ঈশ্বর কণার দখলে মর্তের সর্বোচ্চ সম্মান

Last Updated: Tuesday, October 8, 2013 - 20:25

প্রত্যাশা মতোই নোবেল জয় করল হিগস-বোসন ওরফে ঈশ্বর-কণা। গতবছর জেনিভার সার্ন গবেষণাগারে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার যন্ত্রে শনাক্ত হয়েছিল সেই কণার অস্তিত্ব, যার ধারণা প্রথম দিয়েছিলেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। যে কণা না থাকলে, বিশ্বব্রম্ভান্ডে বস্তু হত ভরহীন। থাকত না গ্রহ-নক্ষত্র, পাহাড়-পর্বত এমনকি মানুষও। পিটার হিগস ও ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলার্ট শুধুমাত্র গণিত নির্ভর কণার অস্তিত্ব দাবি করেছিলেন। মঙ্গলবার দুই বিজ্ঞানীকে নোবেল পুরষ্কারে সম্মানিত করা হল। কিন্তু উপেক্ষিত থেকে গেলেন সার্নের বিজ্ঞানীরা।
পদার্থবিদ্যায় সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে বড় সাফল্য। গতবছর চৌঠা জুলাই সার্নের লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব প্রমাণকে এই ভাষাতেই কুর্নিস জানিয়েছিল বিজ্ঞানী মহল।
১৯৬০-এ, পিটার হিগস, ফ্রান্সোয়া এঙ্গলার্ট সহ একদল কণাতত্ত্ববিদ একটি মডেল প্রস্তাব করেন। সেই মডেলে কিছু প্রাথমিক কণার ভরের উত্স ব্যাখা করা হয়েছিল। মডেলে একটি কণার কথা বলা হয়, যার নাম হিগস-বোসন। বোসন নাম এসেছিল বাঙালি পদার্থবিদ সত্যন্দ্রনাথ বোসের থেকে। ভর তৈরির ক্ষেত্রে এরকম কণার অস্বস্তিতের ধারণা প্রথম করেছিলেন বাঙালি পদার্থবিদ সত্যেন্দ্রনাথ বোস।
পদার্থবিদ্যার তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সবকিছুই ভর পেয়েছে হিগস-বোসন কণার মাধ্যমে। পরবর্তীকালে সেকারণে এই কণার নাম হয় ঈশ্বর-কণা।তত্ত্বের সেই হিগস-বোসন কণা যে বাস্তবেও রয়েছে ২০১২-য় তার প্রমাণ পাওয়া যায় ইউরোপের সার্ন গবেষণাগারে।
জেনিভার ইউরোপীয় পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র সার্নে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে বিগ ব্যাংয়ের মিনি সংস্করণ তৈরি করে ঈশ্বর কণা পাওয়ার ঘোষণা করেন বিজ্ঞানীরা। এই হিগস বোসন কণার ধারণা দেওয়ার জন্যই চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করা হল পিটার হিগস ও ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলার্টকে।
পুরস্কারের অর্থমূল্য ১২ লক্ষ ডলার ভাগ করে নেবেন পিটার হিগস ও ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলার্ট। এঙ্গলার্ট বর্তমানে ব্লাসেলস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত। পিটার হিগস পদার্থবিদ্যার এমিরেটাস অধ্যাপক হিসাবে যুক্ত রয়েছেন এডিনবারা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আগামী দশই ডিসেম্বর স্টকহোমে দুই বিজ্ঞানীর হাতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।



First Published: Tuesday, October 8, 2013 - 20:25


comments powered by Disqus