জুলাই মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হয়ে ক্ষমতা অসামরিক প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার একথা ঘোষণা করেছেন সামরিক কাউন্সিলের প্রধান হুসেইন তান্তাওয়াই।

Updated: Nov 23, 2011, 10:25 AM IST

প্রবল আন্দোলনের মুখে পড়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সীমা ঘোষণা করতে বাধ্য হল মিশরের সামরিক প্রশাসন। আগামী বছরের জুলাই মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হয়ে ক্ষমতা অসামরিক প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার একথা ঘোষণা করেছেন সামরিক কাউন্সিলের প্রধান হুসেইন তান্তাওয়াই। এদিকে, গত শনিবার থেকে ক্ষমতাসীন সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিল বিরোধী আন্দোলনে এখনও পর্যন্ত কায়রোয় কমপক্ষে ছত্রিশজনের মৃত্যু হয়েছে। চারদিনের হিংসাত্মক আন্দোলন। আর তাতেই কার্যত কেঁপে উঠল মিশরের ক্ষমতাশীন সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিলের ভিত। তড়িঘড়ি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হওয়ার সময় ঘোষণা করতে বাধ্য হল সামরিক কাউন্সিলের প্রধান। আগামী বছরের জুলাই মাসের মধ্যেই শেষ হবে ভোট। জন আন্দোলনের চাপে এখানেই থেমে থাকেননি সামরিক কাউন্সিলের প্রধান। মানুষ চাইলে ক্ষমতা থেকে সরে যেতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তিনি। একই সঙ্গে এসাম শরাফ মন্ত্রিসভার পদত্যাগও গৃহীত হয়েছে। তবে, নতুন সরকার গঠনের আগে পর্যন্ত এই মন্ত্রিসভা কার্যকরী থাকবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন কাউন্সিল প্রধান হুসেইন তান্তাউই। গত ফেব্রুয়ারিতে হোসনি মুবারককে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের লাগাম নিজের হাতে নেন ফিল্ড মার্শাল তান্তাউই। সেই সময় থেকেই দানা বাঁধতে শুরু করে অসন্তোষ। আর তা তীব্র চেহারা নেয় গত শনিবার থেকে। গণ বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে কায়রোর রাজপথে। ক্ষমতাসীন সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিলের বিরুদ্ধে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন মিশরবাসী। হিংসাশ্রয়ী বিক্ষোভে প্রাণ হারান বহু মানুষ। চাপে পড়ে প্রাক্তন আইএইএ প্রধান মহম্মদ এল বরাদেইকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ করার উদ্যোগ নেয় সেনা কাউন্সিল। কিন্তু, তাতেও পরিস্থিতি কোনওভাবেই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। উত্তাল হয়ে ওঠে তাহরির স্কোয়ার। মিশরের জনতা আগামী আঠাশে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেরও বিরোধিতা করেছে। হোসনি মুবারক জমানা পরবর্তী প্রথম নির্বাচনকে বানচাল করতে মিলিয়ন মার্চের ডাক দিয়েছেন তারা। পাশে দাঁড়িয়েছে মুসলিম ভাতৃত্ব। সামরিক শাসন শেষ করে দ্রুত সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে আলোচনাতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে মুসলিম ভাতৃত্ব। সামরিক কাউন্সিল অবশ্য জানিয়েছে, ভোট হবে নির্ধারিত সূচি মেনেই। ফলে, অশান্তির আগুন দ্রুত নেভার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।