পাকিস্তানে তালিবান হামলা, নিহত ৯ পুলিশ কর্মী

Update: July 12, 2012 18:06 IST

অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকবাজদের গুলিতে নিহত ৯ পুলিশ কর্মী! আজ ভোররাতে পাকিস্তানের লাহোরের ঘটনাটি ঘটে। কয়েকদিন আগেই ইসলামাবাদ আফগানিস্তানে মোতায়েন ন্যাটো বাহিনীর রসদ সরবরাহ পথ খুলে দিতে সম্মত হয়। ঠিক তার পর পরই দ্বিতীয়বারের এই হামলা তালিবানের। এর অগে গত সোমবার তালিবানিরা ঠিক এই ধরনের আক্রমণ ঘটায় পঞ্জাব প্রদেশের এক সামরিক শিবিরে।

আগামী নির্বাচনের আগে সবচেয়ে জনবহুল এই প্রদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করাই তালিবানিদের মুল লক্ষ্য। হ্যান্ড গ্রেনেড ও কালাশনিকভ রাইফেল নিয়ে বাইক ও গাড়িতে চেপে এসেছিল আক্রমণকারীরা বলে জানিয়েছেন পঞ্জাব পুলিশের কর্তা হাবিবুর রহমান।
ঘটনায় জীবিত এক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, `ভোররাতে ঘটা এই ঘটনার আকস্মিকতায় আমরা হকচকিয়ে যাই, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের কয়েকজন রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।` ২৩ বছর বয়সী মহম্মদ রিজওয়ান শাহ নামে আহত ওই পুলিশকর্মী জানায় `আমরা ১৫ জন শুয়েছিলাম বাড়ির ছাদে, হঠাত্‍ই নীচ থেকে গুলির আওয়াজ শুনতে পাই। কয়েকজন কী হয়েছে দেখার জন্য নীচে যেতেই গুলিতে কেউ মারা যায়, আহত হয় কেউ কেউ। আমি ও কয়েকজন প্রাণের ভয়ে পাশের বাড়িতে ঝাঁপ লাগাই`। রিজওয়ান আরো জানায় প্রায় ৬ সপ্তাহ আগে তারা ওই জেলে এসেছিল প্রশিক্ষণ নিতে। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ওই বাড়িতেই তালিবানীরা এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ঘটনার জেরে ৯ জনের মতো আহত হয়েছেন।

তালিবানী এক গোষ্ঠীর দাবী, এই হত্যাকান্ডের পেছনে রয়েছে তারাই। গত সোমবারের ঘটনার ধাঁচেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটানো হবে। যতদিন না পর্যন্ত পাকিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালিবানদের উপর যৌথ বিমান হানার প্রক্রিয়া বন্ধ না করছে ততদিন এভাবে আরও হামলা চালানোর হুমকিও দিয়েছে তালিবানরা। এর আগেও ২০০৯ সালে লাহোরের গদ্দাফি ষ্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের উপর হামলা ও ২০১০-এ লাহোরের অনতিদূরে মানওয়ান পুলিস অ্যাকাডেমিতে আল-কায়দা-তালিবানি যৌথ হামলার ঘটনাও ঘটেছে। যার জেরে প্রাণ হারান কয়েকশো নিরীহ মানুষ।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।