মঙ্গল গ্রহ অভিযানে ব্যর্থ রাশিয়ার ফোবোস গ্রান্ট

ব্যর্থতার পর মহাপতনের অপেক্ষায় মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোস গ্রান্ট। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা ১৪ থেকে ১৬ জানুয়ারির মধ্যে ভারত মহাসাগরে আছড়ে পড়তে পারে ১৩.৫ টনের মহাকাশযানটি।

Updated: Jan 15, 2012, 08:24 PM IST

ব্যর্থতার পর মহাপতনের অপেক্ষায় মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোস গ্রান্ট। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা ১৪ থেকে ১৬ জানুয়ারির মধ্যে ভারত মহাসাগরে আছড়ে পড়তে পারে ১৩.৫ টনের মহাকাশযানটি।
ফোবোস গ্রান্ট প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল ১৯৯৯ সালে রাশিয়ান স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও এন পি ও লাভোচকিনের যৌথ উদ্যেগে। ফোবোস গ্রান্ট চিনের মঙ্গল অরবিটার yinghuo-1 এবং প্ল্যানেটারি সোসাইটির লিভিং ইন্টার প্ল্যানেটারি ফ্লাইট এক্সপেরিমেন্ট মহাকাশযানকেও বহন করত। নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতেআনতে গত বছরের ৯ নভেম্বর যানটিকে মহাকাশে পাঠিয়েছিল রুশ মহাকাশ সংস্থা রসকসমস। কিন্তু পৃথিবীর অভিকর্ষরেখা অতিক্রম করেই পথ হারায় মহাকাশযানটি। প্রয়োজনীয় পরিমাণ টক্সিক ফুয়েল থাকা সত্ত্বেও সমস্যা দেখা দেয় যানটিতে। ফোবোসকে মঙ্গলে পাঠানোর জন্য রসকসমস ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের যৌথ প্রচেষ্টাও সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়। তারপর থেকে উদ্দেশহীন ভাবে নীল গ্রহের চারিদিকে ঘুরছিল ফোবোস গ্রান্ট। লালগ্রহের উদ্দেশে পাঠানো ফোবোস নিজের কক্ষপথে পৃথিবীর চারিদিকে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গিয়ে তার যাত্রা শেষ করে। তখন থেকেই ঠিক কোথায় এবং কখন আছড়ে পড়তে পারে মহাকাশযানটি সেই নিয়ে অনুমান শুরু করেন রুশ বিজ্ঞানীরা। নাসার বিজ্ঞানী নিকোলাস জনসনের মন্তব্য রাশিয়ার মহাকাশযানগুলো অপেক্ষাকৃত কঠিন ধাতু টিটানিয়ামের পরিবর্তে অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি হয়, সেই কারণে গলে যাওয়া
প্রবণতা ও বায়ুমণ্ডলে ভস্মীভূত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

নভোশ্চরহীন এই মহাকাশযানটির সঙ্গে এখনও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। ভারত মহাসাগরের ওপর আছড়ে পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা, এবং কয়েকটি টুকরো পৃথিবীর বুকেও আছড়ে পড়তে পারে বলেই তাঁদের অনুমান। পৃথিবীর ওপর আছড়ে না পড়ে মহাকাশযানটি বায়ুমণ্ডলের স্তরেও ভস্মীভূত হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন রসকসমস মহাকাশ সংস্থার প্রধান ভ্লাদিমির পোপভকিন। তাঁর মতে মঙ্গল গ্রহ অভিযানে এই ব্যর্থতার জন্য রুশ মহাকাশ সংস্থাকে দায়ী করবে অন্যান্য মহাকাশ সংস্থাগুলি।